Home » আদিবাসীদের জমি অন্যের নামে রেকর্ড,জমি মাফিয়া ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকের অশুভ আঁতাতের অভিযোগ

আদিবাসীদের জমি অন্যের নামে রেকর্ড,জমি মাফিয়া ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকের অশুভ আঁতাতের অভিযোগ

সময় কলকাতা ডেস্ক: রাতের অন্ধকারে জমি মাফিয়াদের মাধ্যমে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার আদিবাসীদের জমি হস্তান্তর হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ, হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকদের প্রচ্ছন্ন মদতে আদিবাসীদের জমিগুলি ভিন্ন সম্প্রদায়ের দখলে চলে যাচ্ছে। রাতের অন্ধকারে এই রেকর্ড হস্তান্তরের কাজ করা হচ্ছে।  অভিযোগ ভূমি সংস্কার দপ্তর আধিকারিক ফকরুদ্দিন আহমেদ এবং কিছু কর্মী। সম্প্রতি হরিশ্চন্দ্রপুর গড়গড়ি এলাকায় এক আদিবাসী সম্প্রদায়ের বেশ কিছু জমি ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকের নামে জমি বিক্রি করা হয়েছে এমনকি রেকর্ড হস্তান্তর পর্যন্ত হয়ে গিয়েছে। এলাকায় কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক ভূমি সংস্কার দপ্তর ঘুঘুর বাসায় পরিণত হয়েছে। এলাকার কিছু জমি মাফিয়া আদিবাসীদের ঢাল বানিয়ে আদিবাসীদের জমি কেনা-বেচা করছে। এই কাজে প্রচ্ছন্ন ভাবে মদত যোগাচ্ছে ভূমি সংস্কার দপ্তর। আদিবাসীদের জমি কি ভাবে হস্তান্তর বা রেকর্ড ট্রানস্ফার হচ্ছে অন্য সম্প্রদায়ের মধ্যে এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা।

হরিশ্চন্দ্রপুর গড়গড়ি এলাকায় ভোলা ওঁরাওর নামে এক ব্যক্তির জমি এলাকারই কিছু জমি মাফিয়া ওই এলাকার আরেক আদিবাসী বাসিন্দা সিধু ওঁরাও এর মাধ্যমে কিনে নেয়। তারপর সেই জমি আবার সিধু ওঁরাও এর কাছ থেকে ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষদের রেকর্ড করে দেয়। এই ধরনের চক্র গোটা হরিশ্চন্দ্রপুর জুড়েই জাল পেতেছ বলে দাবি হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের।বারদুয়ারী এলাকার এক ব্যক্তির জমি অন্যের নামে রেকর্ড করে দেওয়ার অভিযোগে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ভূমি সংস্কার আধিকারিককে তাঁর দপ্তরে ঘেরাও করে রাখে এলাকার বাসিন্দারা। ওই আধিকারিককে হেনস্তা পর্যন্ত করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বেধে যায় বিক্ষোভকারীদের। এলাকার আদিবাসীদের অভিযোগ এই নিয়ে ভূমি সংস্কার আধিকারিককে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো ফল হয়নি।

তাদের নামে থাকা জমির মালাকানা রাতারাতি কিভাবে বদলে গেল তা নিয়ে  প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী ছায়া ওঁরাও। স্থানীয় বাসিন্দা রমেশ ওঁরাও জানান ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকদের মদদে এলাকায় জমি কেনা-বেচার একটা বিশাল চক্র চলছে। আদিবাসীদের জমি অন্যের নামে হস্তান্তর হয়ে যাচ্ছে রাতারাতি। আমরা এই বিষয়ে অভিযোগ করতে গেলে কোনো কথা শোনা হচ্ছে না। আমরা তাই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।

অন্যদিকে অভিযুক্ত সিধু ওঁরাও জানান জমিটা আমার নামে রেকর্ড আছে আমি অন্য এক জনকে লিজ দিয়েছি বিক্রি করেনি। রেকর্ড ট্রান্সফারের যে খতিয়ান দেখানো হয়েছে সেটা ভুলবশত হয়েছে। যদিও ক্যামেরার সামনে কোনো মন্তব্য করতে চাননি হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক ভূমি সংস্কার আধিকারিক ফকরুদ্দিন আহমেদ।

 

About Post Author