সময় কলকাতা ডেস্ক:বরুণের রোষে বিপর্যস্ত দেশের একাধিক রাজ্য। পৌরাণিক মতে জলের দেবতা বরুন, তামিল ব্যাকরণ টলকাপ্পিয়মে লেখা রয়েছে সমুদ্র ও বৃষ্টি দেবতা বরুন। সেই বরুণ যেন আচমকাই ক্রুদ্ধ হয়ে রুদ্ররূপ ধারণ করেছে। কখনো মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টি অর্থাৎ মেঘে বিস্ফোরণ আবার কোথাও অবিরাম বৃষ্টির কারণে বন্যা পরিস্থিতি, প্রবল বৃষ্টির জলে নদী নিয়েছে রুদ্ররূপ। আবার কোথাও লাগাতার বৃষ্টিতে হচ্ছে ভূমিধস। সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে পাহাড় থেকে সমতলে। শনিবারের লাগাতার বৃষ্টির কারণে এখনো পর্যন্ত পাহাড় থেকে সমতলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৫।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক কোন রাজ্যের কি পরিস্থিতি
হিমাচল প্রদেশ
হিমাচল প্রদেশে মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টির জেরে কাংরা জেলার চাক্কি নদীর উপর রেলের ব্রিজ ভেঙে যায়। চাক্কি নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে যায় রেলের ভাঙ্গা অংশের কিছু অংশ। পাঠানকোট এবং ভগিন্দর নগরের মধ্যে ট্রেন পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ। এখনো পর্যন্ত হিমাচল প্রদেশে ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে ১৬ জন এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ। ধর্মশালায় মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টির কারণে কুলু ,মান্ডি, কাংরা এলাকায় একাধিক জায়গায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।

উত্তরাখণ্ড
শনিবারের লাগাতার বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পর্বতরাজ্য উত্তরাখন্ড। মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টির জেরে নদীর জলের প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়েছে জনপদ, ভেঙে গেছে ব্রিজ, রাজ্যের একাধিক জায়গায় ধসের কারণে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের নিখোঁজ ১০ জন। ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকার মানুষজনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ জায়গায়। উত্তরাখণ্ডের পাউরী জেলার সমস্ত বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে। কেমটি জলপ্রপাত ভয়ংকর রূপ ধারণ করে ভাসিয়ে দিয়েছে তার আশেপাশের অঞ্চল। দেরাদুনের তপকেশ্বর মহাদেব টেম্পেলের পার্শ্বস্ত এলাকা বন্যা প্লাবিত। স্যালওয়েন নদী বইছে বিপদসীমার উপর দিয়ে। ভেঙে গেছে নদীর ব্রিজ। বাগেশ্বরে ভয়াবহ ভূমিধসে কয়েকটি বাড়ি সারউ নদীর কবলে চলে গিয়েছে। ঋষিকেশ -বদ্রিনাথ মহাসড়ক তোটাঘাটিতে ভূমিধসের কারণে অবরুদ্ধ হয়েছে। ঋষিকেশ- গঙ্গোত্রী মহাসড়ক নাগনীতে এবং নরেন্দ্রনগর- রানীপোখরির রাস্তা বন্ধ রয়েছে ভূমিধসের কারণে। ইতিমধ্যে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর, এনডিআরএফ ও এসডিআরএফ নেমে পড়েছে উদ্ধারকার্যে। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বিভিন্ন দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং সরকারিভাবে সমস্ত রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।

