সময় কলকাতা ডেস্ক : বৃহত্তর আন্দোলনের পথে ভারত- বাংলাদেশ সীমান্ত বনগাঁর আন্তর্জাতিক আমদানি ও রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীরা।এক ধাক্কায় কার্যত সর্বোচ্চ বারোগুন বেড়েছে স্থলবন্দর পেট্রাপোল লাগোয়া বনগাঁয় গাড়ি পার্কিং করার চার্জ। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আর্থিক চাপে জেরবার হলেও তাঁদের কথা কর্ণপাত করার কেউ নেই।ট্রেনে যখন পণ্য ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত হয়ে একদেশ থেকে অন্যদেশে যাচ্ছে তখন বনগাঁর কালিতলা পার্কিং এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাক-লরির পার্কিং চার্জ বৃদ্ধির পেছনে ষড়যন্ত্রর অভিযোগ তুলছে বনগাঁর পেট্রাপোল এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট সমন্বয় কমিটি। তাঁদের মতে, পেট্রাপোল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় পার্কিং চার্জ বাড়ানো হয়েছে বেলাগাম ভাবে। এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতে বনগাঁ রামনগর রোডের মোড়ে আবার অবরোধ করা হয় পেট্রাপোল এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে । ঘটনাস্থলে আসে বনগাঁ থানার পুলিশ । কিন্তু সমাধানসূত্র বাতলাতে ব্যর্থ পুলিশ। অবরোধ চলে দীর্ঘক্ষণ। রাতে রাস্তা জুড়ে ধর্নায় রইলেন সীমান্তের আমদানি রপ্তানি ব্যবসার সাথে যুক্ত শয়ে-শয়ে মানুষ।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বনগাঁ কালিতলা পার্কিং প্লট অধিগ্রহণ করা হয়েছে । রাজ্য সরকার অধিগ্রহণের করার পরে বনগাঁ পুরসভার হাত থেকে পরিবহন দপ্তরের হাতে ক্ষমতা যেতেই সমস্যার সূত্রপাত।কালিতলা পার্কিং এলাকায় গাড়ি পার্কিং চার্জ অত্যাধিক হওয়ার ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যবসায়ীদের । আগে মাত্র সর্বসমেত ৮০ টাকায় পার্কিং করার জন্য চার্জ নির্ধারিত করা ছিল। এখন বারোঘন্টা ক্লিয়ারিং হওয়ার সময় লাগলে ঘন্টাপ্রতি ৮০ টাকা হিসেবে ৯৬০ টাকা দিতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। ফলে ট্রাক বা লরির মাধ্যমে যারা আমদানি ও রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত- তাঁরা পড়েছেন প্রবল সংকটে।
এই আর্থিক সমস্যায় জেরবার আমদানি রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার পরিবার। তাঁদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি দুটি বিষয় তাঁদের ভাবাচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে গুডস ট্রেনে পণ্য একদেশ থেকে অন্যদেশে চলে যাচ্ছে। ফলে রেলে যারা পণ্য আমদানি রপ্তানি করেন তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত করার জন্য মালবাহী ট্রাকে পণ্য দেওয়া-নেওয়া করা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত হতে পারে বলেই আশঙ্কা পেট্রাপোল এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট সমন্বয় কমিটির। তেমনটাই জানালেন সন্তোষ মুখার্জী বা প্রভাস পালের মত এই ব্যবসার সাথে জড়িয়ে থাকা মানুষজন।
বনগাঁর আমদানি ও রপ্তানি কারক ব্যাবসায়ীদের ক্ষোভ মিশ্রিত হতাশা আরও বেড়েছে বসিরহাট লাগোয়া সীমান্ত ঘোজাডাঙ্গার কাছে পার্কিং ফী বৃদ্ধি না হওয়ায়।ফলে বনগাঁ সীমান্তের চেয়ে পণ্য পরিবহন করার সুব্যবস্থার কারণে অনেকেই বসিরহাট সীমান্তকে। সার্বিকভাবে বনগাঁর অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে মনে করছে পেট্রাপোল এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট সমন্বয় কমিটি।
গত বৃহস্পতিবার রাতে যশোর রোডের বনগাঁ বাটার মোড়ে অবস্থান বিক্ষোভ-অবরোধ শুরু করা হয়েছিল পেট্রাপোলএক্সপোর্ট ইমপোর্ট সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে । অবস্থান-বিক্ষোভ চলাকালীন ঘটনাস্থলে আসেন বাগদার বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে আগামীতে এই সমস্যার কথা রাজ্য সরকারকে তিনি জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেন । বাগদার বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিয়েছিল ব্যবসায়ীরা। আশ্বাসবাণী কার্যকরী না হওয়ায় রবিবার রাতে আবার বাটার মোড়ে বিক্ষোভ অবস্থান শুরু করা হয় এক্সপোর্ট ইমপোর্ট সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে । বিক্ষোভের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে যশোর রোড । মঙ্গলবার রাতে আবার নতুন করে অবরোধ শুরু হয় পেট্রাপোল এক্সপোর্ট ইমপোর্ট সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে । অবরোধকারীদের বক্তব্য,বিগত কদিনে তাঁরা আশ্বাস শুনেছেন, আশ্বাসের প্রতিফলন দেখেন নি। তাঁদের দাবি প্রশাসনিক কর্তাদের কাছে একাধিকবার পার্কিং চার্জ কমানোর দাবি জানানো সত্ত্বেও কোনো সদুত্তর মেলেনি। তাঁদের দাবী এবিষয়ে তাঁদের দাবীদাওয়া শুনতে আসার প্রয়োজন বোধ করেন নি সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় আধিকারিকবৃন্দ। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে যান নি। মাধ্যমিক শেষ,এবার তাঁদের দাবী না মানা পর্যন্ত আন্দোলনকে চরম রূপ দিতে মরিয়া সীমান্তের আমদানি ও রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীরা ।।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি