Home » ভারতে আসার আগেই রাজকীয় মেজাজে চিতারা

ভারতে আসার আগেই রাজকীয় মেজাজে চিতারা

সময় কলকাতা ডেস্কঃ নাবিমিয়ার জাতীয় উদ্যান থেকে প্রকাশিত হল চিতাদের প্রথম লুক। সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত এক মিনিটের একটি ভিডিয়োতে দেখা গেল, ফুরফুরে মেজাজে গাছের তলায় বসে রয়েছে দু’টি চিতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনেই ভারতে আসছে আট বিশেষ অতিথি। নামিবিয়া থেকে আসতে চলা চিতার দলের সবচেয়ে ছোট সদস্যের বয়স ২ বছর। সেটি একটি মহিলা চিতা। মধ্যপ্রদেশের কুনো পালপুর জাতীয় উদ্যান এই আট চিতাকে স্বাগত জানাতে চূড়ান্ত মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে। মধ্যপ্রদেশের কুনোর পালপুর জাতীয় উদ্যানই তাদের স্থায়ী ঠিকানা হতে চলেছে। চিতা সংরক্ষণের জন্য যে সমস্ত সুযোগ ও সুবিধা থাকা উচিত, সেই সব ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই করা হয়ে গিয়েছে এই জাতীয় উদ্যানে। প্রথম দফায় নামিবায় থেকে ৮টি চিতা আনা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, আগামী পাঁচ বছর ধরে ধাপে ধাপে আরও ৫০টি চিতা ভারতে আনা হবে।

১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে মধ্যপ্রদেশের অরণ্যে ছাড়া হবে চিতা। ওইদিনই সেখানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। এবার নিজের জন্মদিনে মধ্যপ্রদেশের কুনোর পালপুর জাতীয় উদ্যানে উপস্থিত থেকে আফ্রিকা থেকে আসা ৫টি চিতা জঙ্গলে ছাড়বেন নরেন্দ্র মোদী। প্রধামন্ত্রীর জন্মদিনে তাঁর উপস্থিতিতে চিতা ছাড়ার ঘটনা যেমন তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনই স্বাধীনতার পর আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর, এই প্রথম দেশের কোনও অরণ্যে ছাড়া হবে চিতা। অতিথিদের স্বাগত জানাতে এখন থেকেই তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে।

১৯৪৭ সালে,স্বাধীনতার পরই দেশের শেষ চিতাটির মৃত্যু হয় ছত্তিশগড়ের কোরিয়া জেলায়। সেই সময় ওই অঞ্চলটি মধ্যপ্রদেশের অন্তর্গত ছিল। রামানুজ প্রসাদ সিংহদেওর গুলিতে মারা পড়েছিল ভারতের শেষ চিতাটি। তার পাঁচ বছর পর অর্থাৎ ১৯৫২ সালে ভারতে চিতা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে বলে ঘোষণা করে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার। এরপর ২০০৯ সালে ভারতে এই পশুটিকে ফিরিয়ে আনার প্রকল্পটি শুরু হয়। গত বছরের নভেম্বর মাসেই আফ্রিকা থেকে চিতা নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি এবং লকডাউনের কারণেই তা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন কুনোর পালপুর জাতীয় উদ্যানের আধিকারিকরা। এরপর ২০২১ সালের জানুয়ারিতে চিতা আনার জন্য সবুজ সংকেত মেলে সুপ্রিমকোর্ট থেকে। এবছর জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ভূপেন্দ্র সিংহ ঘোষণা করেন যে, ভারতের অরণ্যে আবার ফিরতে চলেছে ৭০ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া চিতা। মধ্যপ্রদেশের কুনোর জাতীয় উদ্যানটি ৭৫০ বর্গ কিলোমিটারের বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এটি চিতাদের থাকার জন্য আদর্শ স্থান বলে মনে করছেন প্রশাসনিক আধিকারিকেরা।

About Post Author