Home » ফুটবলার ইলিয়াস পাশা প্রয়াত : প্রাপ্য সম্মান পেয়েছেন কি তিনি?

ফুটবলার ইলিয়াস পাশা প্রয়াত : প্রাপ্য সম্মান পেয়েছেন কি তিনি?

Oplus_131072

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ জানুয়ারি : ইতিহাসে অনেক কিছু লেখা থাকে না। যুদ্ধে অনেক সৈনিকের সংগ্রাম লেখা থাকে না। ফুটবল ময়দানের ইতিহাসে অনেক ফুটবল যোদ্ধার লড়াই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে লেখা থাকে না। ভারতীয় ফুটবলেও  সবিস্তারে হয়তো লেখা নেই ইলিয়াস পাশার নাম। তবে আশির দশকের শেষে বা নব্বই দশকের শুরুতে যারা কলকাতা মাঠে যেতেন, ভারতীয় ফুটবলের খবর রাখতেন তাঁরা ভুলতে পারবেন না ভারতের প্রাক্তন ডিফেন্ডার ইলিয়াস পাশাকে।প্রয়াত হলেন ইলিয়াস পাশা। খুব বেশি দিনের কথা নয়, তিন দশক আগেও মাঠ কাঁপাতেন ইলিয়াস পাশা। তবে প্রশ্ন থাকবে, কতটা সমাদর, কদর পেয়েছেন অসামান্য কুশলী এই ফুটবলার! ময়দান কতটা মনে রেখেছে তাঁকে!

   এনিয়ে গবেষণা করা বাহুল্য যে, একটা সময়  ইস্টবেঙ্গলের রাইট ব্যাক পজিসনে তিনি ছিলেন স্তম্ভ। ভারতীয় দলের হয়েও বিক্ষিপ্ত ভাবে খেলেছেন, তবে ইস্টবেঙ্গলের হয়েই কাটিয়েছেন তাঁর সোনালী সময়।  ৯৩-৯৪ সালে ইস্টবেঙ্গল দলের অধিনায়ক ছিলেন টানা কয়েকবছর লাল হলুদ জার্সিতে উজ্জ্বল ইলিয়াস পাশা। ক্লাব ফুটবল এবং সন্তোষ ট্রফিতে কর্নাটকের ফুটবল মহলে ছাপ ফেলেন, বড় ক্লাবের নজরে পড়েন।  কর্ণাটক থেকে সেসময় ভারতীয় ফুটবলের মক্কা কলকাতায় এসে মহামেডানে যোগ দিলেও তিনি এবং রহমতুল্লা বছরখানেক পরেই মহামেডান থেকে  ইস্টবেঙ্গলে যোগ দেন। প্রসঙ্গত, কিছুকিছু যুগল ফুটবলারের নাম ময়দানে জুটি হিসেবে একযোগে উচ্চারিত হয়েছে বিভিন্ন সময়।  যেমন, মজিদ- জামশিদ, কৃশানু- বিকাশ, ক্রিস্টোফার- চিবুজার, ভাস্কর-মনোরঞ্জন, বাইচুং-সোসো,বিজয়ন- আনচেরি। পরবর্তীতে এঁদের অনেকেরই জুটি ভেঙে গিয়েছে। তবে ডিপ ডিফেন্সে স্টপার পজিশনে রহমতুল্লা এবং সাইড ব্যাকে ইলিয়াস পাশা জুটি বেঁধে ইস্টবেঙ্গলকে বিগত শতকের শেষ দশকে কয়েকটা বছর  বহু ম্যাচে অসামান্য নির্ভরতা দিয়েছেন।

ইলিয়াস পাশার ফুটবল সেন্স প্রখর ছিল। সেফ ফুটবল এবং উঁচু বলে হেডিং দক্ষতার জন্য দলের একান্ত প্রয়োজনে মেক শিফট স্টপার হিসেবেও একাধিক ম্যাচে তাঁকে ব্যবহার করাতে পেরেছেন কোচেরা। ভারসাটাইল ফুটবলার ইলিয়াস পাশা উইং দিয়ে দলের আক্রমণভাগকে সাহায্য করতেন প্রায়শ। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে সেসময় দেশের প্রথম সারির সব ধরনের টুর্নামেন্ট জিতেছেন। নেহেরু কাপে ভারতের হয়েও খেলেছেন।

   ইস্টবেঙ্গল ও কলকাতা থেকে কর্ণাটক চলে যাওয়ার পরে ফুটবল থেকে হারিয়ে যান ইলিয়াস পাশা। শেষ কয়েকটা বছর দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে হয় তাঁকে। শোনা যায় অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়েছে। দুর্দিনে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে। দারিদ্র্যের সময় সংগ্রাম করতে করতে ষাট বছর হতে না হতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ইলিয়াস পাশা। যতদূর জানা গিয়েছে, কিছুটা সময় রোগভোগের পরে প্রয়াত হলেন তিনি। যত উঁচু মাপের ফুটবলার  ছিলেন মিতবাক ইলিয়াস পাশা, ততটা সম্মান সম্ভবত তিনি পান নি। বলা যেতেই পারে যোগ্য মর্যাদা পান নি, লাইমলাইটের বা প্রচারের আলোতেও তিনি ছিলেন না। দুর্ভাগ্যবশত, বর্তমান প্রজন্মের ক্রীড়া অনুরাগীরা অনেকেই তাঁর অসামান্য ফুটবল প্রতিভা ও দক্ষতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়। ভারতের এক অসামান্য ফুটবল তারকার প্রয়াণের পরে তাঁর জন্য দু চার লাইনের স্মৃতিচারণা হয়তো যথেষ্ট নয়। ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে তাঁর কথা যত কম উচ্চারণ করা-ই হোক, তিন দশক বা তার কিছু আগে যে ফুটবলপ্রেমীরা মাঠে যেতেন তাঁদের চোখে লেগে থাকবে লাল হলুদ জার্সির ১৭ নম্বরের দাপট। এটুকুই হয়তো ইলিয়াস পাশার প্রাপ্তি।।

 

About Post Author