সময় কলকাতা ডেস্ক: ফের ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে আর ফিরতে পারলেন এ রাজ্যের চার শ্রমিক। করোনার তৃতীয় ঢেউ-এর আতঙ্ক আর দীর্ঘ লকডাউনের হতাশা কাটিয়ে ভিন রাজ্যে যেতে শুরু করেছেন এ রাজ্যের বিভিন্ন পেশায় দক্ষ শ্রমিকরা।তেমনই কোচির কালামাসেরিতে একটি নির্মাণ সংস্থার হয়ে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর ও হরিণঘাটার বেশ কিছু শ্রমিক পাড়ি দিয়েছিলেন কেরালার কোচিতে। তারা মার্চের ৫ তারিখে এখান থেকে রওনা হয়েছিলেন কেরালার কোচিতে। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগ শ্রমিকই এই প্রথম বাংলার বাইরে কাজ করতে গিয়েছিলেন।সেখানেও একটি নির্মীয়মান বাড়িতে ভূমি ধস নামে।আর এই ভূমিধসের কারণে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের ৩ শ্রমিক ও হরিণঘাটা থানা এলাকার ১ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে শোকের ছায়া নেমে আসে অশোকনগর এলাকায়। জানা গিয়েছে ওই মৃত চার শ্রমিকের নাম, ফিজুল মন্ডল, নওজেশ আলি, নূর আমিন মন্ডল ও কুদ্দুস মণ্ডল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসে অশোকনগর শ্রীকৃষ্ণপুর পঞ্চায়েতের আসুদি গ্রামের ১০ জনের একটি শ্রমিকের দল একটি বেসরকারি কোম্পানির কাজে কেরালায় যায়। শুক্রবার সেখানে কর্মরত অবস্থায় মাটির ধ্বস নামার কারণে মৃত্যু হয় চারজনেরই। আহত হয় আরও দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মৃত এক শ্রমিকের স্ত্রী জানালেন ৮ বছর তারা সংসার করছেন কোন দিন তাঁর স্বামী বাইরে কোথাও যায়নি। এই প্রথম তাঁর স্বামী বাইরে ভিন রাজ্যে কাজে গেলেন গিয়ে আর ফিরলেন না।এখন এই তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে কিভাবে সংসার চালাবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না।সরকারের কাছে একটাই আবেদন সরকার যেন তাদের একটু ব্যবস্থা করে দেয়।
পাশাপাশি অন্যান্য মৃত পরিবারের দিকেও যেন সরকার একটু নজর দেন, এমনকি ওই নির্মান সংস্থা যেন তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ায়।
এদিকে ইতিমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন পঞ্চায়েত সমিতি তাঁদের প্রত্যেকটি পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে । জানালেন পঞ্চায়েতের উপ প্রধান রবিউল হাসান।তারা রাজ্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন যাতে অবিলম্বে মৃতদেহগুলি ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা যায়।
মৃতদের পরিবারের দাবি, সরকারি সাহায্যে অবিলম্বে মৃতদেহগুলি বাড়িতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি সরকারি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন ওই মৃত শ্রমিকদের পরিবার।


More Stories
অর্জুন সিংকে ‘চমকানো’ বনিকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরালো পুলিশ
“দত্তপুকুরের শাহজাহান “গোপাল কাঞ্জিলালকে আদালতে তোলা হল
স্বাস্থ্য পরিষেবায় আধুনিকীকরণে জোর দেবেন নরেশ রায়