ঝাড়খন্ড
দিঘার থেকে ২২৭ কিলোমিটার দূরে এবং উড়িষ্যা থেকে 122 কিলোমিটার দূরে যে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছিল সেই নিম্নচাপ শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই ঝাড়খণ্ডের দিকে অগ্রসর হয়েছিল। শনিবার ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। ঝাড়খন্ডে গত জুন মাস থেকে ১৯শে আগস্ট পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪৩৬.৬ এম এম। শনিবার এবং রবিবার প্রবল বৃষ্টি হতে পারে রাঁচি ,সরাইকেলা ,গুম, হাজারীবাগ সংলগ্ন এলাকায়। শনিবার সকাল থেকেই অঝোর ধারায় বৃষ্টি পড়ছে ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। শনিবার খারাপ আবহাওয়ার কারণে দুপুর ২টো পর্যন্ত ২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে রাঁচির বিরসা মুন্ডা বিমানবন্দরে । শনিবার সকালে পশ্চিম সিংভূম জেলায় বৃষ্টির কারণে একটি মাটির বাড়ি ভেঙে এক মহিলার মৃত্যু ঘটেছে।
উড়িষ্যা
উড়িষ্যায় ইতিমধ্যেই মহানদীর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ৫০০টি গ্রামের প্রায় ৪ লক্ষ মানুষ এই বন্যা পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। উড়িষ্যার উত্তরের কিছু অংশে বৃষ্টিপাতের কারণে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে ।ভুবনেশ্বর বাজারে একাধিক অংশ জলে নিভগ্ন। সুবর্ণরেখা, বুধবালং, বৈতরণী এবং সালসি নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। শুক্রবার রাত থেকেই বালাসোর, কেওনঝাড় এবং ময়ূরভঞ্জে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।
মধ্য প্রদেশ
মধ্যপ্রদেশে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।নরসিংহপুর, দামোহ, সাগর এবং ছতারপুর জেলার জন্য লাল সতর্কতা জারি করেছে ১১৫.৬মিমি বা তার বেশি বৃষ্টিপাতের সতর্কতা, এবং রাজ্যের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের পূর্বাভাস দিয়ে একটি কমলা সতর্কতা এবং একটি হলুদ সতর্কতা ঘোষণা করা হয়েছে আবহাওয়া দপ্তর থেকে।ভোপাল, নর্মদাপুরম, রেওয়া, গোয়ালিয়র এবং চম্বল বিভাগের জেলাগুলির বিচ্ছিন্ন জায়গায় এবং জবলপুর সহ আরও ১৮টি জেলায় ৬৪.৫ মিমি থেকে ২০২.৪ মিমি পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে আবহাওয়া দপ্তর থেকে।
জম্মু-কাশ্মীর
জম্মু-কাশ্মীরের রিয়াসি জেলার ত্রিকুটা পাহাড়ের চূড়ায় বিখ্যাত মাতা বৈষ্ণোদেবী মন্দির এর যাত্রা প্রবল বৃষ্টির কারণে বন্ধ রাখা হয়েছিল। হিমকোটি ট্রাক যা ব্যাটারী কার ট্রাক বা নতুন ট্রাক নামেও পরিচিত, সেই ট্রাকও বন্ধ রাখা হয়েছিল। খারাপ আবহাওয়ার কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে হেলিকপ্টার পরিষেবা ।
ছত্রিশগড়
ছত্রিশগড়ে স্বাধীনতা দিবসের দিন অর্থাৎ ১৫ ই আগস্ট থেকেই ভয়াবহ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। মাঝে মাঝে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি আবার কোথাও অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে বিভিন্ন জেলায়। ১৫ ই আগস্ট ছত্রিশগড়ের কানকের জেলায় একটি মাটির বাড়ি ভেঙে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবারও প্রবল বর্ষণের কারণে রায়পুর এলাকার শরখেত গ্রামে শনিবার সকালেই ক্লাউড বাস্ট হয়েছে অর্থাৎ মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টি, সেই বৃষ্টির কারণে থানোর কাছে সং নদীর উপর একটু সেতু ভেঙে যায়।
পশ্চিমবঙ্গ
উড়িষ্যা এবং দীঘার সমুদ্রতট সংলগ্ন অঞ্চলে সৃষ্টি হওয়া অতি নিম্নচাপের কারণে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী এবং অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে শুক্র এবং শনিবার। সন্দেশখালির দুটি গ্রামে আচমকাই টর্নেডোর ফলে প্রায় ২০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাওড়া, হুগলি ,উত্তর 24 পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ,নদিয়া, মালদা ,মুর্শিদাবাদ সহ আরো কয়েকটি জেলায় প্রবল বর্ষণের কারণে একাধিক জায়গা জলে নিমগ্ন। একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সুন্দরবনের সংলগ্ন অঞ্চলে একাধিক নদী বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রায় দশটি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত।
এছাড়াও রাজস্থান, গুজরাট, বিহার ত্রিপুরার বিভিন্ন অঞ্চলে হলুদ সর্তকতা জারি করা হয়েছে।
আরো যে সমস্ত অঞ্চলে লাল- হলুদ সর্তকতা জারি করা হয়েছে তার তালিকা
রবিবার, 21 আগস্ট: মধ্যপ্রদেশের সাতনা, আন্নুপুর, ডিন্ডোরি, বেতুল এবং হারদা; ছত্তিশগড়ের কাঙ্কের, নারায়ণপুর, বস্তার, দান্তেওয়াড়া এবং বিজাপুর, মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর, গদচিরোলি, গোন্দিয়া ও ভান্ডারা
সোমবার, 22 আগস্ট: মধ্যপ্রদেশের শাহদোল, আন্নুপুর, নরসিংহপুর, সিওনি, ছিন্দওয়ারা; ছত্তিশগড়ের কাঙ্কের, নারায়ণপুর, বস্তার, দান্তেওয়াড়া এবং বিজাপুর; মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর, গদচিরোলি, গোন্দিয়া ও ভান্ডারা


More Stories
কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটারে ৪ পয়সা কমল, ডিজেল বাড়ল ৯৪ পয়সা
পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান খ*তম , কে এই হামজা?
ককরোচ জনতা পার্টির এক্স হ্যান্ডেল নিষিদ্ধ!