Home » জীবন বাঁচাতে এসে জলের দেখা নেই, ভোগান্তি ধূপগুড়ি হাসপাতালে

জীবন বাঁচাতে এসে জলের দেখা নেই, ভোগান্তি ধূপগুড়ি হাসপাতালে

Oplus_131072

সানি রায়, সময় কলকাতা : অভাবনীয় হলেও সত্যি!  জীবন বাঁচাতে এসে জলের দেখা নেই। ধুপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালের চিত্র এমনটাই।

জলের অপর নাম জীবন। জীবনের সন্ধানে, জীবন বাঁচাতে হাসপাতালে এসে জল মিলছে না । জীবন যন্ত্রনা থেকে বাঁচতে কিনে আনতে হচ্ছে জল। এরকমই আশ্চর্য, মর্মান্তিক ছবি ধরা পড়ল ধুপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে।চার দিন ধরে পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে জল! জলের আকালে  ক্ষোভ রোগী ও পরিজনদের। মঙ্গলবারও জল সংকটের সুরাহা হওয়ার আশু সম্ভাবনা নেই, তবুও নির্বিকার সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের  গড়িমসি চলছেই!

চার দিন ধরে পানীয় জলের সমস্যায় ভুগছেন ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা। হাসপাতালের পানীয় জলের ট্যাংকে জল না থাকায় বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে জল কিনে খেতে হচ্ছে তাঁদের। তীব্র গরমের মধ্যে হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্রে এই পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।

ধূপগুড়ি মহকুমার অন্যতম প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র এই হাসপাতাল। প্রতিদিন বহির্বিভাগ থেকে জরুরি বিভাগে বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য আসেন। পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি থাকেন বহু রোগী। তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু অভিযোগ, গত চার দিন ধরে হাসপাতালের পানীয় জলের ট্যাংকে জল নেই। ফলে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের বাইরে থেকে টাকা দিয়ে জল কিনে আনতে হচ্ছে।

রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওষুধ-সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী অনেক সময় বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। তার সঙ্গে পানীয় জলও বাইরে থেকে কিনতে হওয়ায় অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপছে সাধারণ মানুষের উপর। বিশেষ করে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য আসা রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বেশি।

হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর ছেলে নুকুল মহন্ত বলেন, ‘‘চার দিন ধরে হাসপাতালের পানীয় জলের ট্যাংকে জল নেই। ফলে বাইরে থেকে জল কিনে খেতে হচ্ছে। কলের চারপাশেও নোংরা-আবর্জনা পড়ে রয়েছে। কলের মধ্যেও জল নেই। দ্রুত কল মেরামত করে পানীয় জলের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করা হোক।’’

হাসপাতালে ভর্তি রোগী রিতা সরকার ও সামিনা খাতুনের অভিযোগ, ‘‘ভর্তি হওয়ার পর থেকেই পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। ট্যাংকে জল না থাকায় বাইরে থেকে টাকা দিয়ে জল কিনে আনতে হচ্ছে। এতে রোগী এবং তাঁদের আত্মীয়-পরিজন সকলকেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’’

তীব্র গরমের মধ্যে হাসপাতালে টানা তিন দিন পানীয় জলের সমস্যা চলায় ক্ষোভ বাড়ছে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের মধ্যে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে হাসপাতালে স্বাভাবিক পানীয় জল সরবরাহ এবং পানীয় জলের স্থানটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ধুপগুড়ি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক দেবদাস মন্ডল বলেন, টেকনিক্যাল সমস্যার কারণেই পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে, লোক ডাকা হয়েছিল ঠিক করার জন্য তারা পারেনি আগামীকাল আবার আসবে ঠিক করবার জন্য।

স্বাস্থ্য আধিকারিকের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার  জল সংকট চলবে, অন্তত আগামী একদিন অবশ্যই পরিত্রাণ নেই। অভাবনীয় হলেও  জীবনদায়ী প্রতিষ্ঠানে জীবনদায়ী জলের আকাল!

আরও পড়ুন সফল সিজারিয়ান, উৎসবের আগমনে উদযাপন ধুপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে

জলের দেখা নেই ধূপগুড়ি হাসপাতালে #ধূপগুড়ি #ধূপগুড়িমহকুমাহাসপাতাল

About Post Author