সময় কলকাতা ডেস্কঃ সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা গরু পাচার মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত, অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি ইউ ইউ ললিতের বেঞ্চ সায়গলের আর্জি খারিজ করে দেয়। ফলে দিল্লি নিয়ে গিয়ে সায়গলকে জেরা করার ক্ষেত্রে ইডির আর কোনও বাধা রইল না।
দিল্লি নিয়ে গিয়ে ইডি যাতে জেরা করতে না পারে, সে জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল সায়গল। দিল্লির রাউস এভিনিউ কোর্ট প্রথমে সেই আবেদন মঞ্জুর করলেও নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেন সায়গলের আইনজীবী। নিম্ন আদালতের রায়ই বহাল রেখেছিল হাইকোর্ট। এরপর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন সায়গল। এবার সেই আবেদনও খারিজ হয়ে গেল।
প্রসঙ্গত, গরুপাচার কাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে সিবিআইয়ের নজরে ছিলেন অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী। একাধিকবার তাঁকে জেরাও করেন তদন্তকারীরা। ৯ জুন সায়গল হোসেনকে তলব করা হয়। সেদিনই দফায় দফায় জেরার পর গ্রেপ্তার করা হয় সায়গলকে। আসানসোলে সংশোধনাগারে গিয়ে সায়গলকে জেরা করেছিলেন ইডির আধিকারিকরা। তদন্তে অসহযোগিতা করছে সায়গল, সেই কারণে, জেলবন্দী সায়গলকে গ্রেফতার করে ইডি। নিজেদের হেফাজতে নিয়ে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে। সায়গলকে দিল্লি নিয়ে গিয়ে তদন্ত করতে চেয়ে আবেদন করেছিল আসানসোল আদালতে। কিন্তু বিশেষ সিবিআই আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। তারপরেই হাইকোর্টে মামলা করে ইডি। কিন্তু সেখানেও ধাক্কা খাওয়ার পর দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউতে পিএমএলএ আদালতে আবেদন করে ইডি। অবশেষে ইডির আরজি মঞ্জুর করে রাউস অ্যাভিনিউ কোর্ট। বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রতর দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পায় ইডি।

অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষীকে জেরা করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। সায়গল হোসেনের সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা। একজন সামান্য সরকারি কর্মচারীর এত সম্পত্তির উৎস কি ? তা জানতেই সায়গলকে দিল্লির সদর দফতরে নিয়ে গিয়ে জেরা করতে চায় ইডি।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি