সময় কলকাতা ডেস্ক, ৯ মার্চ: কলকাতায় জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যু অব্যাহত। বৃহস্পতিবারও শহরের দুই হাসপাতালে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বি সি রায় শিশু হাসপাতালে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে তিনজনের মৃত্যুর কারণ অ্যাডিনোভাইরাস কিনা জানা যায়নি। তবে এই তিন শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তাঁদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলেই জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কলকাতা ও শহরতলির হাসপাতালগুলিতে শিশু মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে এবার রাজ্যে এল জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনের সদস্যরা। বৃহস্পতিবারই তাঁদের বি সি রায় শিশু হাসপাতাল-সহ কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করার কথা।

বি সি রায় শিশু হাসপাতাল সূত্রে জানা যাচ্ছে, বুধবার রাত দশটা নাগাদ নদিয়ার ফুলিয়ার এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর বয়স এক বছর দুমাস। তাঁকে কৃষ্ণনগর জেলা হাসপাতাল থেকে কলকাতায় রেফার করা হয়েছিল। শিশুটির নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্ট ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে বি সি রায় শিশু হাসপাতালে ৯ মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়ি রাজারহাটে। তাঁরও জ্বর ও শ্বাসকষ্ট ছিল। এদিন কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে নিউমোনিয়ায়। চিকিৎসক মহলের একাংশের দাবি, জেলা হাসপাতালগুলি থেকে রেফারের জেরেই জেরবার কলকাতার হাসপাতালগুলি। রোখা যাচ্ছে না মৃত্যু মিছিল। কারণ, দূরের জেলা গুলি থেকে আসা রোগীদের হাল এমনিতেই বেহাল থাকছে। অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় শিশুদের কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। ফলে এমার্জেন্সি বিভাগে তাঁদের সঠিক চিকিৎসা দেওয়ার আগেই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছে শিশুরা। এক্ষেত্রে দূরবর্তী স্থান থেকে আসার ধকলও নিতে পারছে না অসুস্থ শিশুরা। বেসরকারি মতে, এখনও পর্যন্ত ১২৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত কারণে।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর দাবি করেছে, বর্তমানে রেফার অনেকটাই কমেছে। ফলে শিশু মৃত্যুর গড় কিছুটা হলেও কমেছে। স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তার দাবি, জেলা হাসপাতালগুলিতে বেড বাড়ানো হয়েছে। বাড়তি ভেন্টিলেটর ও পিকু বেডও দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার যেমন করোনা মোকাবিলা করেছিল, এটাও সেভাবে করা হচ্ছে। কলকাতার সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরাও জানিয়েছেন, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। গতিপ্রকৃতি কিছুটা হলেও থিতু হয়েছে। কলকাতার হাসপাতালগুলিতে শিশু ভর্তির হারও কমেছে বিগত কয়েকদিনে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতার হাসপাতালগুলির চিকিৎসকদের বক্তব্য, জেলা হাসপাতালগুলিতে ভর্তি থাকা শিশুদের কিছুটা সুস্থ করে যদি কলকাতায় পাঠানো হয় তবে শিশু মৃত্যুর হার কমবে। কারণ দূরদুরান্ত থেকে নিয়ে আসার ফলে রাস্তার ধকল সইতে পারছে না অসুস্থ শিশুরা। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনের সদস্যরা কলকাতার হাসপাতালগুলির শিশু বিভাগ পরিদর্শন করবেন। তাঁরা খতিয়ে দেখবেন শিশু মৃত্যুর কারণ।


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বারাসাতে নিপায় আক্রান্ত নার্সের মৃত্যু
সফল সিজারিয়ান, উৎসবের আগমনে উদযাপন ধুপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে