সময় কলকাতা ডেস্ক : পেনিলোপ হয়তো নিছক একটি নাম তথাপি খ্রিস্টান সংজ্ঞা আর বাংলা অভিধান মিলিয়ে এই নামের তাৎপর্য পতিব্রতা নারী। তবে নাম যদি পেনিলোপ ক্রুজ সানচেজ হয় আর তিনি যদি ডাকসাইটে এক অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন তবে সেই নামের সঙ্গে অবশ্যই জড়িয়ে যায় সফল দাম্পত্য জীবনের রসায়ন। ব্যক্তি জীবন হোক আর পেশাদারী জীবন হোক, স্পেনদেশীয় অভিনেত্রী পেনিলোপ তাঁর স্বামী জেভিয়ার বার্ডেমের মতই সফল। দুজনে ২০২২ সালে অস্কার পুরস্কারের ইতিহাসে আলোড়ন ফেলে দেন। একই বছরে স্বামী স্ত্রীর সেরা অস্কার অভিনেতা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পাওয়া বিরল নজির। আলাদা আলাদা চলচ্চিত্রে সেরার মনোনয়ন পান তাঁরা।যদিও পেনিলোপ – জেভিয়ার দম্পতি এবার সেরা বিবেচিত হন নি তবুও উল্লেখযোগ্য যে অস্কার পুরস্কার নতুন ছিল না দুজনের কাছে। পেনিলোপ ক্রুজ চারবার অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন, একবার শিরোপাও পেয়েছেন। একের পর এক ছবিতে অভিনয় বিগত বত্রিশ বছর ধরে পেনিলোপকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দিয়েছে যার সামান্য এই প্রতিবেদনে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

নব্বই দশকে পেনিলোপের অভিনীত ‘জ্যামন জ্যামন’ তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। সে সময় যুবকদের হৃদস্পন্দন বাড়ানো শুধু নয়, সমালোচকদের মুগ্ধ করেছিলেন পেনিলোপ।ফিরে তাকাতে হয় নি আর। তাঁর অভিনীত যে চারটি চলচ্চিত্র অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিল তার প্রত্যেকটিতেই নারী পুরুষের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক ফুটে উঠেছে।
২০০৬ সালের “ভলভার”-এ পেদ্রো আলমোডোভার যা উপস্থাপন করেছেন তা সাধারণ ভাবে সম্পর্কের দুর্বোধ্যতা এনে দেয়। বোঝা মুশকিল কার সঙ্গে কার কিরকম সম্পর্ক রয়েছে। অথচ ফিল্মের গভীরে রয়েছে মর্মস্পর্শী বার্তা। শিশু নির্যাতন, গভীর কুসংস্কার এবং মহিলা স্থিতিস্থাপকতার থিম মিশে গিয়েছে , একই সাথে শক্তিশালী এবং আশ্চর্যজনকভাবে হাস্যকর বস্তুর চিত্রায়ন হয়েছে। এসেছে ভৌতিক বাতাবরণ যদিও বাস্তবে সবকিছুই জৈবিক উপাদানে ভরা। রাইমুন্ডার অভিনয়ে পেনিলোপ উজাড় করে দিয়েছেন নিজেকে।
‘ভিকি কৃষ্টিনা বারসেলোনা’ পেনিলোপকে ২০০৮ সালে অস্কার জয়ের খ্যাতি এনে দেয়।কাহিনীর কেন্দ্রীয় চরিত্র তিনি এবং এক আকর্ষণীয় পুরুষকে ঘিরে থাকা তিন মহিলার অন্যতমা। ছবিতে দুই মহিলা বন্ধু, ভিকি এবং ক্রিস্টিনা, গ্রীষ্মের ছুটিতে, একজন সুদর্শন চিত্রশিল্পী জুয়ান আন্তোনিওর সঙ্গে সময় কাটাতে এলেও জানতে পারেন নি তার প্রাক্তন স্ত্রী মারিয়া এলেনা তার জীবনে পুনরায় প্রবেশ করতে চলেছেন। মারিয়া এলেনার ভূমিকায় নারী পুরুষের সম্পর্ককে এক ভিন্নমাত্রিক অভিমুখ দেন পেনিলোপ।

‘নাইন’ অবশ্যই ইতালীয় চলচ্চিত্র পরিচালক গুইডো কন্টিনির পেশাদারী ও ব্যক্তিগত জীবনের সংঘাত যেখানে স্ত্রী, তার ভালোবাসার মানুষ (পেনিলোপ ক্রুজ) এবং তার আস্থাভাজন নারী সহ তার জীবনের অসংখ্য নারীর চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখার ছবি।এখানেও পেনিলোপ জাত চেনান তাঁর শিল্পী সত্তার।
হালে তৈরি হওয়া এবং একাধিক বিশ্বসেরা সম্মান পাওয়া “প্যারালাল মাদার্স ” চলচ্চিত্র দুই মহিলা, জেনিস এবং আনার কথকথা।হাসপাতালের একটি কক্ষে মিলিত হয় হয় দুই নারী যেখানে তারা সন্তান প্রসব করতে চলেছে।দুজনেই অবিবাহিত এবং দুর্ঘটনাক্রমে গর্ভবতী হয়েছিলেন।জেনিস মধ্যবয়সী ফটোগ্রাফার যে এই ঘটনার জন্য অনুশোচনা করে না ।অন্যজন আনা, একজন কিশোরী যে কিনা ভীত, অনুতপ্ত এবং আঘাতপ্রাপ্ত।হাসপাতালের করিডোর দিয়ে যেতে গিয়ে জেনিস বা পেনিলোপ উৎসাহ দেয় আনাকে।জীবনের সিদ্ধান্ত নিতে এই শব্দ বিনিময় ছিল অসামান্য যেখানে প্রধান চরিত্র হিসেবে পেনিলোপ ক্রুজ প্রমান করেছেন তাঁর দক্ষতা।

পেনিলোপ অভিনীত উপরোক্ত চারটি ফিল্ম যা অস্কারে মনোনীত হয়েছিল তা তাকে বহু পুরস্কার ও সম্মান এনে দিয়েছে।তাছাড়াও অজস্র চলচ্চিত্রে অসামান্য অভিনয়ের মাধ্যমে ৪৭ বছর বয়সের মধ্যেই পেনিলোপ ক্রুজ সানচেজ নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী করে তুলেছেন। আজ পেনিলোপের জন্মদিন। তাঁর পেশাদারী জীবনের পাশাপাশি সংঘাতহীন সুখের চিত্র স্বামী -পুত্র -কন্যা (জেভিয়ার,লিও ও লুনা )কে নিয়ে গড়া পারিবারিক জীবন জুড়ে।।


More Stories
ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড যেন যৌনতার ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস
রাজ কিরণ অন্তর্ধান রহস্য
বউ বদল : ময়নাগুড়িতে স্বামী-স্ত্রীর বদলাবদলি নাকি বদলা ?