সময় কলকাতা ডেস্কঃ নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড় গোটা রাজ্য। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সল্টলেকের করুণাময়ী। মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে টেনে হিঁচড়ে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। রাত ১২টা ১৬ মিনিটে পুলিশের পক্ষ থেকে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের অনশন মঞ্চটিকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়।এরপর পুরো ফাঁকা করে দেওয়া হয় গোটা এলাকা। নিমেষের মধ্যে শেষ হয়ে যায় ৮৪ দিনের আন্দোলন। ছিঁড়ে ফেলা হয় আন্দোলনকারীদের ফ্লেক্স, পোস্টার। টেট উত্তীর্ণদের এই আন্দোলন নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
এদিন হাইকোর্টের নির্দেশের পর করুণাময়ী চত্বরে মোতায়েন করা হয় বিরাট পুলিশ বাহিনী। অনশনকারী টেট উত্তীর্ণ প্রার্থীদের অভিযোগ, তাঁদেরকে চ্যাংদোলা করে ধরনাস্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এইভাবে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের অনশন থেকে তুলে দেওয়ার বিষয়টি কতটা যুক্তিযুক্ত,তা নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে। যদিও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছে বিরোধীরা৷ বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী টুইটে তোপ দেগেছেন। সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন। পাশপাশি এই নিষ্ঠুর ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার বেলা ১২টায় করুণাময়ীতেই প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে এসএফআই এবং ডিওয়াইএফআই।

উল্লেখ্য,২০১৪ সালে টেট হওয়ার পর ২০১৬ তে শুরু হয় নিয়োগ প্রক্রিয়া। করুণাময়ীতে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, ওই সময়ে ৪২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ করেছিল রাজ্য সরকার। তবে সেই নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলেই অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ওই সময়ে বহু নিয়োগ হয়েছিল বলেই দাবি চাকরিপ্রার্থীদের। এর আগেও চাকরির দাবিতে একাধিকবার পর্ষদের কাছে দ্বারস্থ হয়েছেন ২০১৪ এর টেট উত্তীর্ণ নন-ইনক্লুডেড প্রার্থীরা। তবে সেসময় কোনওরকম সুরাহা মেলেনি। বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীদের মঞ্চে যান রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘টেট উত্তীর্ণদের দাবি যে অন্যায্য সেটা আর ভুল প্রমাণ করতে হবে না। ভুল পুরোপুরি পর্ষদের, তাই পর্ষদকেই সবটা ঠিক করতে হবে।’


More Stories
কালীঘাটে মমতার বাড়ির দোরগোড়ায় সিআইডি
তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদদের ভাবমূর্তি সমূলে ধ্বংস করে বড় জয় বিজেপির
শান্তি নেই শ্মশানেও -বঙ্গভূমির করুণ আখ্যান