সময় কলকাতা ডেস্কঃ শুক্রবার পূর্ব ইউক্রেনের শহর ক্রামতোর্স্কের একটি রেলওয়ে স্টেশনে রুশ রকেট হামলায় কয়েক ডজন লোক নিহত হয়েছে।সেখানকার নাগরিকরা যখন ডনবাস অঞ্চল থেকে পালানোর জন্য দৌড়াচ্ছেন সেই সময় ওই রকেট হামলায় ৫ শিশুসহ ৫০ জন নিহত হয়েছে। দোনেৎস্কের আঞ্চলিক গভর্নর পাভলো কিরিলেঙ্কো বলেছেন, ছয় সপ্তাহের অর্থাৎ ৪৩ দিনের যুদ্ধের সবচেয়ে মারাত্মক হামলা এতি।তাতে মৃত্যুর সংখ্যাও অনেক। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধ বিরতির সময় “সীমাহীন নির্মমতা” দেখিয়েছে রুশ সেনারা। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার সাংবাদিকরা জানিয়েছেন একটি সামরিক ট্রাকে লোড করার আগে কমপক্ষে ৩০ জনের মৃতদেহ স্টেশনের পাশে প্লাস্টিকের শিটের নিচে পড়ে থাকতে দেখেছেন তারা।মাটিতে রক্ত জমাট বেঁধেছিল এবং আবাসনে বাইরে বস্তাবন্দী ব্যাগগুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে স্থানীয় এক মহিলা বলেন “আমি স্টেশনেই দাঁড়িয়ে ছিলাম,সেই সময় আমি একটি বিস্ফোরণের মতো শব্দ শুনতে পাই। আমি তখন নিজেকে বাঁচাবার জন্য দেওয়ালের দিকে ছুটে যাই।” তারপরই দেখলাম রক্তে ভেসে যাচ্ছে মানুষ গুলো সব পড়ে আছে মাটিতে যত্রতত্র ।দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুলি ও ভাঙা কাঁচ এবং তাদের পরিত্যক্ত লাগেজগুলি স্টেশনের চারপাশে এবং প্ল্যাটফর্ম জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই হামলার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেছে যে, তারাই যে এই হামলা চালিয়েছে তা “সম্পূর্ণ অসত্য”। ইউক্রেনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আক্রমণের এক মাসেরও বেশি সময় পরে, মস্কো তার যুদ্ধের দিক পরিবর্তন করে পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনের দিকে সরিয়ে নিয়েছে। ভারী গোলাবর্ষণে ইতিমধ্যেই পূর্ব ও দক্ষিণ অঞ্চলের শহরগুলিকে ধ্বংস করতে শুরু করেছে রুশ সেনা, এবং কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই অসামরিক লোকদের পালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।
এদিকে, রাজধানী কিয়েভ থেকে রাশিয়ান সেনা প্রত্যাহারের পর ঘরে ফিরে আসা বাসিন্দারা এবং ইউক্রেনের প্রশাসন তাদের ধ্বংসের মাত্রা হিসেব করার চেষ্টা করছিল।তাদের বক্তব্য অনুযায়ী বুচা শহরে শয়ে শয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। যার মধ্যে কিছু মানুষকে হাত বাঁধা অবস্থাতেও পাওয়া গেছে।মোট কথা রাশিয়ার আগ্রাশনের পিছনে যে বর্বরতার অভিযোগ উঠে এসেছে তাতে একটি শব্দই বলা যায়, রাশিয়া যে ভাবে তাদের দেশে ধ্বংস লীলা চালিয়েছে তা ইসলামিক স্টেটস গ্রুপের সন্ত্রাসবাদী আচরণের থেকেও কম কিছু নয়। ইউক্রেনের ওপর রুশ আগ্রাসনের পদক্ষেপ হিসেবে বৃহস্পতিবার, ইইউ রাশিয়ান কয়লার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং রাশিয়ান জাহাজগুলির উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির বন্দরে ভীড়তে না পারে। এমনকি রাশিয়ান ব্যাঙ্কগুলির বিরুদ্ধে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞাও কঠোর ভাবে জারি করেছে। পাশাপাশি ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহের জন্য ৫০০মিলিয়ন ইউরো বাড়ানোর প্রস্তাবকে সমর্থনও করেছে ইইউ। তা ছাড়াও ইতিমধ্যেই কালো তালিকাভুক্ত করে, রাশিয়ান এবং বেলারুশিয়ান ব্যক্তিগত মালিকানা ও বড় বড় কোম্পানির সম্পদের ৩০ বিলিয়ন ইউরো ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। এ কথা জানিয়েছে ইইউ-এর ভন ডার লেইন এবং বোরেল


More Stories
সীমান্ত সমস্যা সমাধানে শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত দ্রুত পদক্ষেপে কোন বার্তা?
ভিনগ্রহী তত্ত্ব প্রমাণে ১৬২টি নতুন ফাইল প্রকাশিত
হরমুজ প্রণালী, রান্নার গ্যাস ও তেল এবং ভারত -ইরানের সম্পর্ক