Home » জানলে অবাক হবেন কিভাবে চলছে গরু পাচার

জানলে অবাক হবেন কিভাবে চলছে গরু পাচার

সময় কলকাতা ডেস্ক:

সিবিআই তৎপরতার মাঝেই চলছে গরু পাচার। কিন্তু কিভাবে চলছে গরু পাচার? পুলিশ আর সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিতে পাচারকারীরা নিয়েছে অভিনব পদ্ধতি। কি সেই পদ্ধতি? শুনলেও অবাক হবেন। এতদিন সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল লরি বোঝাই করে গরু পাচার হয়। কখনো ভ্যানে করেও গরু পাচারের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। কিন্তু এই অভিনব পদ্ধতিতে গরু পাচার? তাও রাজ্য যখন গরু পাচারের বিরুদ্ধে সিবিআই লাগাতার তল্লাশি চালাচ্ছে।

গরু পাচার নিয়ে কি ঘটেছে?

সিবিআই তৎপরতায় গরু পাচারকারীদের মধ্যে এখন ত্রাহি ত্রাহি রব। সিবিআই এর জালে রাজ্যের কুখ্যাত গরু মাফিয়া এনামুল হক। গরু পাচারে সহযোগিতা করা এবং পাচারের কার্টেল মানি খাওয়ার অভিযোগে সিবিআই হেফাজতে বীরভূমের দৌড়দণ্ড প্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। যার কথায় বীরভূমে বাঘে গরুতে জল খেত এক ঘাটে, তিনি আজ গরু পাচার কাণ্ডে সিবিআই এর জালে। প্রতিদিনই প্রকাশ্যে আসছে তার একাধিক সম্পত্তির হদিশ। কখনো ব্যাংকে অগাধ টাকা আবার কখনো একাধিক রাইস মিল আবার কখনো ডাম্পারের হদিশ। গরু পাচার কাণ্ডে দুর্নীতির পাঁকে ডুবে গিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল, প্রকাশ্যে আসা সমস্ত তথ্য সে কথাই প্রমাণ করে।

আবার কি হচ্ছে গরু পাচার? আর কিভাবে হচ্ছে গরু পাচার?

সিবিআই তৎপরতায় কিছুদিনের জন্য গরু পাচারকারীরা থমকে গেলেও আবার শুরু হয়েছে গরু পাচার। তবে এবার পাচারকারীরা তাদের চেনা ছকের বাইরে গিয়ে নিয়েছে এক অভিনব পদ্ধতি। প্রবাদ আছে সাপও মরবে লাঠিও ভাঙবে না, এই প্রবাদকেই যেন রপ্ত করে নিয়েছে গরু পাচারকারীরা। অর্থাৎ তারা গরু পাচার করবে অথচ সাধারণ মানুষ থেকে প্রশাসন কেউ বুঝবে না। সেটা কিভাবে সম্ভব? এই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছে গরু পাচারকারীরা। গাড়িতে করেই হচ্ছে গরু পাচার কিন্তু প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে ,আর তার কারণ? গরু পাচারকারীরা এবার ব্যবহার করছে, ডাক পার্সেল লেখা কন্টেনার গাড়ি। যে কন্টেনারে করে ভারত সরকারের ডাক পার্সেল দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছায়, সেই ডাক পার্সেল লেখা কন্টেনার গাড়ি করেই গরু পাচারকারীরা করছে গরু পাচার।

কিভাবে ধরা পড়লো গরু পাচারকারীরা

ঝাড়খন্ডের কয়েকটি যুবকের কাছে খবর ছিল ডাক পার্সেল লেখা কন্টেইনারে করে বিহারের ওউরাঙ্গাবাদ ও চৌসার হাট থেকে গরু এনে পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছে। নির্দিষ্ট গাড়ির নাম্বারের তথ্য নিয়ে ওই যুবকেরা দিল্লি কলকাতা জাতীয় সড়কের ধানবাদের বারওয়াদা থানার কিষাণ চকের কাছে গাড়িটি ধরে ফেলে। ডাক পার্সেল লেখা কন্টেইনারটিতে পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে গরু। যুবকেরা খবর দেয় স্থানীয় পুলিশ ও জেলার শীর্ষ পুলিশের আধিকারিকদের।

পুলিশ কি তৎপর?

ঘন্টার পর ঘন্টা যোগাযোগ করার পরেও পুলিশ না আসায়, যুবকেরা কন্টেইনারটি নিয়ে বারওয়াদা থানার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। গরু পাচারকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের অবৈধ যোগ সাজসের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এক্ষেত্রেও প্রশাসনের গড়িমসি সেকথাই প্রমাণ করে। গরু চোরাচালান বন্ধ করা এবং চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ওই যুবকেরা।
যে কাজটা করার কথা প্রশাসনের সেই কাজ করছে এলাকার যুবকেরা অথচ প্রশাসন সম্পূর্ণ উদাসীন, কেন? গরু পাচার কাণ্ডে রাজ্য তোলপাড় হলেও এখনো গরু পাচারকারীরা সক্রিয় তার কারণ প্রশাসনের সঙ্গে তাদের অবৈধ যোগসাজস আর রাজনৈতিক নেতাদের অদৃশ্য প্রভাব। গরু পাচার চক্র এক বেআইনি কোটি কোটি টাকার অসাধুচক্র। যে টাকার ভাগ প্রশাসন থেকে নেতা সবার কাছেই পৌঁছায়। ফলে সিবিআই তৎপরতা যতই বাড়ুক গরু পাচার কতটা বন্ধ হবে তা নিয়ে রয়ে গিয়েছে প্রশ্ন।

About Post Author