সময় কলকাতা ডেস্ক:বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই পাকিস্তানের ভয়াবহ বন্যার কারণে বিপর্যস্ত জনজীবন। বালুচিস্তান ,খাইবার পাখতুনখোয়া, সিন্ধু প্রদেশ সহ একাধিক জায়গায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা। এখনো পর্যন্ত সরকারি হিসাব অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ১০০০ ছাড়িয়েছে।
ভয়াবহ বন্যায় নিমেষে ভেসে গিয়েছে বহু বাড়িঘর ,গবাদি পশু, একাধিক জায়গা জলমগ্ন। ফলে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। একেই দেশের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ভগ্নপ্রায়, চরম আর্থিক সংকটে ভুগছে দেশ। তারই মাঝে এই ভয়াবহ বন্যা কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে।

ছবি রয়টার্স
বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই দেশের এই আর্থিক সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল অর্থাৎ আই এম এফ থেকে ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে আলোচনা শুরু করেছিল শাহবাজ শরীফ সরকার। কিন্তু সেই আলোচনায় কার্যত জল ঢেলে দিয়েছে এই ভয়ংকর বন্যা।
কি বলেছেন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী?
চলতি সপ্তাহের সোমবার পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল একটি সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছিলেন আকস্মিক এই বন্যার ফলে উৎপাদনযোগ্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট সেক্ষেত্রে ভারত থেকে শাকসবজি এবং অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী আমদানির বিষয় নিয়ে বিবেচনা করা হতে পারে। ভারত থেকে যদি শাক সবজি এবং খাদ্য আমদানি করতে হয় সেক্ষেত্রে আমরা আলোচনা করব।
কি বলেছেন পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী?
যদিও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এই আমদানি করার সম্ভাবনাকে ঝুলিয়ে রেখে জানিয়েছেন “ভারতের সাথে বাণিজ্য নিয়ে সমস্যা হবে না। তবে সেখানে গণহত্যা চলছে এবং কাশ্মীরীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ৩৭০ ধারা বিলুপ্তির মাধ্যমে কাশ্মীরকে জোরপূর্বক সংযুক্ত করা হয়েছে। জম্বু কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার এবং অঞ্চল দুটিকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার জন্য ভারতের ২০১৯ সালের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে শরীফ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বসতে এবং কথা বলতে প্রস্তুত ।

আমরা যুদ্ধ সহ্য করতে পারি না। আমাদের নিজ নিজ দেশে দারিদ্র্য বিবেচনার জন্য আমাদের স্বল্প সম্পদ উৎসর্গ করতে প্রস্তুত, এই সমস্যাগুলোর সমাধান না করে আমরা শান্তিতে থাকতে পারবো না।
আন্তর্জাতিক মহলের মত
শরীফের এই মন্তব্যের পরেই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহলের মতে পাকিস্তান অনেকটাই “ভাঙবো তবু মচকাবো না “নীতি নিয়েছে। একদিকে ভারতের থেকে সাহায্য নিতে কিছুটা হলেও সম্মত পাকিস্তান আর অন্যদিকে সাহায্যের পাশাপাশি কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়েও বিগত দিনের অবস্থানেই অনড়।
পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা
দেউলিয়া ঘোষনার দোড়গোড়ায় দাঁড়িয়ে দেশ। দেশের চরম আর্থিক সংকট থেকে বাঁচার জন্য ঋণ নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই পাকিস্তানের। ঋণের জন্য টাকার সংস্থান করতে খোদ সেনাপ্রধান ছুটছেন মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে। পাকিস্তান সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়ার সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমির শাহির একাধিক দেশের সঙ্গে ঋণ নিয়ে কথা বলেছেন। ঋণের জন্য বেল আউট গ্যারান্টারের প্রয়োজন। এ ব্যাপারেও আমেরিকার সঙ্গে কথা বলেছিলেন পাক সেনা প্রধান। আরে গ্যারান্টার হওয়ার জন্যই মূলত আরব আমিরশাহীর দেশগুলির সঙ্গে কথা চালাচ্ছিলেন সেনাপ্রধান।
ইতিমধ্যেই বন্যা দুর্গত এলাকার জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে পাকিস্তান সরকার।। বলুচিস্তানের জন্য পাকিস্তান মুদ্রায় ১০০০কোটি টাকা এবং সিন্ধু প্রদেশের জন্য ১৫০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। চরম আর্থিক সংকটের থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে যে ঋণের জন্য আবেদন করা হয়েছিল সেই ঋণের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের কর ব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের থেকে জানানো হয়েছে দেশের কর ব্যবস্থার আমূল সংস্কার না করলে ঋণ প্রদান সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে কর্মসংস্কারের পথে পাক সরকার হাঁটলে আরো আর্থিক খারাপ সময় দেখতে হতে পারে পাকিস্তানকে।
অন্যদিকে তেহরিক-ই- তালিবানের সঙ্গে লাগাতার সংঘর্ষের কারণেও ক্ষয়ক্ষতি সম্মুখীন হতে হচ্ছে পাকিস্তানকে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং চীন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে ঋণ প্রাপ্ত না হলে দেশের খাদ্য সংকট মেটাতে ভারতবর্ষের দ্বারস্থ হতে হবে পাকিস্তানকে এমনই মনে করেছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহল।


More Stories
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?
বোমা-বন্দুক আনব, তৃণমূল নেতাদের গণপিটুনির হুঙ্কার দিলীপ ঘোষের