Home » ‘সিপিএম-কংগ্রেস-বিজেপি ভোট দেওয়া নেওয়া করেছে’, সাগরদিঘি পরাজয়ের ব্যাখ্যা মমতার

‘সিপিএম-কংগ্রেস-বিজেপি ভোট দেওয়া নেওয়া করেছে’, সাগরদিঘি পরাজয়ের ব্যাখ্যা মমতার

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২ মার্চ: একুশের বিধানসভা ভোটে প্রায় ৫০ হাজার ভোটে জেতা সাগরদিঘি আসন ২২ মাসের মধ্যেই হারতে হল। কম মার্জিনে হার নয়, রীতিমতো ২৩ হাজার ভোটে হার। বৃহস্পতিবার ফল ঘোষণের ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই তিনি একযোগে আক্রমণ করলেন সিপিএম, কংগ্রেস ও বিজেপিকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ‘সিপিএম-কংগ্রেস-বিজেপি ভোট দেওয়া নেওয়া করেছে’।

 

বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০২১ সালে সিপিএম, কংগ্রেস মিলে মহাঘোঁট করেছিল। তখন ওদের ভোটটা গিয়েছিল বিজেপির দিকে। এবার বিজেপির ভোটটা ওদের দিকে গিয়েছে। ওদের মধ্যে দেওয়া নেওয়ার সম্পর্ক আছে। ওদের মূল লক্ষ্য আমাকে পরাজিত করা’। তিনি আরও বলেন, সাগরদিঘি উপনির্বাচনে যেভাবে সিপিএম, কংগ্রেস ও বিজেপির বোঝাপড়া করে ভোট করেছে তা তৃণমূলের কাছে এক শিক্ষনীয় বিষয়। তবে তিনি এও বলেন যে, একটা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল দিয়ে গোটা বাংলার জনমত যাচাই করা ঠিক নয়। যারা এটা করছেন তাঁরা ভুল করছেন।

ত্রিপুরা, মেঘালয় ও নাগাল্যান্ডের ফলাফল নিয়েও এদিন প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ত্রিপুরায় মুখ থুবড়ে পড়ায় ২০২৪ সালে একা লড়বেন বলে জানিয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি মেঘালয়ের মানুষকে তিনি ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, মাত্র ছয় মাস আগে মেঘালয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। আমরা ১৫ শতাংশ ভোট পেয়েছি। যা আমাদের দলের সর্বভারতীয় স্বীকতি পাওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। আমি মেঘালয়ের মানুষকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। পরেববার আমরা আরও ভালো করবে। ত্রিপুরা নিয়ে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরাতে ইধারভি হো সকতা হ্যয়, উধারও ভি। ২-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতা কিছুই না। তবে ওরা অন্যান্য বিধায়ক কিনে নেবে, ওদের অভ্যাস আছে। নাগাল্যান্ডে স্থানীয় দলের জয় এসেছে।

 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংবাদিক সম্মেলনের পর পরই আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক করেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি তৃণমূলনেত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, উনি এখন প্রলাপ বকবেন। এই হার হজম করতে সময় লাগবে। এরপর যখন ধারাবাহিক হার শুরু হবে তখন ধীরে ধীরে হজম হয়ে যাবে। অপরদিকে উচ্ছ্বসিত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীও সাগরদিঘি জয়ের পর কটাক্ষ করলেন তৃণমূলকে। তিনি বলেন, জোট প্রার্থী বায়রন বিশ্বাসের জয়ে সাগরদিঘিতে উড়ল লাল-সবুজ আবির। মানুষ যে তৃণমূলকে প্রত্যাখান করেছে এই জয় সেই কথাই প্রমান করে।

About Post Author