Home » “কানমলা খাওয়া উচিত ডিপার্টমেন্টের ,”বাঁকুড়ায় জল প্রকল্প নিয়ে ডিএম-কে ধমক মুখ্যমন্ত্রীর

“কানমলা খাওয়া উচিত ডিপার্টমেন্টের ,”বাঁকুড়ায় জল প্রকল্প নিয়ে ডিএম-কে ধমক মুখ্যমন্ত্রীর

সময় কলকাতা ডেস্কঃ পুরুলিয়ায় কর্মীসভা সেরেই  বাঁকুড়ার রবীন্দ্রভবনে যান প্রশাসনিক বৈঠক করতে। সোমবারের পর মঙ্গলবারও ছিল ঢালাও কর্মসূচি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভের পর এই প্রথম বাঁকুড়া সফরে মুখ্যমন্ত্রী। সাংগঠনিক দিক দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বাঁকুড়া জেলায় বেশ খানিকটা ব্যাকফুটে। স্বাভাবিকভাবেই দলকে চাঙ্গা করতে এবং সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচনকে পাখির চোখ করে জেলা নেতৃত্বের  প্রস্তুতি ছিল তুঙ্গে।

সোমবারই পুরুলিয়ার বৈঠকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বেশকিছু কাজে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার মাটিতে দাঁড়িয়েও সেই একইভাবে বেশকিছু প্রশাসনিক কর্তাদের কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি টেন্ডারগুলিতে এত দেরী হয় কেন ? বৈঠক চলাকালীনই ফের  একবার কাজে ঢিলেমি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন বেশ কিছু দলীয় কর্মী ও জেলা কর্মাধ্যক্ষদের অভিযোগের ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে জেলা সভাধিপতি ও অন্যান্য কর্মীদের উদ্দেশ্যে সাফ জানিয়ে দেন,” কেউ কেউ যদি ভেবে থাকেন ঘনঘন ডিএম-এসপি চেঞ্জ করব, তা ভুল ভাবনা।এই ডিএম-এসপির সঙ্গেই কাজ করতে হবে।”

এ দিনের বৈঠকে ২০১৪ সালে ঘোষিত জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের আওতায় থাকা রায়পুর ব্লকের জল সরবরাহ প্রকল্প শেষ না হওয়া নিয়েও জেলা শাসককে এক হাত নেন মুখ্যমন্ত্রী। সরাসরি জেলাশাসক রাধিকা আইয়ারকে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘২১.২০ কোটি টাকার প্রজেক্ট ২০১৪ সালে ঘোষণা হয়েছিল। আপনারা আমাকে দেখাচ্ছেন আন্ডার প্রসেস?’’ এই প্রশ্নের উত্তরে জেলাশাসক জবাব দেন, ‘‘৮৫ শতাংশ হয়েছে ম্যাম।’’ তার উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘না, এ সব বললে হবে না। আমার প্রজেক্ট পড়ে আছে আট বছর। কানমলা খাওয়া উচিত যে ডিপার্টমেন্ট করছে।’’

এদিনের বাঁকুড়ার বৈঠকেও  কিসান মান্ডিতে ধান ওজনের মেশিনে কারচুপি করে কৃষকদের ঠকানো হয়, এই অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রীকে অনেকে অভিযোগ জানিয়েছে। সেই অভিযোগের চিঠি  পড়েও শোনান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সরকারি কর্তারা কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনেন না, যার জন্য কৃষকরা আড়তদারদের কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হন। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, এখন থেকে সরকারি নোডাল অফিসার কিসান মান্ডিতে ওজনের যন্ত্র পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেবেন এবং প্রতিটি মান্ডিতে বসাতে হবে সিসিটিভি। সমস্যাগুলি সঠিকভাবে সমাধানের জন্য লাল-হলুদ-সবুজ খাতা তৈরির নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাঁকুড়ার প্রশাসনিক বৈঠক থেকেই বাংলার ডেয়ারি শিল্প প্রসারে উদ্যোগ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী দিনে শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডেই ডেয়ারি স্টল তৈরির কথা জানান তিনি। উল্লেখ্য, অন্যদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজের রাজ্যের উত্পাদনেই বেশি জোড় দেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন এই সভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলার কৃষকদের কাছ থেকেই দুধ কেনে বাংলার ডেয়ারি। বুধবার বাঁকুড়াতেই কর্মী সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। সেখান থেকেই দলীয় কর্মীদের উদ্দ্যেশ্যে কি বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী, সেদিকেই তাকিয়ে জেলা বাসী ।

About Post Author