সময় কলকাতা ডেস্কঃ লেটিটিয়া কাই।২৫ বছর বয়সী একজন নারী।তাঁকে নিয়েই অভিনব ফিচার করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।আইভরি কোস্টের এই নারী নিজের মাথার চুল দিয়ে বানান বিভিন্ন ভাস্কর্য।সেই ভাস্কর্য কোথাও পাঠানো যায় না।কোথাও প্রদর্শনীর জন্য রাখাও যায় না।কেননা, তাঁর মাথার চুলই সেই ভাস্কর্যের ধারক।আর এই সব ভাস্কর্যের মাধ্যমে যে নিজের শিল্প আর সৃজনশীলতার দিকটি প্রকাশ করেন।প্রায়ই বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে তিনি নিজের মাথার চুল দিয়ে বানান একাধিক ভাস্কর্য।

লেটিটিয়া কাইয়ের ইনস্টাগ্রামে পাঁচ লাখেরও বেশি ফলোয়ার্স।তিনি তাঁর ভাস্কর্য পোস্ট করলেই তার নিচে ভক্তরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।সম্প্রতি নিজের বোধ আর রাজনীতিকে নিয়ে ‘লাভ অ্যান্ড জাস্টিস’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছেন তিনি।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাই যে এ রকম একটি বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলতে পারবেন, তা কখনো কেউ ভাবেননি।

দ্য গার্ডিয়ানের সঙ্গে নিজের ঘরে বসে জুম মিটিংয়ে কথা বলেছেন কাই।যাতে সঠিক ইংরেজি শব্দটি ব্যবহার করে নিজের মনের কথা প্রকাশ করতে পারেন।কাই বলেন, ‘আমি খুবই সাধারণ একটা মেয়ে যে একসময় তার নিজের শরীরকেই ঘৃণা করেছে।পাশাপাশি কাই জানান, মাত্র তিন বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।খুব বেশি রোগা ছিল সে।ক্লাসে অন্যদের চেয়ে একটু বেশিই কৃষ্ণবর্ণ ছিলেন। তাঁর শরীর, গায়ের রং, চুল—সবকিছু নিয়ে অন্যরা হাসাহাসি করতেন।সেই থেকে নিজের শরীর, গায়ের বর্ণ, চুল অপছন্দ করতেন তিনি।তারপর একদিন বিয়ন্সের একটা গান দেখলেন।এরপরই বিয়ন্সকে নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেন।কয়েকদিনের মধ্যেই বিয়ন্সের ভক্ত হয়ে গেলেন।বদলে গেল তাঁর জীবন আর সৌন্দর্যের দর্শন।এরপর নিজের চুল ভালোবাসতে শুরু করলেন।

মজার ব্যাপার হলো, যখন থেকে সে নিজের চুল ভালোবাসতে শুরু করলেন, তখন থেকে অন্যরাও তাঁর চুলের প্রশংসা করতে শুরু করলেন।প্রায় সবাই বলতেন ‘তোমার এত সুন্দর চুল!তুমি কেন ঢেকে রাখতে?’ এরপর ধীরে ধীরে গায়ের বর্ণ, ওজন, সৌন্দর্য—এগুলো নিয়ে তাঁর ধারণাই বদলে গেল।কৃষ্ণবর্ণের নারী হিসেবে নিজের সৌন্দর্যের ধারণার রাজনীতি ছড়িয়ে দেওয়া শুরু করেন।

কাই বলেন, আমি নিজের চুলকে ভালোবাসা শুরু করতেই আমার গায়ের রং কে ভালোবেসে ফেললাম।তারপর আমার শরীরকে ভালোবাসা শুরু করলাম।নারী হিসেবে আমার যে সত্তা আর শক্তি, সেটিকে ভালোবাসলাম।আর এভাবেই আমি ক্রমে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠলাম।তারপর নিজের ভেতরকার এই শক্তি বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে দেওয়া শুরু করলাম।আমি যেমন একজনকে দেখে নিজেকে আবিষ্কার করেছিলাম, আমি চাই, অন্যরাও আমাকে দেখে তার নিজের শক্তি আর সৌন্দর্য উপলব্ধি করুক


More Stories
চা-বাগানে প্রকাশ্যে লেপার্ডের গরু শিকার
মাটির বুকে স্বর্গ, সাজুর ‘হেভেন’ বাঁচিয়ে রাখার প্রতিশ্রুতি পুলিশ প্রশাসনের
ফাইনালে লাল কার্ড দেখা পারেদেসকে ‘খু*ন করতে চেয়েছিলেন’ মেসি?