Home » মধ্যমগ্রামে রথীন ঘোষ ম্যাজিক কি অব্যাহত?

মধ্যমগ্রামে রথীন ঘোষ ম্যাজিক কি অব্যাহত?

Oplus_131072

পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা , ১৪ এপ্রিল :এবারের বঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে ক্রমশ আগ্রহ ও উত্তেজনার পারদ চড়ছে যদিও মধ্যমগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে মানুষের আগ্রহ তুলনামূলক কম। এর একটাই কারণ ডিলিমিটেশন হওয়ার পরে ও মধ্যমগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র গড়ে ওঠার পরে মধ্যমগ্রাম বিধানসভার ভোট এবং রথীন ঘোষ কার্যত সমার্থক হয়ে উঠেছেন। তবে একটাই ফ্যাক্টর এস আই আর কতটা তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসায়। এখন দেখার এস আই আর মধ্যমগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে কতটা প্রভাব ফেলে এবং এস আই আর আবে রথীন ঘোষের বিধানসভা কেন্দ্র কতটা তৃণমূলের কাছে চিন্তার কারণ হয়ে ওঠে। মধ্যমগ্রামে রথীন ঘোষের একপেশে প্রভাব কি খর্ব করতে পারে এবারের বিধানসভা ভোট?

Oplus_131072

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক তিন সপ্তাহ আগেও বিজেপি মধ্যমগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী ঠিক করে উঠতে পারছিল না। হাওয়ায় হাওয়ায় ভাসছিল অনেক নাম। কখনো শোনা যাচ্ছিল গণিতজ্ঞ পবিত্র দেবনাথের নাম কখনো শোনা যাচ্ছিল কামদুনি কাণ্ডের প্রতিবাদী মুখ টুম্পা কয়ালের নাম। কিন্তু বিজেপির জেলা নেতৃত্ব রাজ্য নেতৃত্ব সবার কাছেই অত্যন্ত পরিষ্কার ছিল যে রাজনীতির ময়দানে অনভিজ্ঞ মুখ হলে কেউই মধ্যমগ্রামে তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে ধোপে টিকবেন না। অবশেষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর্ব শুরু হওয়ার একদিন আগে বিজেপি, মধ্যমগ্রাম কেন্দ্রের প্রার্থী মনোনীত করে অনিন্দ্য রাজু ব্যানার্জিকে। রাজু ব্যানার্জি আদ্যোপান্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বঙ্গের রাজনীতিতে এর আগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ ও দায়িত্ব সামলেছেন। রাজু ব্যানার্জি ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে কামারহাটিতে লড়েছিলেন, বিজেপির ভোটও কামারহাটিতে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছিলেন তথাপি বঙ্গের রাজনীতিতে বড় নাম মদন মিত্রর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেননি। মদন মিত্রের সঙ্গে কামারহাটিতে পেরে ওঠা হয়তো দুষ্কর। তবে, মদন মিত্রের ২০১৯ সালের উপনির্বাচনে অর্জুন পুত্র পবনের কাছে পরাজয়ের রেকর্ড রয়েছে। এবার অনিন্দ্য রাজু ব্যানার্জির লড়াই বঙ্গের রাজনীতিতে কার্যত মিথ হয়ে উঠতে চলা এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে। তাঁর নাম রথীন ঘোষ। ২০০৯ সালে ডিলিমিটেশনের আগে পর্যন্ত মধ্যমগ্রামের ভোটাররা ছিলেন বারাসাত বিধানসভার অন্তর্গত। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মধ্যমগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র। আর সেই যে রথীন ঘোষের জয়ের ধারা শুরু হয়েছে তা আজও অব্যাহত। এখন প্রশ্ন, মধ্যমগ্রাম কেন্দ্রে আজ পর্যন্ত অপরাজিত থাকা রথীন ঘোষের জয়ের রেকর্ড কি ভাঙতে পারে? এ কথা মাথায় রাখা দরকার ২০২৬ সালের রাজনৈতিক আবহে বিধানসভা নির্বাচনে অধিকাংশ বিধানসভা আসনেই জয় পরাজয় নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। বিশেষত তৃণমূলের যেটা আসন গুলি ধরে রাখা নিয়ে যথেষ্ট মাত্রায় প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যাচ্ছে। একে প্রতিষ্ঠান বিরোধী ভোট, দুই এস আই আর এর ফলে ভোটবিন্যাসে বদল ঘটা। কিন্তু তা দিয়ে রথীন ঘোষের অসুবিধা অসুবিধা হতে পারে? এই কেন্দ্রে কংগ্রেস বা বামফ্রন্টের পক্ষে এখনো পর্যন্ত কোনো আশার আলো রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের চোখে ধরা পড়ছে না। এই কেন্দ্রে আইএসএফ প্রার্থী হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা বর্মন। মুখে তিনি বলছেন, জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী কারণ তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ তাদেরকেই জয়যুক্ত করবেন। রথীন ঘোষ কে নিয়ে তার সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, বলেছেন দলের নাম আইএস এর তার আবার প্রার্থী! এক ফুৎকারে রথীন ঘোষ আইএসএফের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন। রইল ভারতীয় জনতা পার্টি। তাঁরও রথীন ঘোষ এর বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রধান অস্ত্র দুর্নীতি ইস্যু।

