পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ৩১ জুলাই : মৌলবাদের ভ্রূকুটি ধোপে না ঠেকায় অবশেষে কলকাতা ফিরছেন তসলিমা নাসরিন।বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর (১৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন) পর কলকাতায় ফিরছেন শুক্রবার । শুক্রবার সকাল বেলা (৩১ জুলাই ২০২৬) তিনি দিল্লির বিমানবন্দর থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। কলকাতায় জীবনের আরেকটি অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন তসলিমা নাসরিন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট২০০৭ সালে কলকাতায় তাঁর বিখ্যাত বই ‘লজ্জা’ এবং অন্যান্য লেখা নিয়ে চরম বিতর্ক ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়।তৎকালীন পরিস্থিতির চাপে বাধ্য হয়ে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়তে হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ প্রায় দুই দশক তিনি কলকাতায় প্রবেশ করতে পারেননি।
তসলিমা নাসরিনের দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে কলকাতায় না আসতে পারার পেছনে রাজনৈতিক তোষণ নীতি, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলাজনিত সংকট এবং কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর চাপের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও দাঙ্গা প্রতিরোধের অজুহাতে তৎকালীন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার লেখিকাকে কলকাতা থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়।২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তসলিমা আশা করেছিলেন পরিস্থিতি বদলাবে, কিন্তু তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের জমানাতেও তিনি কলকাতায় পা রাখার অনুমতি পাননি। লেখিকা এবং সমালোচকদের একাংশ অভিযোগ, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক অক্ষুণ্ণ রাখতে তৃণমূল সরকারও বাম সরকারের একই পথ অনুসরণ করে। তবে, উল্লেখযোগ্য যে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সহ বামপন্থী লেখকদের এক বিরাট অংশ তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে সরাসরি সরব হয়েছিলেন যা তসলিমা নাসরিনের কলকাতা ছাড়ার অন্যতম প্রেক্ষাপট হয়ে উঠেছিল বলেই মনে করা হয়। অনস্বীকার্য যে, তসলিমা নাসরিন ইস্যুতে বিগত দুই দশক ধরে কট্টরপন্থী মৌলবাদের কাছে কার্যত মাথা নত করেছিল বাম -তৃণমূল সরকার।সেই ক্ষত দূর হতে চলেছে রাজ্যে বিজেপি শাসন শুরু হওয়ার তিন মাসের মধ্যেই।
আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ কলকাতার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত রবীন্দ্র সদনে একটি বিশেষ সাহিত্যিক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। ‘সেকুলার মিশন’-সহ মোট তিনটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই মৌলবাদ-বিরোধী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে তিনি কবিতা পাঠ ও মুক্তচিন্তা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন।
কলকাতা পাড়ি দেওয়ার আগে তিনি সামাজিক মাধ্যমে লাল পাড় সাদা শাড়ি পরা নিজের একটি ছবি পোস্ট করে তাঁর আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। ইউরোপের জীবন ছেড়ে একটা সময় বাংলার টানেই তিনি কলকাতায় সংসার পেতেছিলেন এবং এই শহরের স্মৃতি তাঁর কাছে অত্যন্ত অমূল্য- জানিয়েছেন তসলিমা নাসরিন।।
(ছবি সৌজন্য – তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক পোস্ট )


More Stories
মহানায়ক উত্তম কুমার : জন্মদিনের চেয়ে মৃত্যুর দিনটি মানুষ মনে রেখেছেন, কিন্তু কেন?
প্রসেনজিতের বাড়িতে অমিত শাহ
বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে রাজপথে মমতা