সময় কলকাতা ডেস্কঃপানীয় জলের সঙ্কটকে কেন্দ্র করে বচসা।মিলছে না সঠিক ভাবে পানীয় জল।জলের জন্য হাহাকার মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের সদর এলাকায়।ঝগড়া,হাতাহাতি যেন সেখানকার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকায় দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে,গত লোকসভা,বিধানসভা ভোটে হরিশ্চন্দ্রপুরের কলম পাড়া,বারোডাঙ্গা,হাসপাতাল পাড়া,বাজার পাড়া, ইত্যাদি এলাকায় বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের ধারে কাছে ছিল না তৃণমূল।এমনকি বিধানসভায় ক্ষমতায় আসার পরেও বিজেপির মাটি এলাকায় বেশ শক্ত।অভিযোগ,বিজেপিকে ভোট দেওয়ায় পানীয় জল থেকে হচ্ছে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকারই কয়েক হাজার পরিবার।বিজেপির দখলে সদর অঞ্চলে যে এলাকাগুলি রয়েছে সেখানে পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট।কিন্তু তৃণমূলের দখলে থাকা আশাপাশের এলাকায় পানীয় জলের কোনো সমস্যা নেই।সেখানে প্রায় ঘরে ঘরে ট্যাপ কল বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।অথচ সদর এলাকায় বিজেপি এক চেটিয়া ভোট পাবার পরেও পানীয় জল থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করা হয়েছে এলাকাবাসীদের।সেখানে প্রায় ১২- ১৫ বছর বা তারও বহু আগে তৈরি হয়েছিল জলাধার বা ট্যাপকল গুলি।বর্তমানে সবই প্রায় অকেজো পরিত্যক্ত।সেই কলগুলিকে সংস্কার পর্যন্ত করা হয়নি বলেই অভিযোগ এলাকাবাসীর।একটি মাত্র ট্যাপ কলের ওপরেই নির্ভর করতে হচ্ছে অসংখ্য পরিবারকে।সেই ট্যাপকলগুলিও আগাছায় ভরে গেছে।পাশাপাশি তাদের অভিযোগ,বহু জায়গায় পানীয় জলের পাইপ ফেটে নষ্ট হয়েছে।বারবার তারা এই নিয়ে পঞ্চায়েত থেকে ব্লক প্রশাসন সর্বত্র অভিযোগ জানালেও ফল মেলেনি।অদ্ভুত কোন এক অদৃশ্য অঙ্গুলি হেলনে পানীয় জলের ব্যবস্থা হতে গিয়েও বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলেই দাবি স্থানীয়দের।এমনকি তীব্র গরমে পুকুরের জল খেতেও বাধ্য হচ্ছেন কেউ কেউ।
যদিও পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট নিয়ে আগামীতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি।এ বিষয়ে বিজেপির অভিযোগ,সদর এলাকা থেকে শাসকদলের ঝুলিতে ভোট না মেলায় বঞ্চিত হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। জেলা বিজেপির সাংগঠনিক সম্পাদক রূপেশ আগারওয়াল খোঁচা দিয়ে বলেন।”কাটমানি পেলে অনেক দিন আগেই বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের ব্যবস্থা হয়ে যেত।”
অন্যদিকে শাসকদলের বিধায়ক তজমুল হোসেন বলেন,‘বিজেপির পায়ের তলায় মাটি নেই,মমতা ব্যানার্জীর উন্নয়ন দেখে ভুলভাল বকছে বিজেপি।২০২৪ সালের মধ্যে বাড়ি বাড়ি ট্যাপ কল বসে যাবে বলেই গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরছেন তারা।আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
এ বিষয়ে পিএইচই দপ্তরের একজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার পৃথ্বীশ ভট্টাচার্য বলেন,”এলাকায় জলের সমস্যা আছে।লোকসংখ্যাও বেড়েছে সেখানে।বেশ কিছু প্রকল্প ধরা হয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুরের সদর এলাকায়।ইতিমধ্যেই পুরোনো প্রকল্পগুলি রেনোভেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”


More Stories
ডিমথেরাপি অশোকনগরের গ্রেফতার চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকারকে
কার্যত ভুল স্বীকার করে নিলেন অভিষেক, সুর নরম কল্যাণের, অভিষেক – কল্যাণ বিবাদ মিটল!
২৮ বছর পরে কংগ্রেসে কি ফিরবেন মমতা?