Home » ৮৪-তে থামল সন্তুরের সুর ঝংকার,শিল্পী শিবকুমার শর্মার জীবনাবসান

৮৪-তে থামল সন্তুরের সুর ঝংকার,শিল্পী শিবকুমার শর্মার জীবনাবসান

সময় কলকাতা ডেস্কঃ ফের সংগীত জগতে নক্ষত্র পতন। প্রয়াত কিংবদন্তি সন্তুরবাদক শিবকুমার শর্মা। মঙ্গলবার নিজের বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। জানা গিয়েছে,শেষ ছ’মাস ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন শিবকুমার।ডায়ালোসিস চলছিল তাঁর।কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জীবনাবসান হল তাঁর।

১৯৩৮ সালের ১৩ জানুয়ারি জম্মুর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে এই শিল্পীর জন্ম। তাঁর বাবা উমা দত্তশর্মাও ছিলেন এক প্রসিদ্ধ সংগীত শিল্পী।বাবার হাত ধরেই সংগীতের জগতে হাতেখড়ি শিবকুমারের। মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকে বাবার কাছে তবলা এবং ভোকালের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন তিনি।বাবার উৎসাহেই মাত্র ১৩ বছর বয়সে সন্তুরের সঙ্গে পরিচয় শিবকুমারের।এরপর সেই সন্তুর বাদ্যযন্ত্রটি নিয়ে চর্চা শুরু হয় তাঁর। পরবর্তীতে জম্মু ছেড়ে মুম্বই চলে আসেন তিনি। ১৯৫৫ সালে সেখানেই জনসমক্ষে প্রথম সন্তুর  বাজিয়েছিলেন শিবকুমার।

শিবকুমারেরর আগে এই ধ্রুপদী সঙ্গীত জগতে সন্তুর বাদ্যযন্ত্রটির তেমন পরিচিতি ছিল না। শিবকুমারই এই সন্তুর যন্ত্রকে ধ্রুপদী সঙ্গীতের মূল ধারায় নিয়ে আসেন । বংশীবাদক হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি একের পর এক বিখ্যাত সুরসৃষ্টি করে গিয়েছেন। সৃষ্টি হয়েছে  ডাউন মেমরি লেনের মত বিখ্যাত অ্যালবাম।বলিউড চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন।  শান্তারামের সিনেমা ‘ঝনক ঝনক পায়েল বাজে’ এবং হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া ও বৃজভূষণ কার্বার সঙ্গে তাঁর অ্যালবাম ‘কল অব দ্য ভ্যালি’ তাঁকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছিল। এছাড়াও ‘সিলসিলা’ ছবিতে হরিপ্রসাদের সঙ্গে তাঁর যুগ্মভাবে সুরারোপ এখনও বলিউড সঙ্গীতের অন্যতম কীর্তি হিসাবে চিহ্নিত হয়। তাঁর পুত্র সন্তান রাহুল শর্মাও এই সন্তুর বাদ্যযন্ত্রটি চর্চা করেন। পিতার কাছেই এটির তালিম নিতেন তিনি।

 

 

About Post Author