Home » উত্তপ্ত বারাসাত : গরুপাচারকারীদের পাকড়াও করে গণপ্রহার, মৃত-পশু সহ জাতীয় সড়ক অবরোধ, পুলিশের বিরুদ্ধে লাগামছাড়া ক্ষোভ

উত্তপ্ত বারাসাত : গরুপাচারকারীদের পাকড়াও করে গণপ্রহার, মৃত-পশু সহ জাতীয় সড়ক অবরোধ, পুলিশের বিরুদ্ধে লাগামছাড়া ক্ষোভ

Oplus_131072

দীপ সেন ও পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা, ৯ জানুয়ারি : যে আশঙ্কা ও যা অভিযোগ করে চলেছিল বারাসাতের  সাধারণ মানুষ, শেষ পর্যন্ত তা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি প্রমাণিত হল। গরুপাচার চক্র ঘিরে বারাসাতের আইনশৃঙ্খলা যেন কিছুক্ষণের জন্য ভেঙে পড়ল। বৃহস্পতিবার বারাসাতে শীতের রাত যেন সাক্ষী থাকল, গরুপাচার চক্র বা ৱ্যাকেট দিব্যি সক্রিয় বারাসাতে। অন্য এলাকা থেকে বেপাড়ায় এসে দিব্যি গৃহপালিত গরু মেরে বা মরা গরু পাচার করার অভিযোগ থাকলেও হাতেনাতে ধরা যাচ্ছিল না গরু পাচারকারীদের। বারাসাত শহরের বুকে গরু পাচার চক্রের রমরমা-র কথা উঠলেও বারাসাত শহর কেন্দ্রিক দুটি পুলিশ থানা (বারাসাত থানা ও দত্তপুকুর থানা) শীতঘুমে ছিল বলে অভিযোগ। অভিযোগ, অবস্থা এমনটাই দাঁড়িয়েছে যে, এখন অপরাধীদের ধরে ডেকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে। আরও অভিযোগ, পুলিশ অতঃপর তাদের জামাই আদর করে ছেড়ে দেবে। অভিযোগ বারাসাত শহরের একটি বিরাট অংশের  বাসিন্দাদের। তাদের তীব্র ক্ষোভ মূলত দত্তপুকুর থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে থেকে রাতভর চলল গরু পাচারকারী পাকড়াও, পাচারকারীকে গণপ্রহার, গরু উদ্ধার, পুলিশকে লক্ষ্য করে ক্ষোভ- বিক্ষোভ, জাতীয় সড়কে গৃহপালিত পশুর মৃতদেহ রেখে পথ অবরোধ। বারাসাতে শীতের রাত হয়ে উঠলে উত্তপ্ত।

অবশেষে, বারাসাতের নেতাজি পল্লীতে স্থানীয় মানুষদের তৎপরতায় গরু পাচারকারীদের পর্দাফাঁস।  শহরেরই কাজীপাড়ার দুই দুষ্কৃতী মৃত গরু সমেত পাকড়াও। উত্তেজিত জনতা পুলিশের হাত থেকে দুষ্কৃতীদের ছিনিয়ে গণপিটুনি দেয়।এদিন পুলিশি ব্যর্থতায়  ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় জনতা। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে, দোষীদের উপযুক্ত বিচার এবং এই চক্রের অন্যদের খুঁজে বার করার দাবি জানিয়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে ( সাবেক ৩৪ নং জাতীয় সড়ক ) গৃহপালিত পশুর মৃতদেহ রেখে চলে পথ-অবরোধ। দীর্ঘক্ষণ ধরে স্তব্ধ হয়ে যায় যানচলাচল।

  কয়েকদিন ধরেই  উত্তেজনা বাড়ছিল নেতাজি পল্লী এলাকায়। এলাকা থেকে রহস্যময় ভাবে নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছিল একের পর এক গরু।  বৃহস্পতিবার একই কাণ্ড ঘটলে -সন্ধ্যায় এলাকাবাসীদের একাংশ নিখোঁজ গরু খুঁজতে উদ্যোগী হয়। খোঁজাখুঁজি করতে করতে বারাসাত কালীবাড়ি এলাকার একটি মাঠে পৌঁছলে তারা দেখতে পান,  বেশ কয়েকজন যুবক মিলে নিস্তব্ধে একটি গরুর মৃতদেহ গাড়িতে তোলার চেষ্টা করছে। সে সময় তাদের আটকাতে গেলে গাড়ি নিয়ে বেশ কয়েকজন পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীদের হাতে ধরা পড়ে দুজন। পুলিশ এলে পুলিশের গাড়ি আটক করে চলে দীর্ঘক্ষণ যাবৎ বিক্ষোভ।

    নিখোঁজ গরু মালিকদের মধ্যে একজন দাবি করেন, এদিন মৃত অবস্থায় পাওয়া অন্তঃসত্ত্বা গরুটি তার। বিষ খাইয়ে সন্তানসম্ভবা গরুটিকে হত্যা করে পাচার করার চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ।  ধৃত দুই যুবককে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করলে তারা বলে ৩০০ টাকার বিনিময়ে এই মরা গরুটি নিয়ে যেতে এসেছিলেন তারা। বাকিরা কোথায় তা তারা বলতে পারেনি। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দেখা দেয়  দত্তপুকুর থানার পুলিশ। এসে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথাবার্তা না বলে অভিযুক্ত দুই যুবককে স্রেফ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যেতে গেলে বিপত্তি বাড়ে। পুলিশের গাড়ি আটকেও শুরু হয় বিক্ষোভ।এলাকাবাসীদের দাবি, এই গরু পাচার চক্রটি বেশ বড় যারা বিষ খাইয়ে গৃহপালিত গরুগুলিকে মেরে ফেলে পাচার করছে। পুলিশ ঠুঁটো জগন্নাথ, তাদের উপরে আস্থা নেই – এমনতর অভিযোগ তুলে পুলিশের গাড়ি থেকে অভিযুক্তদের নামিয়ে এনে চলে মারধর। কোনক্রমে তাদের রক্ষা করা গেলেও  বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের শাস্তি ও বিচারের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে। মৃত গৃহপালিত গরুটির মরদেহ রাস্তায় রেখেই টায়ার জ্বালিয়ে চলে বিক্ষোভ। ঘন্টাখানেকের অবরোধের পর এসে পৌঁছয় ঘটনাস্থলে এসডিপিও বারাসাত নেতৃত্বাধীন বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশী আশ্বাসে প্রায় এক ঘন্টা পর তুলে নেওয়া হয় অবরোধ। পুলিশের পক্ষ থেকে গরুটির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ময়নাতদন্তের জন্য বারাসাত পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক ২ পাচারকারীর নাম নাজমুল হোসেন ও নিজামুদ্দিন। বারাসাত কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা তারা। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তবুও জনতার ক্ষোভ যাচ্ছে না। তাদের প্রশ্ন,  শহরের বুকে একটা বিরাট গরু পাচার চক্র সক্রিয়, তারা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে, মরা গরু নিয়ে পাচার করছে অথচ পুলিশের কাছে খবর নেই?  পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তা কি আশ্চর্যজনক নয়? পুলিশ প্রশাসনের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চান বারাসাতের ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।।

About Post Author