রবিবাসরীয় গ্রন্থ আলোচনা
বিখ্যাত লেখক, বিখ্যাত গ্রন্থ
(পাঠকের চোখ – পর্ব ৫)
পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা :
আজ রবিবাসরীয় গ্রন্থ আলোচনায় থাকছে “মেটিয়াবুরুজের নবাব”।।
“যব ছোড় চলি লখনউ নগরী /কহ হাল আদম প্যারে কা গুজারি ” – সুলতান-ই-আলম ওয়াজিদ আলি শাহ বাদশার কিংবদন্তী সম পরম্পরা বাহিক গল্পকথা, শায়েরি আমরা শুনেছি কতবার।আমরা শুনেছি লখনউ নগরীর জাঁকজমকের কথা। তবুও আমরা ক’জনই আর কলকাতা নগরী ছেড়ে লখনউ নগরী যেতে পেরেছি? শ্রীপান্থের এই বই সেই অভাব কিছুটা ঘুচিয়ে না জানা কলকাতা আর আমাদের না দেখা লখনউকে যেন চোখের সামনে একসাথে তুলে ধরেছে । বইটি যেন আলোচনাধর্মীভাবে এ টেল অফ টু সিটিস। দুই শহরের কথকতা ইতিহাসের সাথে মিশেল ঘটিয়ে পুরোনো সময় কে ফিরিয়ে দিয়েছেন শ্রীপান্থ।

অনেকেই সত্যজিত রায়ের শতরঞ্জ কি খিলাড়ি দেখেছেন, শোলের গহ্ববর সিং – আমজাদ খান কে ওয়াজিদ আলি শাহর চরিত্রাভিনয় করতে দেখেছেন। ইতিহাসের বিয়োগান্ত নাটকের দুঃখী চরিত্র ওয়াজিদ আলি শাহ কে আরো গভীরে জানতে “মেটিয়াবুরুজের নবাব”অবশ্য পাঠ্য । ১৮৫৬ সালে ভাগ্যবিতাড়িত নবাব নতুন ডেরা বেঁধেছিলেন কলকাতায়। উদারচেতা নবাব ওয়াজিদ আলি শাহকে সাহিত্য,থিয়েটার সহ সংস্কৃতি এমনকি রন্ধন শিল্প সহ বহুমুখী প্রতিভার আলোকে আমরা অনেকেই জানি।আরো সম্যক জানতে শ্রীপান্থের অসামান্য এই বই। সিপাহি বিদ্রোহ সমকালীন ইতিহাসের পটভূমিকায় শ্রীপান্থের জাদুকলমে আওয়ধ (অযোধ্যা) -র শেষ নবাবের শিল্পী মনন আর ব্রিটিশ রাজ সহ তৎকালীন বিবিধ ইতিহাস লিপিবদ্ধ এই বইয়ে। প্ৰিয় লেখকের প্ৰিয় লেখা “মেটিয়াবুরুজের নবাব ” বারবার পড়েও বইটির প্রতি আগ্রহ কমে না বরং বাড়ে। এককথায় নেশা ধরিয়ে দেওয়া বই।।।।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
চলে গেলেন শংকর
প্রাণের অভাব নাকি বই বিক্রির রেকর্ড? বইমেলার প্রাপ্তি -অপ্রাপ্তি নিয়ে কী বলছেন লেখক-প্রকাশকরা?