Home » রামপুরহাটের ঘটনায় সিট গঠন মুখ্যমন্ত্রীর,ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে

রামপুরহাটের ঘটনায় সিট গঠন মুখ্যমন্ত্রীর,ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে

সময় কলকাতা ডেস্কঃ  উত্তপ্ত রামপুরহাট। বীরভূমের রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের বরশাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভাদু সেখের মৃত্যুর পরেই এলাকায় মৃত্যুর মিছিল। ভাদু সেখের মৃত্যুর পরেই ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকে এলাকা। ভাদু সেখের অনুগামীরা খুঁজতে শুরু করে হত্যাকারীদের। রাতভর দফায় দফায় চলে বোমাবাজি আর বিভিন্ন বাড়িতে অগ্নিসংযোগ। সূত্রের খবর অনুযায়ী  ১০ টি বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছিল রাতেই। বগটুই গ্রামের একটি বাড়িতে ১০ থেকে ১২ জন তখন গভীর ঘুমে নিমগ্ন। সেই সময় সেই বাড়িতে লাগানো হয় আগুন। সূত্রের খবর বগটুই গ্রামের যে বাড়িতে  আগুন লাগানো হয় সেই বাড়িটি সঞ্জু সেখের বাড়ি।  পাশাপাশি ব্যাপক বোমাবাজিও করে দুষ্কৃতীরা। আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। আশঙ্কা করা হচ্ছে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয় পুলিশ এবং দমকল বাহিনী।  সোমবার গভীর রাতেই ওই বাড়ি থেকে তিন জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে উদ্ধার হয় আরো সাতটি মৃতদেহ। ইতিমধ্যেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। ভাদু সেখের মৃত্যুর পর এলাকায় ছিল পুলিশের টহলদারি তা সত্ত্বেও দুস্কৃতিরা কিভাবে এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজি চালালো, এবং পাশাপাশি বিভিন্ন বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটালো। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার নগেন্দ্র ত্রিপাঠী। তিনি জানিয়েছেন ঘটনা তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ডাকা হয়েছে ফরেনসিক টিম। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে সে ব্যাপারেও ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি খতিয়ে দেখা হচ্ছে ভাদু সেখের মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনার কোন সংযোগ রয়েছে কিনা। বীরভূম জেলার বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা অভিযোগ করেছেন যেখানে শাসকদলের উপপ্রধান নিজে দুষ্কৃতীদের হাতে নিহত হন পাশাপাশি ১০ জন মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? রামপুরহাটের এই ঘটনা ছোট আঙারিয়া ঘটনার স্মৃতি কে উস্কে দিল। ২০০১ সালের ৪ জানুয়ারি ছোট আঙারিয়ায় সিপিআইএম এর দুষ্কৃতীরা একটি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল সেই সময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিলেন ১১ জন তৃণমূল কর্মী সমর্থক। তদন্তভার গ্রহণ করেছিল সিবিআই। দুইজন সিপিআইএম নেতা কে এই ঘটনায় দায়ী করেছিলেন সিবিআই। ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ২ সিপিআইএম নেতা। রামপুরহাটের এই ঘটনার সঙ্গে ছোট আঙারিয়ার ঘটনার অনেকটাই সাদৃশ্য আছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।রামপুরহাট এর ঘটনা শোনার পরই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গঠন করেছেন সিট। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন রাজ্যের পুরো ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানিয়েছেন দোষীদের কোনমতেই রেয়াত করা হবে না। এই ঘটনার পরই তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ট্যুইট করে জানিয়েছেন এই ঘটনায় সরকার তৎপরতার সঙ্গে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। ইতিমধ্যেই ওসিকে ক্লোজড করা হয়েছে এবং এস ডিপিও-কে অপসারন করা হয়েছে। তিন সদস্যের সিটও গঠন করা হয়েছে। যাদের মধ্যে আছেন জ্ঞানবন্ত সিং মীরাজ খালিদ ও সঞ্জয় সিং।ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছেছে সিআইডি টিমও তারা ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করে দিয়েছেন। ভাদু সেখের মৃত্যুর পাল্টা এই ১০ জনের মৃত্যু বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তবে ভাদু  সেখের ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনার সংযোগ রয়েছে কি-না সে বিষয়ে তদন্ত শুরু করছে পুলিশ ।পাশাপাশি দুষ্কৃতিদের সন্ধানেও এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

About Post Author