Home » সিরিয়ার দামাস্কাস বিমানবন্দরে ইজরায়েলী বিমান হানা

সিরিয়ার দামাস্কাস বিমানবন্দরে ইজরায়েলী বিমান হানা

সময় কলকাতা ডেস্কঃ ইউক্রেন -রাশিয়া যুদ্ধের আবহে এবার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা। ইজরায়েলী যুদ্ধবিমানের হানায় কার্যত ধ্বংস সিরিয়ার দামাস্কাস বিমানবন্দর । চলতি বছরে এই নিয়ে এটি সিরিয়ার উপর সপ্তম ইজরায়েলী আক্রমণ। শুক্রবার মধ্যরাতে আচমকাই সিরিয়ার দামাস্কাজ বিমানবন্দরে হানা চালায় ইজরায়েলী বিমান বাহিনী। বিমান হানায় সিরিয়ার সেনাবাহিনীর ৫ সৈনিক মৃত। দামাস্কাস বিমানবন্দর কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিগত প্রায় চার দশক ধরে লেবাননে সরকার চালাচ্ছে ইরানের মদত পুষ্ট শিয়া মিলিশিয়া হেজবোল্লা সংগঠন। নির্বাচিত ভাবে নয় কার্যত দখলদারি করেই সিরিয়া দখলে রেখেছে হেজবোল্লা।

ইহুদি এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত দীর্ঘ যুগের। ২০২১ সালে সেই সংঘাত আরও ভয়াবহ আকার নেয়। জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে ইহুদি এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রথম সংঘাতে শুরু হয়। সেই সংঘাত ক্রমে ক্রমে যুদ্ধের আকৃতি নেয়। ১১ দিন ধরে চলে প্যালেস্টাইনের জিহাদী সংগঠন হামাস এবং ইজরায়েলী সেনাবাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ । যার পরিণতিতে প্রায় ২৭০ জন প্যালেস্তানির মৃত্যু হয়। যুদ্ধের পরেই পটভূমিতে আসে পরিবর্তন। ২০২১ সালে হেজবোল্লা ও প্যালেস্টাইনের জঙ্গি সংগঠন হামাস গোপনে হাত মেলায়। হেজবোল্লার প্রধান হাসান নাসুরুল্লাহুর সঙ্গে হাত মেলায় হামাসের শীর্ষ নেতা ইজমাইল হানিয়েহ। দুই পক্ষই গোপনে বৈঠক করে লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিছিল আউল ও স্পিকার নাবিহো বেররির সঙ্গে। তারপর থেকে ক্রমাগত চোরা গুপ্ত আক্রমণ শান ছিল হামাস ইজরায়েলে।

চলতি বছরে একাধিকবার হামাসের জঙ্গিরা ইজরায়েলের উপর কখনো রকেট হামলা কখনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

চলতি বছরের পয়লা মার্চ সিরিয়ার সংবাদ সংস্থা সানা এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল ইসরাইল অধিকৃত গোলান হাইট থেকে দামাস্কাসের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালায় ইজরায়েল। সিরিয়ার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম অধিকাংশ ক্ষেপনাস্ত্রকে আকাশে বিনষ্ট করলেও কিছু অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তার কিছুদিনের মধ্যেই আমেরিকাও সিরিয়া- ইরাক সীমান্তে ইরানপন্থী মিলিশিয়ার উপর আক্রমণ চালিয়েছে। মূলত আমেরিকার লক্ষ্য ছিল ইরানের রেভলিশনারি গার্ড ও হেজবোল্লাদের ঘাঁটি নষ্ট করা।

চলতি বছরের ১৪ মে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘সানা’ জানিয়েছিল ইসরায়েলি বিমান সিরিয়ায় প্রবেশ করে হামলা চালায়। এই হামলায় মাসয়াফে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর অস্ত্রের ডিপো এবং ইরানি মিলিশিয়া অবস্থানগুলিকে আক্রমণ করে। হামলায় ইজরায়েলি বিমান বাহিনী অন্তত ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। এ হামলায় পাঁচজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছিল বলেও জানিয়েছিল সংবাদ সংস্থা সানা।

শুক্রবার গভীর রাতে শুধুমাত্র দামাস্কাস বিমানবন্দরেই নয় আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চলেও বিমান হানা চালিয়েছে ইজরায়েলী সেনাবাহিনী। মূলত ইজরায়েলের অভিযোগ সিরিয়া ও লেবাননকে হাতিয়ার সরবরাহ করছে গোপনে ইরান। লেবাননের জঙ্গি সংগঠন হেজবোল্লা ও প্যালেস্টাইনের জঙ্গি সংগঠন হামাসকেও গোপনে বরাবরই অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে ইরান। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের এই অস্ত্রেই ইজরায়েলের উপর চোরা গুপ্তা আঘাত হানছে হেজবোল্লা ও হামাস। এই আক্রমণের উদ্দেশ্য ছিল তেহরানের মদদপুষ্ট দুই জঙ্গি সংগঠনের গোপন অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করা। ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে খবর ছিল দামাস্কাস বিমানবন্দরে বিপুল অস্ত্র মজুদ করেছে হেজবোল্লা জঙ্গি সংগঠন। ইজরায়েল সূত্রের খবর একাধিক জঙ্গির গোপন ডেরা বিমান হানায় ধ্বংস করা হয়েছে, ধ্বংস করা হয়েছে বহু অস্ত্র- গোলাবারুদ।

About Post Author