থাকবেই না কেন, প্রতিটি ভোটের আগে পালা করে শমন পাঠাচ্ছে রথীন ঘোষের কাছে। কিন্তু মুকুল ঘোষের প্রয়াণের পরে উত্তর ২৪ পরগনা রাজনীতির চাণক্য বলে বিবেচিত রথীন ঘোষ কে বাগে আনা যায়নি। রথীন ঘোষ এর বিরুদ্ধে পুর দুর্নীতি মামলা বা আবাসন কেলেঙ্কারি নিয়ে রাজু ব্যানার্জি যতই সরব হয়ে উঠুন না কেন মধ্যমগ্রাম এখনো রথীন ঘোষের গড়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি জিতেছিলেন ৪৮ হাজার ভোটে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও রথীন ঘোষের কেন্দ্র থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার সাংসদ হিসেবে ৩৪ হাজার ভোটের লিড পেয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই ভোটের আগে আত্মবিশ্বাসী দেখাতে বাধ্য রথীন ঘোষ কে।

দুর্নীতি নিয়ে রথীন ঘোষ কে আক্রমণ করে বিজেপির পালে হাওয়া আনতে পারবে না এটা একরকম নিশ্চিত, সেক্ষেত্রে বিজেপির অস্ত্র হতেই পারত এস আই আর। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এস আই আর এ শহর এলাকায় খুব বেশি কাঁচি পড়েনি। মধ্যমগ্রামে এরকম একাধিক গ্রামীণ বুথ রয়েছে যেখানে আন্ডার এডজুডিকেশন বা বিচারাধীন ভোটারদের ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়ে গিয়েছে। এরকম একটি বুথ রয়েছে মধ্যমগ্রামের বারাসাত লাগোয়া অঞ্চল আলগেড়িয়া। এই অঞ্চলটি পশ্চিম খিলকাপুর পঞ্চায়েত এলাকার অন্তর্গত । সংখ্যালঘু অধ্যুষিত পশ্চিম খিলকাপুর অথবা ময়নাতে বেশ কিছু নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। কিন্তু তা নিয়ে এলাকার পঞ্চায়েতের দায়িত্ব থাকা তৃণমূল নেতৃত্ব বলছেন রথীন ঘোষের তাতে কিছু ক্ষতি হবে না। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চলে তৃণমূল নেতাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ পরিষ্কার ভাবে প্রমাণ দিচ্ছে, মধ্যমগ্রাম কেন্দ্রের ” ২০-২২% শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট ” তৃণমূলের অটুট থাকবে। রইল সনাতনী ভোট। নতুন প্রজন্মের ভোটাররা যেভাবেই ভোট বাক্সে প্রতিফলন ঘটান, মধ্যমগ্রাম শহর তৃণমূলের ২৮ টি ওয়ার্ডে বিজেপির পক্ষে রথীন ঘোষকে পর্যুদস্ত করা কার্যত অসম্ভব। ভোটের কয়েকদিন আগেও হাওয়া সেভাবেই বইছে যেভাবে গত ১৫ বছর ধরে বয়ে এসেছে। বড় মিরাকেল বা অঘটনও মধ্যমগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে পালা বদল ঘটাতে পারবে সে সম্ভাবনা সুদূর পরাহত। সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে মধ্যমগ্রামে তৃণমূলের রথীন ঘোষের আরেকবার জয়ী হওয়া শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।।।

About Post Author