Home » তব অচিন্ত্য স্বর্ণ শোভিত মহিমা

তব অচিন্ত্য স্বর্ণ শোভিত মহিমা

সময় কলকাতা ডেস্কঃ কমনওয়েলথ গেমস না থাকলে বোধহয় ভারোত্তোলন বলে কোনও খেলা থাকতে পারে, তা বেশিরভাগেরই অজানা থাকে। প্রতি চার পাঁচ বছরে এক আধবার এই খেলার খবর প্রকাশিত হয়। আর সেই খেলাতেই একের পর এক পদক জিতে আসছেন ভারতীয় অ্যাথলিটরা। আর সেইসব কৃতি অ্যাথলিটদের সঙ্গে এবার নাম জুড়ল পশ্চিমবঙ্গের অচিন্ত্য শিউলিরও। যার চোট পেয়ে এই ইভেন্টে প্রদর্শন করাটাই প্রায় অনিশ্চিত হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু এত বাধা পেরিয়ে তিনি এলেন। দেখলেন। জয় করলেন। রবিবার মধ্যরাতে পুরুষদের ৭৩ কেজি ভারোত্তোলন ইভেন্টে নেমে প্রথম চেষ্টাতেই তিনি ১৩৭ কেজি ভার তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। এরপর থেকেই হাওড়ার দেউলপুরের বাড়িতে কার্যত উৎসবের মেজাজ ধরা পড়ছিল। ধীরে ধীরে অচিন্ত্য শিউলি ধাপে ধাপে স্ন্যাচের দ্বিতীয়বারে যখন ১৪০ কেজি তুলে ফেললেন অবলীলায়, গোটা স্টেডিয়াম তখন ঐতিহাসিক মুহূর্তের অপেক্ষায়। কারণ তিনি দ্বিতীয়বারের চেষ্টাতে তো সাফল্য পেয়েইছিলেন। পাশাপাশি গড়ে ফেলেছিলেন কমনওয়েলথ রেকর্ড। তৃতীয় প্রচেষ্টায় ১৪৩ কেজি তুলে নিতেই সোনা জয়ের পথ যেন পরিস্কার দেখতে পারছিলেন উপস্থিত দর্শকরা।

প্রথম ধাপ অবলীলায় পেরিয়ে গেলেও ক্লিন এবং জার্ক বিভাগে জয় ছিনিয়ে আনতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল অচিন্ত্য শিউলিকে। এদিন তিনি প্রথমবার ১৬৬ কেজি তুলতে সক্ষম হলেও দ্বিতীয়বার ১৭০ কেজি তুলতে ব্যর্থ হন। স্টেডিয়ামের রীতিমত হাত কামড়ানোর মত পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিন্তু আশঙ্কার কালো মেঘ কাটিয়ে তৃতীয়বারের চেষ্টায় সেই ওজন তুলে গেমস রেকর্ড গড়ে নেন অচিন্ত্য। গোটা ইভেন্টে মোট ৩১৩ কেজির ভারোত্তোলন করে রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করে নেন। মধ্যরাতের সন্ধিক্ষণে নতুন সূর্যোদয় দেখলেন ভারতবাসী।

অচিন্ত্যর বাবা নেই। মা টেনেটুনে সংসার চালিয়েছেন। দাদা অলোক শিউলি দমকল দফতরের অস্থায়ী কর্মী। ঘরের ছোট ছেলেটার মন ভারোত্তলেন পড়ে থাকত বলে দুশ্চিন্তা একটু হলেও হত তাঁদের। কিন্তু অচিন্ত্য থেমে থাকেনি। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপের দু’টি বিভাগে জোড়া সোনা, যুব এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে রূপো, বাংলার হয়ে তিনটি সোনা-সহ মোট আটটি পদক। দাদার হাত ধরেই এই খেলায় মন দিতে শিখেছিলেন অচিন্ত্য। ২০১০ সালে অলোক ভারোত্তোলনের অনুশীলন শুরু করেন। ২০১১ সালে ছোট ভাইকেও সঙ্গে নিয়ে যেতেন তিনি। ২০১২ সালে জাতীয় প্রতিযোগিতায় দুই ভাই অংশগ্রহণ করলে অচিন্ত্য চতুর্থস্থানে জায়গা করে নেয়। এরপর থেকে শুরু হয় এক অসম লড়াই। ২০১৩ সালে হরিয়ানায় জাতীয় গেমসে ব্রোঞ্জ জেতেন অচিন্ত্য। লড়াই জারি ছিল। হঠাৎই ২০২০ সালে অচিন্ত্যর ভাগ্য খুলে যায়। ২০২৪-এর প্যারিস অলিম্পিক্সের সম্ভাব্য পদকজয়ী হিসেবে টার্গেট অলিম্পিক্স পোডিয়ামে (টপ্‌স) তালিকায় নাম রয়েছে তাঁর। তাই কমনওয়েলথে থেমে থাকা অচিন্ত্যর দস্তুর নয়। ওঁর চোখে এখন প্যারিস অলিম্পিক ভাসছে। তাই আগামীর লড়াইয়ের জন্য হাওড়ার অচিন্ত্য শিউলির জন্য রইল শুভেচ্ছা।

About Post Author