সময় কলকাতা ডেস্কঃ ফের ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে ভারতকে সমর্থনের আশ্বাসবাণী শোনাল পড়শি দেশ আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। জুনের প্রথম সপ্তাহে কাবুলে তালিবান সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সেখানেই পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গ উঠা আসে। তারপরই আফগানিস্তান সরকারের থেকে সাফ জানানো হয় আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে কোনও তৃতীয় পড়শি দেশের মধ্যে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বরদাস্ত করবে না তাদের সরকার ।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, কাবুলে জুনের প্রথম সপ্তাহে আফগান-পাক বিশেষজ্ঞ তথা প্রবীণ কূটনীতিক জে পি সিং-এর নেতৃত্বে তালিবান সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসে ভারতীয় প্রতিনিধি দল।তালিবানি আখুন্দাজাদা দলের তরফে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোল্লা ইয়াকুব, অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানি, বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুস্তাকি-সহ শীর্ষ আধিকারিকরা। ওই বৈঠকেই তালিবান সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয় যে উপযুক্ত প্রমাণ তাদের হাতে তুলে দিলে লস্কর-ই-তইবা ও জইশ-ই-মহম্মদের মতো পাক জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য গত মে মাসে তাজিকিস্তানের দুশানবেতে আফগানিস্তান ও তার পড়শি দেশ পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে চিন, রাশিয়া, ভারত, ইরান, তাজিকিস্তান, কিরঘিজস্তান, কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তান এক আলোচনায় বসে। ওই বৈঠকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল অভযোগ জানিয়েছিলেন যে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাক মদত পুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী ভারতের মাটিতে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। এর ফলে দেশের মধ্যে শান্তি ও স্থায়িত্ব বিঘ্নিত হচ্ছে।
কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বেশ কয়েক মাস আগে রাষ্ট্র সঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি রিপোর্টে বলা হয় যে জইশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তইবাকে আফগানিস্তানে মদত দিচ্ছে তালিবানরা। রিপোর্টে আরও বলা হয় যে এই জঙ্গি সংগঠন গুলিকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আফগানিস্তান। এই দেশে জইশের আটটি ট্রেনিং ক্যাম্প রয়েছে। যার নিয়ন্ত্রণের ভার রয়েছে তালিবানদের হাতে। সুতরাং আফগানিস্তানের তালিবানি আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
হরমুজ প্রণালী, রান্নার গ্যাস ও তেল এবং ভারত -ইরানের সম্পর্ক