Home » লেখকের অক্লান্ত কলম ও ‘যাও পাখি’

লেখকের অক্লান্ত কলম ও ‘যাও পাখি’

রবিবাসরীয় গ্রন্থ আলোচনা

বিখ্যাত লেখক, বিখ্যাত গ্রন্থ

(পাঠকের চোখ – পর্ব ১)

পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা :

আজ রবিবার গ্রন্থ আলোচনায় বিখ্যাত লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ “যাও পাখি ” নিয়ে চৰ্চা ।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যে লেখকদের মধ্যে অগ্রগণ্য। তাঁর লেখনী তাঁকে করে তুলেছে সাম্প্রতিক বাংলা সাহিত্যে অসামান্য। তাঁর সেরা লেখা হিসেবে বরাবর স্থান পেয়েছে পার্থিব , দূরবীন,চক্র বা মানবজমিন। এছাড়াও বহু মন ছুঁয়ে যাওয়া লেখা তাঁর সৃষ্টি। “যাও পাখি “উপন্যাসও কেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অন্যতম সেরা রচনা হয়ে উঠেছে তার  সাতকাহন । সাতকাহন  বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা এক সৃষ্টি “যাও পাখি” নিয়ে।

আমরা শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়কে ভালোবাসি কৈশোরে পড়া তাঁর লেখা “মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি ” বা অদ্ভুতুড়ে সিরিজের জন্য, যৌবনে ঘুনপোকা,বৃষ্টির ঘ্রান বা দূরবীন পড়ার রোমাঞ্চ থেকে, জীবনভর পার্থিব বা মানবজমিনের জন্য.. সাসপেন্স থ্রিলারের সাথে জীবনবোধ মিশে থাকা শবর দাশগুপ্ত কেন্দ্রিক উপন্যাস আমরা ভালোবাসি। এই ভালোবাসার স্রষ্টাকে ছুঁতে চাইলে যাও পাখি আপনাকে পড়তেই হবে.. না হলে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়কে জানা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। কারণ তুলে ধরার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা রইল এই লেখায়।

ধারাবাহিক ভাবে দেশ পত্রিকায় বেরোনো উপন্যাসটিতে ছড়িয়ে আছে ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের কথা- যে মানুষের প্রেরণা তাঁর জীবনময় ছড়িয়ে আছে বলে উল্লেখ করেছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। এ বই পাঠক মহলে কতটা নাড়া দিয়েছিল তাঁর প্রমান মেলে লেখকের উল্লেখে। উপন্যাসের চরিত্র হয়ে উঠেছিল জীবন্ত। উপন্যাসের বাঁচা মরা নিয়ে ভাবিত ছিল পাঠক- পাঠিকাকুল। জানা যায়,এই উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র ব্রজগোপাল বাঁচবেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত ছিল না দেশ পত্রিকার সম্পাদক সাগরময় ঘোষের। একই উদ্বেগ ছিল গায়ক হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের। এতটাই সার্বজনীন সাড়া ফেলেছিল এই গ্রন্থ।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় নিজেই জানিয়েছেন,” যাও পাখি নিশ্চিতভাবে খানিকটা সনাতন মূল্যবোধের যাজন করে ” । এই উপন্যাসে গ্রাম ও নগর জীবন রয়েছে।রয়েছে যুবক যুবতীদের কথা। সর্বোপরি,যাও পাখি প্রসঙ্গে লেখক তাঁর উপন্যাস সমগ্র দ্বিতীয় খন্ডের ভূমিকায় গর্ভধারিণী মায়ের কথা তুলে এনেছেন -নিজের উপলব্ধিস্বরূপ। তিনি তাই ভূমিকায় লেখেন : “অপেক্ষায় আছি, একদিন মা এসে অভাগা ছেলেটির হাত ধরে বলবে -চল তো, আর এই হাটে বাজারে পড়ে থাকতে হবে না তোকে। যাও পাখির মধ্যেও মায়ের কথা আছে, যা লিখতে আমার কলম কখনও ক্লান্ত হয় না।” অর্থাৎ লেখকের কলম থেকে পরিষ্কার তাঁর জীবনের দর্শন ও যাপন ছড়িয়ে আছে যাও পাখির পরতে পরতে। এই মায়াবী আখ্যান ছুঁয়ে যেতে বাধ্য পাঠকপাঠিকা-কুলকে।বইটি অবশ্য পাঠ্য।।

About Post Author