Home » অনশনকারীদের সাধারণ অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছে তৃণমূল সরকার: অপর্ণা সেন

অনশনকারীদের সাধারণ অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছে তৃণমূল সরকার: অপর্ণা সেন

সময় কলকাতা ডেস্কঃ বৃহস্পতিবার মাঝরাতে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের হঠিয়ে দেওয়া নিয়ে রীতিমতো উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এবার টেট চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন ভঙ্গ নিয়ে সরব হলেন পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। ফেসবুকে একটি পোস্ট করে রাজ্য সরকার এবং পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা করেছেন তিনি। কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘পথে রক্ত, দেওয়াল তবু নীল সাদায় রাঙে। চোর পুলিশ হাত মিলিয়ে আন্দোলন ভাঙে।’ পরিচালকের এই ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে।
অন্যদিকে কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের পাশাপাশিই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন অপর্ণা সেন। শুক্রবার সকালে একটি টুইট অপর্ণা সেন লেখেন, ‘অনশনকারীদের সাধারণ অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছে তৃণমূল সরকার। একটি অহিংস আন্দোলনের ক্ষেত্রে কেন ১৪৪ ধারা জারি করা হল? কেন? এই অগণতান্ত্রিক এবং অনৈতিক কাজের জন্য রাজ্য সরকারের ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সল্টলেকের করুণাময়ী। মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে টেনে হিঁচড়ে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। রাত ১২টা ১৬ মিনিটে পুলিশের পক্ষ থেকে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের অনশন মঞ্চটিকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়। রাত ১২টা ৩৬ মিনিট নাগাদ পুরো ফাঁকা করে দেওয়া হয় গোটা এলাকা। নিমেষের মধ্যে শেষ হয়ে যায় ৮৪ দিনের আন্দোলন। ছিঁড়ে ফেলা হয় আন্দোলনকারীদের ফ্লেক্স, পোস্টার। টেট উত্তীর্ণদের এই আন্দোলন নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

এদিন হাইকোর্টের নির্দেশের পর করুণাময়ী চত্বরে মোতায়েন করা হয় বিরাট পুলিশ বাহিনী। অনশনকারী টেট উত্তীর্ণ প্রার্থীদের অভিযোগ, তাঁদেরকে চ্যাংদোলা করে ধরনাস্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এইভাবে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের অনশন থেকে তুলে দেওয়ার বিষয়টি কতটা যুক্তিযুক্ত,তা নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে। যদিও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছে বিরোধীরা৷ বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী টুইটে তোপ দেগেছেন। সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন। পাশপাশি এই নিষ্ঠুর ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার বেলা ১২টায় করুণাময়ীতেই প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে এসএফআই এবং ডিওয়াইএফআই।

About Post Author