সময় কলকাতা স্পোর্টস ডেস্ক : ২০০৬ সালে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিলেন লিওনেল মেসি। ২০২২ সালে কাতারে এসেছিলেন একরাশ স্বপ্ন নিয়ে। সাতটি গোল করলেন বিশ্বকাপও করায়ত্ব করলেন তিনি। নিজের পঞ্চম ফুটবল বিশ্বকাপে শিল্পী ফুটবলার ফুটবলের চূড়ান্ত মঞ্চে সাফল্য শেষ পর্যন্ত পেলেন। লিওনেল মেসির সঙ্গে যে আরেক ফুটবলারের নাম এক নিঃশ্বাসে উচ্চারিত হয় তিনি তাঁর স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন নি। তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলের শিরোপা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। এবার বিশ্বকাপ শুরুর আগে বিশ্বকাপে ছটি গোল করার রেকর্ড ছিল তাঁর । কাতার বিশ্বকাপে ঘানার বিরুদ্ধে সপ্তম গোলটিও করেন তিনি।অন্যদিকে বিশ্বকাপ শুরুর আগে মেসির ঝুলিতেও ছিল ৬ টি বিশ্বকাপে গোল । এবারের বিশ্বকাপে সাত সাতটি গোল করেছেন মেসি। নক আউট আরো উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন মেসি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ও পর্তুগালের দৌড় থেমে যায় বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। কারণ বহুবিধ যা মেসি ও আর্জেন্টিনাকে সফল হতে সহায়তা করেছে , এবারের বিশ্বকাপে ব্যর্থতা গ্রাস করেছে পর্তুগালকে।

অত্যন্ত সরলীকরণ করা যায় এবারের বিশ্বকাপে মেসি ও রোনাল্ডোর উত্থান ও পতনের গ্রাফ কে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে।কাতারে দুই মহানায়কের ভাগ্যলিপি ভিন্ন হওয়ার কারন নিরূপণ করতে তাই অসুবিধা হয় না । খোলা চোখে দেখলে বলাই যায় মেসি ও রোনাল্ডো দুজনেই বিশ্ব ফুটবলে চূড়ান্ত দক্ষতার ছাপ রাখলেও মাঝে মাঝেই বিতর্ক তাড়া করেছে রোনাল্ডোকে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে একাধিকবার। আর এ কারণেই ফুটবল ম্যানেজারদের সঙ্গে মাঝে মাঝেই ঝঞ্ঝাট বেঁধেছে রোনাল্ডোর। তবুও বিশেষজ্ঞরা বলছেন তারকা ফুটবলার কে নিয়ন্ত্রণে রেখে সঠিক পথে চালনা করাই কোচের সাফল্যের চাবিকাঠি। মেসির সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ এক লিওনেলের ওপর অপর লিওনেলের ভরসা। একসময়ের সতীর্থ ও বর্তমান কোচ লিওনেল স্কালোনি কোন অবস্থাতেই ভরসা হারান নি মেসির উপর। বরং মেসিকে আগলে রেখেছেন। ফাইনালের আগেও স্কালোনি বলেছিলেন, ফুটবল ফাইনাল উপভোগ করুন মেসি। খারাপ সময় কি আসেনি? সৌদি আরবের কাছে হেরে আর্জেন্টিনার অবস্থা যখন টালমাটাল তখনও কোচ ভরসা রেখেছিলেন মেসির ওপরে। কারণ তার মাথায় ছিল আর্জেন্টিনার সাফল্যের জন্য প্রয়োজন মেসির সাফল্য। আর্জেন্টিনা অনেকটাই যে মেসি নির্ভর।অন্যদিকে পর্তুগাল কোচ ফার্নান্ডো স্যান্টোস বাস্তব সত্যকে উপেক্ষা করেছিলেন। শৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পর্তুগিজ কোচ স্যান্টোস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি রোনাল্ডোকে। একইসাথে প্লেয়ার ম্যানেজমেন্টে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে তথাকথিত শৃঙ্খলাকে প্রধান গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি। অত্যন্ত বাস্তব সত্য হল এই যে , পর্তুগাল ফুটবল দলও মূলত রোনাল্ডো নির্ভর। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে দল যখন হারছে রোনাল্ডোকে আগেভাগে তুলে নেন কোচ। তবুও কাঙ্খিত জয় আসে নি।রোনাল্ডো বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। শুরু হয় কোচ ও তারকা সংঘাত আর তখনই পর্তুগালের ভাগ্য লিখন শুরু হয়ে যায়।

