Home » নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সুনন্দর জার্নাল’

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সুনন্দর জার্নাল’

রবিবাসরীয় গ্রন্থ আলোচনা

বিখ্যাত লেখক, বিখ্যাত গ্রন্থ

(পাঠকের চোখ – পর্ব ২)

পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা :

আজ রবিবার গ্রন্থ আলোচনায় বিখ্যাত লেখক নারায়ণ  গঙ্গোপাধ্যায়ের ” সুনন্দর  জার্নাল “।

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের স্বল্পায়ু জীবনের শেষ সাত বছর সুনন্দ ছদ্মনামে রম্যরচনার যে মণিমুক্তো দেশ পত্রিকায় প্রায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হত, তারই সংকলন এই গ্রন্থ । মিত্র ঘোষ পাবলিশার্স কর্তৃক প্রকাশিত এই বই থেকে  কিছু মুক্তো আপনাদের জন্য (যাঁরা পড়েন নি) তুলে ধরি:

একটি লেখার শিরোনাম, “চাঁদা “যেখানে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় লিখছেন, “চন্দ্রের সঙ্গে চাঁদার কোনো সম্পর্ক আছে কি? চন্দ্রের ক্ষয় বৃদ্ধির মত, জোয়ার ভাটার মত চাঁদারও উত্থান পতন আছে। ” অভিধানে চাঁদের একশো পনেরোটা নাম আছে যার একটা খচমসঃ ও একটি বলখন্ড জানিয়ে সুনন্দ লিখছেন চাঁদার রসিদ কাটার খচর মচর শব্দ এবং বলক্ষয়কারী চাঁদার কারণেই গৃহস্থের রক্ত শুকিয়ে আসে, “হীনবল দিন দিন, “। লেখকের অকাট্য যুক্তি , তাহলে চন্দ্র থেকেই চাঁদা। এবং চাঁদা প্রসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, “বর্গীর হাঙ্গামা কি এর চাইতেও মারাত্মক?

অপর একটি নিবন্ধ “নরমুণ্ড থেকে ফুটবল ” যেখানে লেখক ক্রীড়াচর্চায় রক্তপাতকে কলম দিয়ে আঘাত হেনেছেন। তিনি যেন অনুধাবন করেছেন -“যে সব বর্বর জাতি কিছুদিন আগে পর্যন্ত মুন্ড শিকার করত বা করছে.. তাদের সবাই ফুটবল খেলতে শিখল না। আর ফুটবলের রস যারা পেলো, তারা দেখল লাথি মারবার পক্ষে বস্তুটা একটু ভারী। অতএব নরমুন্ডের বিকল্প দিয়ে খেলা শুরু হল। বেল, কয়েৎবেল, বাতাবি লেবু….
উপসংহার :অতএব ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান-মহামেডান ইত্যাদির সমর্থকেরা খেলার মাঠে যদি একটু আধটু রক্তপিপাসু হয়ে ওঠেনই, তা নিয়ে আন্দোলন করা সম্পূর্ণ অহেতুক।

এভাবেই একের পর এক কষাঘাত, ব্যঙ্গ, অনাবিল রসবোধে টইটুম্বুর রচনা সমূহ। মনোগ্রাহী এবং মনোজ্ঞ। মিখাইল শলোকেভ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বিশ্বসাহিত্য, রাশিয়া এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট একইসাথে ছুঁয়ে যাবে পাঠকমনন।

“ভোজনার্থে ” বা “হরণ বনাম আহরণ ” লেখার ছত্রে ছত্রে শ্লেষ, উইট ও সাহিত্য মিশে আছে যা সুনন্দকে করে তুলেছে অসামান্য সুখপাঠ্য।

স্বল্পপরিসরে আর কত উল্লেখ সম্ভব। সংকলনটিতে শতাধিক নিবন্ধ। না পড়ে থাকলে পড়ে ফেলুন। পড়লে মন ভরে যাবে।।

About Post Author