Home » পুলিশ তৎপর হলে রাজ্যের দ্বিতীয় গণহত্যা ঘটনা আটকানো যেত, শুভেন্দু

পুলিশ তৎপর হলে রাজ্যের দ্বিতীয় গণহত্যা ঘটনা আটকানো যেত, শুভেন্দু

সময় কলকাতা ডেস্ক : রামপুরহাট গণহত্যা কাণ্ডে মৃতের পরিবারের মতোই ঘটনার জন্য পুলিশকে কাঠগড়ায় তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এলাকায় পৌঁছানোর পর শুভেন্দু বলেন, গণহত্যার ঘটনা ঘটার পর পু্লিশ যে  তৎপরতা দেখাচ্ছে তা যদি আগে দেখাত তাহলে রাজ্যে দ্বিতীয় গণহত্যা আটকানো যেত। তিনি বলেন, উপপ্রধানের উপর হামলা হয়েছে। তার প্রায় দেড় ঘণ্টাবাদে পালটা হামলা হয়েছে। প্রথম ঘটনার পর পুলিশ তৎপরতা দেখায় নি কেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। পাশাপাশি এই ঘটনায় পুলিশের ব্যার্থতার জন্য মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান। একই সঙ্গে নারকীয় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়ে তদন্তের দাবি জানান।

সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, এই নারকীয় ঘটনার প্রধান সাক্ষী এখন গ্রাম ছাড়া। তাঁরা এখন সাঁইথিয়ার বাতাসপুরে রয়েছেন। এই ঘটনার পর তাঁরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। আমরা তাঁদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করব। আদালতও নিশ্চই তাঁদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ দেবে। শুভেন্দু বলেন, মৃতের পরিবারে লোকজনের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। এই ঘটনায় বুধবারও একটি দেহ উদ্ধার হয়েছে।এখনও পর্যন্ত ২ শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাডতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলনেতা।

রামপুরহাট কাণ্ডে রাজ্যের গঠনকরা সিটের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, এরা ফরেন্সিক ও পোস্টমার্টেম রিপোর্ট পালটাতে পারে। তাই এদের বিশ্বাস করা যায় না। তাই আমরা কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক দলকে আসতে বলেছি। তাঁরা এসে সঠিক তদন্ত করলেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে। বিরোধী দলনেতার অভিয়োগ, রাজ্যে গুলিগোলা ও বোমাবাজি লেগেই রয়েছে। গত এক সপ্তাহে রাজ্যে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই পরিস্কার যে রাজ্য আইন শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। এজন্য সরাসরি পুলিশ মন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলেছেন।

ইণ্ডোর স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বিজেপির প্রতিনিধি দলকে করা কটাক্ষ প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা বলেন, এটা একজন সভ্য মুখ্যমন্ত্রীর মুখের ভাষা ? মুখ্যমন্ত্রী বলছেন কিছু দল ল্যাংচা খেতে খেতে ল্যাংচাতে গেছে। এটা একজন মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে কখনোই কাম্য নয়। প্রসঙ্গত, সোমবার রাতে বীরভূমের রামপুরহাটে বোমা মেরে খুন করা হয় তৃণমূলের উপপ্রধান ভাদু শেখকে। ঘটনার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রামপুরহাট। সেই রাতে ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ড ঘটে বগটুই গ্রামে। যেখানে ৮ জনের মৃত্যু হয়।  এই ঘটনাকে ঘিরে তোলপাড় বঙ্গের রাজ্য রাজনীতি। ঘটনা ইতিমধ্যে সিট গঠন করা হয়েছে। আগামীকাল মুখ্যমন্ত্রীর ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা।

About Post Author