পরবর্তী ম্যাচে প্রথম একাদশে রোনাল্ডোকে রাখেন নি পর্তুগিজ কোচ।আর এখানেই ফ্যাক্টর হিসেবে দেখা দেয় গনসালো রামোসের উত্থান।সুইটজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয় পায় পর্তুগাল।অনভিজ্ঞ ৱ্যামোস রোনাল্ডোর জায়গায় খেলতে নেমে হ্যাটট্রিক করে বসেন। রোনাল্ডো যে পর্তুগালের সাফল্যের জন্য অপরিহার্য নন একটি জয় পেয়ে সম্ভবত এমন ধারণার বশবর্তী হয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আবার প্রথম একাদশে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে স্থান দেননি স্যানটোস। কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয়র্ধ্বে যখন রোনাল্ডোকে তিনি মাঠে নামান তখন মরক্কো জাঁকিয়ে বসেছে ম্যাচে । ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে মরক্কোর বিরুদ্ধে গোলও রয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। ৩৯ মিনিট সুযোগ পেয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করেও খেলার ফল বদলাতে পারেননি সিআর সেভেন। ডিসেম্বরের ১০ তারিখে থেমে যায় পর্তুগালের বিশ্বকাপের দৌড়। তবে একথাও উল্লেখযোগ্য রোনাল্ডোবিহীন পর্তুগালকে মরক্কোর বিরুদ্ধে ক্যাপ্টেনহীন জাহাজের মত মনে হয়েছিল । নাবিকরা অগোছালো হয়ে উঠেছিলেন কোচ ও তারকা ফুটবলারের সংঘাতে। অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচের পর থেকে মেসি প্রকৃত অর্থেই ক্যাপ্টেনের দায়ভার নিয়ে এগিয়ে গেছেন দৃপ্ত পদক্ষেপে। হাল ছাড়েন নি আলভারেজ, দি মারিয়া বা ডি পল। মেসির পাশাপাশি তারা নিজেদের উজাড় করে দিতে পেরেছেন কারণ তারা জানতেন সঙ্গে মেসি আছেন যিনি যেকোনো মুহূর্তে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন । তামাম ফুটবল দুনিয়া জানে খেলার মোড় ঘোরানোর শক্তি রাখেন ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোও। স্বাভাবিকভাবেই রোনাল্ডোর অভাবে বেশ কিছুটা অসহায় বোধ করেছেন পর্তুগালের বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলাররা। বিপদের সময় পেপে বা ব্রুনো ফার্নান্ডেজ পাশে পাননি রোনাল্ডোকে। আর রোনাল্ডোর প্রস্থানের পেছনে তাই কাজ করেছে তথাকথিত শৃঙ্খলার বেড়াজাল যা তরান্বিত করেছে পর্তুগালের বিদায় । তাই বিশ্ব ফুটবলের দুই মহানায়ক মেসি ও রোনাল্ডোর ভাগ্যলিপি কাতারে সম্পূর্ণ ভিন্ন খাতে বয়ে যায় কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই। ফলশ্রুতি মাথায় উঠেছে সেরার শিরোপা, অন্যজনের প্রস্থান ঘটেছে নীরবে।।


More Stories
হর্ষ – গুরনুরের দুরন্ত অভিষেক, জিতল ভারত
সুভদ্র কেন উইলিয়ামসনের আচমকা অবসর
ইনিংস ও ৩০০ রানে জয় ভারতের