সময় কলকাতা ডেস্ক,২৩ মার্চঃ একই পঞ্চায়েতে চাকরি করতেন অয়ন-শ্বেতা। হুগলির বলাগড়ের ডুমুরদহ নিত্যানন্দপুর-১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতে একশো দিনের কাজের স্কিল টেকনিক্যাল পারসন হিসাবে কাজ করতেন নৈহাটির শ্বেতা। তবে,শ্বেতা পঞ্চায়েতের চাকরি ছাড়ার দু বছর পরই চাকরি ছাড়েন প্রোমোটার অয়ন শীল। কাজে অনিয়মিত হওয়ায় শোকজ করা হয়েছিল অয়নকে। এবার এমনটাই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসল হুগলির বলাগড়ের ডুমুরদহ নিত্যানন্দপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের মুখে। নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অয়ন শীল এখন ইডির জালে। সরকারি দফতরে নিয়োগের নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলেছিলেন অয়ন শীল, এমনটাই অভিযোগ। তার বাড়ি ও অফিস থেকে মিলেছে পুরসভার ওএমআর শিট, চাকরির নথি। প্রমোটিং ব্যবসা থেকে পেট্রোল পাম্প টলিউড বিভিন্ন দিকে বিনিয়োগ করলেও তার এলাকায় প্রচুর দেনা মেটাননি বলেই অভিযোগ। তবে,শুধু নিয়োগ দুর্নীতিতেই ইতি টানেনি ‘গুণধর’ অয়ন।
আরও পড়ুন গরুপাচার কাণ্ডের জের,আসানসোল সংশোধনাগারের সুপারেনটেনডেন্টকে তলব ইডি-র!
তিন বছর আগে অয়নের ছেলের জন্মদিনে কেটারিং এর কাজ করেছিলেন অয়নেরই প্রতিবেশি বলরাম দাস। তিনি জানান, এক লক্ষ ১২ হাজার টাকার চুক্তি হলেও মাত্র কুড়ি হাজার টাকা দিয়েছিলেন অয়ন। ৯২ হাজার টাকা আর দেননি। বহু বার চেয়েও টাকা উদ্ধার করতে পারেননি।

উল্লেখ্য,অয়ন গ্রেফতার হতেই ইডি-র স্ক্যানারে উঠে এসেছিল এক রহস্যময়ী নারী শ্বেতা চক্রবর্তীর নাম। তাঁকে নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। বুধবারই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শ্বেতা বলেন,‘অয়নের প্রোডাকশন হাউজের ছবি কবাডি কবাডিতে কাজ করেছি। এছাড়াও কাউন্টিং নামের একটি শর্ট ফিল্মেও কাজ করেছি। সেই কাজের টাকা আমি পেতাম অয়নের থেকে। টাকার বদলে উনি আমাকে ওই গাড়িটি ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন। আমার কাজের পারিশ্রমিক হিসেবেই অয়ন গাড়ি দিয়েছিল। একইসঙ্গে এদিন অয়ন ঘনিষ্ঠ শ্বেতা বলেন,আমি ওনার থেকে চুঁচুড়ায় ফ্ল্যাট কিনেছিলাম।পরে ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন না হওয়ার কারণে ছেড়ে দিই। সেই টাকা উনি ফেরত দেন। আমার কাছে ফ্ল্যাটের চুক্তিপত্র রয়েছে এবং ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের প্রমাণও রয়েছে।’
আরও পড়ুন জেলায় জেলায় চড়ছে তাপমাত্রার পারদ

উল্লেখ্য,সোমবার ভোররাতে অয়ন শীলকে গ্রেফতার করেছে ইডি। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে এদিনই অয়নের অফিস থেকে ৪০০ ওএমআর শিটের ফটোকপি উদ্ধার করে ইডি। এর পাশাপাশি সল্টলেকের এফডি ব্লকে অয়নের অফিস থেকে শ্বেতার গাড়ি এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি উদ্ধার করেন ইডি আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, রাজ্যের বাইরে একাধিক রিসর্ট রয়েছে অয়ন ঘনিষ্ঠ শ্বেতার নামে। ইতিমধ্যেই শ্বেতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ২৫ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকেও কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। শ্বেতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এত টাকা কোথা থেকে এসেছে, তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি।


More Stories
অভিষেকের অফিসে ভাঙচুর
যাদবপুর নিয়ে মুখ খোলায় সংবাদপত্রের কার্যালয় ঘেরাও
নেতাজি ইস্যু : অনন্ত মহারাজকে উন্মাদ আখ্যা দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত!