Home » বাম ছাত্র-যুবদের ইনসাফ সভা,জেদ বজায় থাকল

বাম ছাত্র-যুবদের ইনসাফ সভা,জেদ বজায় থাকল

চুমকী সুত্রধর, সময় কলকাতা :

পঞ্চায়েত ভোটের আগে অ্যাসিড টেস্টে নামল বামেরা। জেদ বজায় রেখেই ২১ শে জুলাইয়ের সভাস্থলেই ইনসাফ সভা করল বাম ছাত্র-যুবরা । শয়ে শয়ে মানুষের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা।

২১ জুলাইয়ের সভাস্থলেই  বাম ছাত্র-যুবদের  ইনসাফ সভা।মীনাক্ষীর হুঙ্কার, ইনসাফ চাই, যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের প্রাপ্য চাকরি চাই, ভুয়ো সবকিছু দূর হোক।

শুক্রবার প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠকে বসে সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, পুলিশ এই সভার অনুমতি দেয়নি। কিন্তু ২০ সেপ্টেম্বর বাম ছাত্র-যুবদের ইনসাফ সভা হবে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই। এই জেদটা ঠিকই বজায় রইল। সোমবার পুলিশ ঘুপছি ওয়াই চ্যানেলে সভা করার অনুমতি দিয়েছিল। সেখানে মঞ্চও বাঁধা হয়। কিন্তু, এদিন পুলিশকে বোকা বানিয়েই ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে অস্থায়ী মঞ্চ বেঁধে ফেলল বামেরা। চারিদিকে শুধু লাল। বামেদের দখলে ধর্মতলা চত্বর। অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে মধ্য কলকাতা। নেই কোনও সংঘাত। নেই কোনও হাতাহাতি। শুধুমাত্র জেদের বসেই সভার আয়োজন করে দেখিয়ে দিল বাম যুব সংগঠন। হাওড়া, শিয়ালদহ এবং পার্কস্ট্রিট থেকে মিছিল ধর্মতলায় এসেছে। উল্লেখ্য, তৃণমূল জমানায় রাজ্য সরকার একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল। নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, ২১ জুলাই ধর্মতলার এই ময়দানে শুধুমাত্র তৃণমূলই সভার আয়োজন করতে পারবে। এদিন বাদে বছরের আর কোনও দিন কোনও রাজনৈতিক দলই এখানে সভা করতে পারবে না। কিন্তু, তৃণমূলের সেই নির্দেশিকাতেই কার্যত আঘাত হানল বাম ছাত্র-যুবরা। পুলিশি নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর ধর্মতলায় ইনসাফ সভায় সামিল হল বাম ছাত্র-যুবরা।

সামনেই পঞ্চায়েত ভোট। পঞ্চায়েত ভোটের আগে আনিস খান, মৈইদুল মিদ্দা, সুদীপ্ত গুপ্ত, স্বপন কোলে এবং সাইফুদ্দিনের বিচার চেয়ে যৌথভাবে পথে নামল সিপিআইএমের ছাত্র-যুব সংগঠন এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই। কলকাতার রাজপথ ফের একবার সাক্ষী থাকল এক মহা সমাবেশের। ধর্মতলায় ওয়াই চ্যানেলে ইনসাফ সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন তন্ময় ভট্টাচার্য, মহম্মদ সেলিম, মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়রা। সভামঞ্চ থেকে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম আনিস খানের মৃত্যুর জন্য তৃণমূল সরকারকে দায়ী করেন। সেলিম জানান, দান নয়, যোগ্যরা চাকরি চায়। অভিযোগ তোলেন পুলিশের উদাসীনতা নিয়েও।

এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রনেতা আনিস খানের বাবা সালেম খানও। ধর্মতলায় শয়ে শয়ে মাথা যেন তাকিয়ে ছিল ছেলে হারা সেই বাবার দিকেই। মঞ্চে দাঁড়িয়ে আনিসের বাবা ছেলের জন্য ইনসাফ চান।

 সামনেই পঞ্চায়েত ভোট। তারআগে ধর্মতলায় সভা করল বামেরা। এদিনের ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনের সভা থেকে বারবার উঠে এসেছে নবীন মীনাক্ষীর নাম। বারবার সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে মীনাক্ষীকেই সামনে এগিয়ে দিতে দেখা গিয়েছে। সময় বদলেছে। এবার যুবদের হাতে দলের রাশ দিতে হবে সেই আবহাওয়া বুঝতে পেরেই ব্যক্তি মীনাক্ষীকে প্রাধান্য দিতে বিন্দুমাত্র কুন্ঠাবোধ করেননি প্রবীন বাম নেতা। কোচের ভূমিকায় থেকে ময়দানে ‘ক্যাপ্টেন’ মীনাক্ষীর নাম এদিন উঠে এসেছে বারবার। প্রবীণ ছেড়ে এবার নবীন প্রজন্মকে এগিয়ে দিতে চেয়েছে বাম নেতৃত্ব। নেতৃত্ব কি বুঝতে পেরেছে দলের হাল ফেরাতে নবীনদের এগিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে? হ্যাঁ বললেও খুব একটা ভুল হবে না। কারণ, এই তত্ত্বের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা।

About Post Author