সময় কলকাতা ডেস্ক, ৪ মার্চ: সাধারণত তিন থেকে চার ঘণ্টা হৃদস্পন্দন বন্ধ থাকা এবং শরীর হিমশিতল হয়ে পড়লে চিকিৎসকরা ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে দেন। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা শিশুর মৃত্যু ঘটেছে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু সম্প্রতি এমন একটি ঘটনা সামনে এসেছে যা ম্যাজিক ছাড়া আর কিছু নয়। টানা তিন ঘণ্টা হৃদস্পন্দন বন্ধ থাকার পর আচমকা চালু হল হার্ট, প্রাণ ফিরে পায় ২০ মাসের ওই শিশু। কার্যত মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফেরে ওই একরত্তি। এই ঘটনা এখন সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনার বিষয়।
ঠিক কী হয়েছিল?
২০ মাসের শিশু খেলতে গিয়ে পড়ে যায় এক সুইমিং পুলে। তাঁর বাড়ি কানাডার পেট্রোলিয়া এলাকায়। ওয়েলন সন্ডার্স নামে ওই শিশু প্রায় ৫ মিনিট সুইমিং পুলের জলে পড়ে ছিল। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় নিকটবর্তী হাসপাতালে। কিন্তু ততক্ষণ শিশুটি একেবারে নিস্পন্দ এবং শরীরও ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। হার্টবিট পাওয়া যাচ্ছিল না। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে বাঁচার কোনও সম্ভবনা নেই। কিন্তু ওই এলাকার হাসপাতালটি একেবারেই প্রাথমিক স্তরের। তাই খুব বেশী আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ছিল না পেট্রোলিয়া এলাকার ইলিয়নের এঙ্গলহার্ট হাসপাতালে।

কাছেপিঠের বড় হাসপাতাল অনেকটাই দূরে। তাই সেখানে নিয়ে যাওয়ার কোনও সময় ছিল না। ফলে সামান্য আশা না ছেড়ে প্রাথমিক হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা শুরু করেন শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁরা ওই একরত্তি শিশুকে সিপিআর দিতে থাকেন পালা করে। অন্যান্য কাজ ফেলে স্বাস্থ্যকর্মীরা ছুটে আসেন শিশুটিকে বাঁচাতে। টানা সিপিআর দেওয়ার পর তিন ঘণ্টা পর আসে সাফল্য। হার্টবিট চালু হয় ২০ মাসের ওই শিশুর।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, প্রায় ৫ মিনিট বরফঠান্ডা জলে পড়েছিল ওই শিশুটি। ফলে তাঁকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তখন তাঁর শরীরের তাপমাত্রা এতটাই কম ছিল যে যন্ত্রেও মাপা যাচ্ছিল না। ফলে প্রাথমিকভাবে শিশুটির শরীরে তাপমাত্রা বাড়ানোয় মনোযোগ দেয়। পোর্টেবল হিটার, গরম জল কিছুই বাদ দেননি ওই হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা। আবার হাতের সাহায্যে এবং কম্প্রেসর মেশিনের সাহায্যে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চলে সিপিআর দেওয়া। এমনকি শিশুটিকে বাঁচাতে কানাডার পেট্রোলিয়া শহরের ১০০ কিমি দূরে লন্ডন (কানাডা) থেকে একটি মেডিকেল টিম যন্ত্রপাতি নিয়ে হেলিকপ্টারে রওনা দেয়। সবমিলিয়ে ৩ ঘণ্টার পর শিশুটির হার্ট সচল হয়। জীবন ফিরে পায় ২০ মাসের একরত্তি শিশুটি। চিকিৎসক মহলে এই ঘটনাকে কার্যত মিরাক্যল বা ম্যাজিক বলেই দাবি করা হচ্ছে।
After falling through ice covering the pool at his babysitter’s house, as many as 30 individuals between Petrolia’s Charlotte Eleanor Englehart Hospital & Children’s Hospital worked to save Waylon.
Read how skill, determination & teamwork saved his life: https://t.co/hZXVERGuPR pic.twitter.com/jj99anTnpY
— London Health Sciences Centre (@LHSCCanada) February 16, 2023


More Stories
স্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিবেশনের পাঠশালা, পড়ুয়া ব্যবসায়ীরা শিখবেন তো?
চলে গেলেন মিঠু মুখার্জী
‘দিল্লি কা লাড্ডু’ খেয়ে গাছের মগডালে : আহমেদ আনসারীর আশ্চর্য কাহিনী