পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা : এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি শ্রীলঙ্কা। গত কয়েকমাস ধরে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতবিক্ষত শ্রীলঙ্কা নামক ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রটির মানুষজন। প্রশ্ন, দেশবাসীর ক্ষতে প্রলেপ দিয়ে কিছুটা হলেও তাদের মানসিকভাবে চাঙ্গা করতে পারবে কি শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বাহিনী?
শ্রীলঙ্কার দেশবাসী ভালো কিছু আশা করতেই পারেন কারণ দাসুন শানাকার নেতৃত্বে দারুণ ছন্দে শ্রীলঙ্কা বাহিনী।ইতিমধ্যেই ভারত,বাংলাদেশকে অবলীলায় হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। সুপার ফোরের শেষম্যাচে পাকিস্তানকেও হারিয়ে তারাই ফাইনালে ডার্ক হর্স। এবারের এশিয়া কাপ জিতলে ষষ্ঠ বার চ্যাম্পিয়ন হবে তারা। একমাত্র ভারত ইতিপূর্বে ৬ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এশিয়া কাপে পাকিস্তানের সাফল্য তুলনামুলক কম । ২ বারের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান না ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা কারা বিজয়ীরা শেষহাসি হাসে তা দেখার জন্য তাকিয়ে থাকতে হবে রবিবাসরীয় মরুশহরের ময়দানের লড়াইয়ের দিকে।

এবার এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কা প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে পর্যুদস্ত হলেও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। প্রথম ম্যাচ বাদ দিলে প্রতিটি ম্যাচে তারা পূর্ণ কর্তৃত্ব দেখিয়েছে। ২০২২সালের এশিয়া কাপ কি তাদের মুকুটে নতুন পালক আনছে?সংক্ষেপে দেখে নেওয়া যাক তাদের ক্রিকেট ইতিহাস ও সাফল্যের খতিয়ান।
শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ঐতিহ্য প্রাচীন হলেও শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে শুরু করে ১৯৭৫ সাল থেকে। ১৯৭৫ সালের একদিনের বিশ্বকাপে তারা অংশ নেয়। সে সময় অধিনায়ক ছিলেন অনুরা তেন্নেকুন । টেস্ট খেলার স্বীকৃতি পায় আজ থেকে ৪১ বছর আগে,১৯৮১ সালে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কলম্বোয় ৭ উইকেটে হেরে যায় শ্রীলঙ্কা। এখনও পর্যন্ত সংখ্যাতত্ত্ব বলছে, ৩০৭ টি টেস্ট খেলে শ্রীলঙ্কার ঝুলিতে ৯৮ টি জয় আর ১১৭ টিতে হার।একদিবসীয় ম্যাচ বা টি টোয়েন্টি ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখলেও দেখা যাবে চল্লিশ শতাংশ বা তার বেশি সাফল্য রয়েছে শ্রীলঙ্কার।টেস্টে প্রথম অধিনায়ক ছিলেন বান্দুলা ওয়ারনাপুরা।তিনি শ্রীলঙ্কাকে টেস্টে জয় এনে দিতে না পারলেও তাঁর নেতৃত্বে এক দিনের ম্যাচে জিতে প্রথম আন্তর্জাতিক জয়ের স্বাদ পায় শ্রীলঙ্কা । অতঃপর অধিনায়কের দায়িত্ব পান দলিপ মেন্ডিস।দলিপ মেন্ডিসের নেতৃত্বে প্রথম টেস্ট জয় পায় শ্রীলঙ্কা। ১৯৮৫ সালে ভারতকে তিন টেস্টের সিরিজে ১-০ ফলে হারিয়ে সিরিজ জিতে নেয় তারা। ওই সিরিজে দলিপ মেন্ডিস ছাড়াও রয় ডায়াস অসাধারণ ব্যাট করেন।শ্রীলঙ্কা বিশ্ব ক্রিকেট মানচিত্রে সমীহ জাগানো নাম হয়ে ওঠে অর্জুন রণতুঙ্গার অধিনায়কত্বে।আশির দশকের মধ্যভাগ ও নব্বইয়ের দশকে একের পর এক দুর্দান্ত ক্রিকেটার উঠে আসেন শ্রীলঙ্কায়। অরবিন্দ ডি সিলভা, মুথাইয়া মুরলীথরণ, চামিন্ডা ব্যাস, সনৎ জয়সূর্যা, মাহেলা জয়বর্ধনে ও পরের দিকে কুমার সাঙ্গাকারা এবং রঙ্গনা হেরাথ গড়েছেন প্রচুর বিশ্বরেকর্ড। রণতুঙ্গা অধিনায়ক থাকাকালীন বেশ কিছু স্মরণীয় জয় পায় দ্বীপ রাষ্ট্রটি ।১৯৯৬ সালে তাঁর নেতৃত্বে একদিনের বিশ্বকাপ ও জিতে নেয় শ্রীলঙ্কা । পাকিস্তানের মাটিতে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাটে-বলে অসামান্য পারফরম্যান্স করেছিলেন অরবিন্দ ডি সিলভা। তারপর অনেক অধিনায়ক এসেছেন ও সরে গিয়েছেন। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে সবচেয়ে সাফল্য এসেছে সনৎ জয়সূর্যা ও মাহেলা জয়বর্ধনের সময়। দুজনেই ৩৮ টি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করে ১৮ টি করে ম্যাচে দেশকে জয় এনে দিয়েছেন। টি টোয়েন্টি যুগ শুরু হওয়ার পরে শ্রীলঙ্কার দাপট আরও বাড়ে।টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে
লাসিথ মালিঙ্গার নেতৃত্বে ২০১৪ সালে জয়ী হয় শ্রীলঙ্কা।ভারতকে হারিয়ে ঢাকার মাঠে বিশ্বজয়ের খেতাব পায় তারা। সেদিন ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হয়েছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা। ২০১৪ সালের ফাইনালে তাঁর ঝোড়ো ইনিংস জয় এনে দেয় শ্রীলঙ্কাকে।২০১৪ সালেই শেষবার এশিয়া কাপ জিতেছিল।সেবার অধিনায়ক ছিলেন এঞ্জেলো ম্যাথিউস।

২০১৪ সাল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের পক্ষে দারুণ কেটেছিল।৮ বছর বড়মাপের টুর্নামেন্ট জেতে নি শ্রীলঙ্কা। অর্থনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত দেশটির ২কোটি ২০লক্ষ দেশবাসীকে দাসুন শানাকা বাহিনী মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকার রসদ রবিবার দিতে পারেন কিনা এখন সেটাই দেখার। শ্রীলঙ্কার সাফল্যের আশায় তাদের দেশবাসী তাকিয়ে, তাকিয়ে বিশ্ববাসীও।।


More Stories
লালহলুদের ইলিশ উৎসব ধূপগুড়িতে
আকিব নবীর হয়ে সরব বেঙ্গসরকার, তাঁর দাবি ঘরোয়া ক্রিকেট বন্ধ করে দেওয়া হোক
প্লে-অফে যেতে হলে কেকেআর-কে কী করতে হবে? কলকাতার সামনে কোন পথ খোলা?