Home » 2026 টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল : কে জিতবে?

2026 টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল : কে জিতবে?

Oplus_131072

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৭ মার্চ : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ (ফাইনাল )

বিশ্ব ক্রিকেটের কিংবদন্তি তারকা শচীন টেন্ডুলকার বলেছিলেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এমন এক ফরম্যাট যেখানে যে কেউ যে কোন দলকে হারাতে পারে।  এখানে আপনি কোন দলকে হালকা ভাবে নিতে পারেন না। ” রোহিত শর্মা সম্প্রতি বলেছেন, ” টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আমি ফেভারিট বলে কোন শব্দ বিশ্বাস করিনা। নির্দিষ্ট দিনে মাঠে নেমে ভালো ক্রিকেট খেলে আপনাকে  পয়েন্ট অর্জন করতে হবে। ”

সম্প্রতি নেট দুনিয়া এমনকি সংবাদ মাধ্যমের জায়গা করে নিয়েছে পাকিস্তানের প্রাক্তন ফাস্ট বোলার  মোহাম্মদ আমিরের ভবিষ্যৎ বাণী। তিনি বলেছিলেন ভারত সেমিফাইনালেই উঠতে পারবে না। তার ভবিষ্যৎবাণী ভ্রান্ত প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ঢঙ্গি বাবা নামে আখ্যা দিয়েছেন ভারতের প্রাক্তন টেস্ট তারকা নবজ্যোৎ সিং সিধু। শুধু বলেছেন ক্রিকেটে যারা ভবিষ্যৎবাণী করে তারা ঢঙ্গী ছাড়া কিছুই নয়। বাস্তবে ই ক্রিকেট নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করা অসম্ভব কারণ ক্রিকেট মহান অনিশ্চয়তার খেলা। উপরের উক্তি, পাল্টা উক্তিগুলো থেকে পরিষ্কার ক্রিকেটে নিজের নিজের দিনে যে কেউ বিজয়ী হতে পারে। কিছুক্ষন বাদেই আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। একথা বলাই বাহুল্য যে প্রায় সমশক্তিধর ভারত ও নিউজিল্যান্ড দলের মধ্যে লড়াই তুল্যমূল্য । কারণ t20 বিশ্বকাপে ভারত নিউজিল্যান্ডের তিনবার সাক্ষাৎ হয়েছে যেখানে তিনবার ই জিতেছে নিউজিল্যান্ড আবার দুজনের মধ্যে ৩০ বার লড়াই হয়েছে যেখানে ১৮-১১ সমীকরণে এগিয়ে আছে টিম ইন্ডিয়া। ভারত ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন এবং সেই দলের একাধিক প্লেয়ার বর্তমান দলেও রয়েছেন। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্যাটসম্যানরা রান পেয়েছেন ভালো ফিল্ডিং করেছেন ভারতীয়রা। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে সংশয়াথিত প্রাধান্য রেখে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারিয়েছে ভারত। অন্যদিকে, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চমৎকার ছন্দে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। সেমিফাইনালে প্রতিযোগিতার হট ফেভারিট দক্ষিণ আফ্রিকাকে নাস্তানাবুদ করে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড।  অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে শক্তির বিচারে বিরাট কোন ফারাক নেই, ছিলও না।যে কেউ চ্যাম্পিয়ন হতে পারে। তবুও কাকে এগিয়ে রাখা যাবে তার বিচার করতে হলে তাকাতে হবে বিশেষ সময়, প্রেক্ষাপট,  পিচ এবং অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কে নিজেদের সময়মতো তুলে ধরতে পারে। প্রশ্ন একাধিক। দলগত শক্তিতে  কে এগিয়ে আছে? আমেদাবাদের পিচকে কাজে লাগানো সম্ভাবনা  কোন দলের বেশি? টস ফ্যাক্টর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে?  সম্ভাব্য দলে কোন পরিবর্তন আসতে পারে কিনা এবং তা কতটা প্রভাব ফেলবে? ম্যাচে ট্যাকটিক্স ঠিক রেখে কোন দলের কোচ ও অধিনায়ক কি কি কৌশল নিতে পারেন? কে হয়ে উঠতে পারেন তুরুপের তাস?

