Home » ভূমিকম্পের পর নতুন বিপদ বিধ্বস্ত তুরস্কে

ভূমিকম্পের পর নতুন বিপদ বিধ্বস্ত তুরস্কে

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৬ মার্চ: ফের প্রকৃতির রোষের মুখে তুরস্ক। এমনিতেই ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত তুরস্ক ও সিরিয়া। এবার মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে নেমে এল আকস্মিক বন্যা। তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্ব জেলাগুলিতে বুধবার আচমকা বন্যা বা ফ্ল্যাস ফ্লাড হয়েছে। ওই এলাকাতেই হয়েছিল ভয়াবহ ভূমিকম্প। ফলে ঘরবাড়ি হারিয়ে ওই এলাকার বাসিন্দারা তাঁবু ও কনটেইনারে বসবাস করছিলেন। কিন্তু আচমকা আসা বন্যায় সেগুলি ভেসে যায়। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় এক শিশু-সহ ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এখনও অনেকে নিঁখোজ রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল থেকেই তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে শুরু হয়েছিল মুষলধারে বৃষ্টি। বৃহস্পতিবারও বৃষ্টির তেজ কমেনি। এরফলেই বৃহস্পতিবার বিকেলে আচমকা বন্যা দেখা দেয় সিরিয়া সীমান্ত লাগোয়া সানলিউরফা এলাকায়। রাস্তার উপরে জলের তোড়ে ভেসে যাচ্ছে একের পর এক গাড়ি ও কনটেইনার। সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্যার কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। যা দেখে শিউড়ে উঠছেন নেটিজেনরা। সূত্রের খবর, তুরস্কের সানলিউরফা ও আদিয়ামান এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ভূমিকম্পে। এই এলাকাগুলিতে প্রচুর ঘরবাড়ি মাটিতে মিশে গিয়েছিল। ফলে সেখানকার অধিবাসীরা তাঁবু ও কনটেইনারে বসবাস করছিলেন। আচমকা আসা বন্যায় সেগুলি ভেসে যায়।

তুরস্কের গণমাধ্যম জানিয়েছে, সিরিয়া সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সানলিউরফা প্রদেশে আচমকা বন্যায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আদিয়ামান এলাকায় এক বছরের এক শিশু-সহ দুজনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখানে অনেক মানুষ নিঁখোজ বলেই জানিয়েছে তুরস্কের প্রশাসন। শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। আদিয়ামান প্রদেশের গভর্নর নুমান হাতিপোগলু জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে বেঁচে যাওয়া একদল মানুষ একটি কনটেইনারে বসবাস করছিলেন। বন্যায় সেটি ভেসে যায়। তাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে, চারজন নিঁখোজ। অপরদিকে সানলিউরফা প্রদেশে একটি বাড়ির বেসমেন্ট থেকে পাঁচ সিরিয় নাগরিকের দেহ উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি একটি আন্ডারপাসে আটকে থাকা গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে দুজনের দেহ।

About Post Author