সময় কলকাতা ডেস্ক : চলে গেলেন বিশ্ব চলচ্চিত্র জগতে সম্পূর্ণ নতুন ধারা প্রবর্তনকারী ,কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক ও নিউ ওয়েব সিনেমার জনক জ লুক গদার। তাঁর চলে যাওয়া, এককথায়,ইন্দ্রপতন চলচ্চিত্র জগতে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। বয়স হলেও তাঁর চলে যাওয়া ফ্রেঞ্চ ও সুইস সিনেমার পক্ষে যেমন ক্ষতি, তার প্রয়াণ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে বয়ে নিয়ে এলো শূন্যতা। তার ভাবনা কার্যত বিপ্লব এনেছিল চলচ্চিত্রে।
বিস্তৃত কর্মজীবনের ফাঁকে গদার প্রায় ১৫০টি চলচ্চিত্র এবং অন্য বহুধরণের ভাবনা ক্যামেরাবন্দী করেছিলেন এবং তার মৃত্যুর প্রাকমুহূর্তেও কাজের মধ্যে ছিলেন।
সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত তাঁর পরিচালিত “এ বাউট দা সাফল”১৯৫৯ সালে প্রদর্শিত হয়েছিল এবং তিনি সম্প্রতি লেব্রে ডি ইমেজ ( দ্যা ইমেজ বুক ) কাজের জন্য ২০১৮ সালে কানে পামে ডি’অর জিতেছিলেন।

২০১০ সালে, পরিচালককে সম্মানসূচক অস্কার প্রদান করা হয়েছিল কিন্তু গদার ব্যক্তিগতভাবে এই সম্মান গ্রহণের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।উল্লেখ্য,তিনি ইসরায়েলি রাজনীতির বিষয়ে তার সমালোচনামূলক মতামতের জন্যও বিতর্কিত হয়েছিলেন এবং কিছু মহল থেকে ইহুদিবিরোধীতার অভিযোগ এনেছিল।
গদার ৩ ডিসেম্বর, ১৯৩০ সালে সুইস বংশোদ্ভূত একটি ধনী ফ্রেঞ্চ প্যারিসীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি পশ্চিম সুইজারল্যান্ডের নিওনে তার শৈশব কাটিয়েছিলেন।প্যারিসে জাতিতত্ত্ব অধ্যয়ন করার পরে, তিনি চলচ্চিত্রের জগতে নিজেকে জড়িয়ে ফেলার আগে নিজের ধাপে ধাপে উত্তরণ ঘটিয়েছিলেন। তিনি নিজেকে প্রাথমিকভাবে একজন লেখক ভাবার পরে চিত্রশিল্পী হওয়ার ভাবনায় আচ্ছন্ন হন। তিনি ১৯৫৩ সালে সুইস নাগরিক হন। পঞ্চাশ ও ষাটের দশক থেকে তিনি উপহার দিতে শুরু করেন বিশ্বসেরা চলচ্চিত্রসমূহ।

পরিচালক হিসেবে তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে লে মিপ্রিস (১৯৬৩), আলফা ভিলে (১৯৬৫), পোয়ারো লে ফ ( পোয়ারো দা ম্যাডম্যান ১৯৬৭), লা চিনইস (১৯৬৭), কিং লিয়ার (১৯৮৭) এবং হিস্ট্রিস (১৯৮৭) এর আটটি পর্ব ও ডু সিনেমা (১৯৮৮-৯৮)।
তাঁর যাদুতে আনা কারিনা এবং অ্যান ওয়াইজেমস্কি মুগ্ধ হয়েছিলেন , যাদের দুজনেই তিনি বিয়ে করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি সুইস চলচ্চিত্র নির্মাতা আনে মারি মিয়েভিলের সাথেও বসবাস করেছিলেন।
তাঁর পরিবারের মতে, মঙ্গলবার,১৩ সেপ্টেম্বর, রোলে “তার প্রিয়জনদের দ্বারা বেষ্টিত” হয়েই গদার প্রশান্তি নিয়েই মারা যান। অন্যদিকে ,কিছু গণমাধ্যম জানিয়েছে গদার মৃত্যুর অপেক্ষা না করে আত্মহত্যার পথ বেছেছেন , যা সুইজারল্যান্ডে বৈধ। মৃত্যু যেভাবেই হয়ে থাকুক না কেন, গদার চলচ্চিত্রে তার ক্রমাগত পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী চলচ্চিত্র অনুরাগীদের জন্য রেখে গেলেন যুগপৎ ভালোবাসা ও ভাবনার খোরাক।।


More Stories
চলে গেলেন বশির বদর
চলে গেলেন সারিন্দার পাখি মঙ্গলাকান্ত
ছাদ থেকে পড়ে প্রয়াত পরিচালক অনীক দত্ত