দলগত শক্তিতে এই মুহূর্তে দু দলের ফারাক কম থাকলেও বিশ্বকাপের আগে অভিষেক শর্মা যেরকম বিধ্বংসী ফর্মে ছিলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ততটাই খারাপ ফর্মে থাকায় তার জ্বলে ওঠা নিয়ে সংশয় রয়েছে ফলে স্বাভাবিকভাবেই সামান্য হলেও এগিয়ে রয়েছে নিউজিল্যান্ড কারণ ফিল্ম অ্যালেন ও টিম সাইফার্ড জুটি বিধ্বংসী মেজাজে করছেন। অন্যদিকে সঞ্জু স্যামসনও রয়েছেন জীবনের সেরা ফর্মে। মনে করা হচ্ছে নিউজিল্যান্ডের ওপেনিং জুটিকে প্রথমেই ঝটকা না দিতে পারলে ভারতের বিপদ দেখা দিতে পারে। লম্বা মিডল অর্ডার ব্যাটিং লাইনআপ রয়েছে নিউজিল্যান্ডের। রচিন রবীন্দ্রা, ফিলিপিস, চ্যাপম্যান এবং মিচেল তো বটেই স্যান্টনার এবং ম‍্যাকোচি বিপদের সময় পেট হাতে রক্ষা কর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন। অন্যদিকে ভারতীয় বোলিং লাইন আপে ষষ্ঠ বোলারের অভাব বারবার অনুভব করা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়,  টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বিশ্বের এক নম্বর বোলারের আসনে বেশ কিছুদিন ধরে থাকা বরুন চক্রবর্তী এই মুহূর্তে ছন্দে নেই। সেমিফাইনালে চার ওভারে ৬৪ রান দিয়েছেন তিনি। তবে আছেন যশপ্রীত বুমরা যিনি একাই ম্যাচের রং পাল্টে দিতে পারেন। বল হাতে তাঁর চার ওভারে ম্যাচে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নিউজিল্যান্ড বোলিং লাইন আপে ভালো বল করছেন ম্যাট হেনরি ও লকি ফার্গুশন। রচিন রবীন্দ্রা ধারাবাহিকভাবে উইকেট তুলছেন। স্যান্টনার ও অভিজ্ঞ বোলার বলাই বাহুল্য। ম্যাকচি সেমিফাইনালে পাওয়ার প্লে তে এসে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট দখল করেছিলেন। এখন দেখার ভারতীয় বেটাররা এই বোলিং লাইন আপ  কি করে সামলে দ্রুত রান তোলেন! কর্মের বিচারে ভারতের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম এই মুহূর্তে সঞ্জু স্যামসন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, একমাত্র অভিশাপ শর্মা বাদ দিলে ভারতের প্রথম পাঁচ জন ব্যাটসম্যানেরই টুর্নামেন্টে  রান প্রায় দুশো বা দুশোর বেশি। সূর্য ছাড়া প্রত্যেকেই দ্রুতগতিতে রান তুলছেন বা প্রত্যেকের স্ট্রাইক রেট দেড়শোর বেশি। সুতরাং কাগজের কলমে দু দলই সমান শক্তিধর।

এখন পিচের কথা আসলে বলা যায়, পিচে রান আছে, মাঠও ছোটো এবং ডিউ ফ্যাক্টর বাদ দিলে টস বিরাট বড় ভূমিকা নাও নিতে পারে। রেকর্ড অনুযায়ী টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারত নিউজিল্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডকে ভারত কোনদিন হারায়নি। আজ ভারত টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম জয় তুলে নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ টানা দুবার জেতার নতুন ইতিহাস গড়তে পারে কিনা সেটাই দেখার।।।

About Post Author