Home » গুড ফ্রাইডে কেন পালন করা হয় জানেন?

গুড ফ্রাইডে কেন পালন করা হয় জানেন?

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৭ এপ্রিল:  গুড ফ্রাইডে,  খ্রিস্টানদের একটি স্মরণীয় দিন,  এবছর এপ্রিল মাসের ৭ তারিখ অর্থাৎ আজকে গুড ফ্রাইডে পালন করা হচ্ছে পৃথিবী জুড়ে। এই গুড ফ্রাইডের পিছনে আছে একটি ইতিহাস। কি সেই ইতিহাস? জেনে নিন-

গুড ফ্রাইডে দিনটি ক্রিশ্চান ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন।  ভারতের একটি উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসাবে বিবেচিত হয়। গুড ফ্রাইডে নামে পরিচিত হলেও দিনটি কোনো আনন্দের দিন নয়। যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয় এই দিন ।  খ্রিষ্টানদের মতানুযায়ী,  এই দিনে অর্থাৎ শুক্রবার যীশু খ্রীষ্টকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছিলো। আর এই গুড ফ্রাইডে এর ঠিক পরের দিনই পালন করা হয় ইস্টার ডে। এই দিন যীশু আবার পুনরুজ্জীবিত হয়েছিলেন বলে খ্রিস্টানদের বিশ্বাস।

যীশুর ক্রুশবিদ্ধ দিনই কেন গুড ফ্রাইডে ?

শোকাবহ ও দুঃখের দিন হওয়ার সত্ত্বেও কেন এটিকে গুড ফ্রাইডে বলা হয় সেটি নিয়ে যে আলোচনা রয়েছে তা হল , এই দিনটিকে জার্মান সহ অনেক দেশে ‘ডার্ক ফ্রাইডে’ বলা হয়ে থাকে। অনেকে এটাও বিশ্বাস করেন ‘গড ফ্রাইডে’ থেকে ‘গুড ফ্রাইডে’ কথাটি এসেছে। আবার কেউ কেউ এটাও বলেন যে, যীশু নিজে মানসিক যন্ত্রনা সহ্য করে সকলকে শুদ্ধ করেছেন তাই এই দিনটিকে গুড ফ্রাইডে বলা হয়।

আরও পড়ুন   পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতিতে অয়ন শীলের হার্ড ডিস্কে ১২ কোটির খোঁজ

তাৎপর্য ও  ইতিহাস : 

গুড ফ্রাইডে তে কোনো রকম উৎসব পালন করা হয় না,  এক প্রকার শোক দিবস বলায় চলে, ক্রিশ্চানরা এ দিন উপোস করে চার্চে গিয়ে যীশুর বাণীকে স্মরণ করে। শাস্ত্রীয় মতানুসারে, যীশু এপ্রিল মাসের এই শুক্রবারে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিল।  কিন্তু সাল নিয়ে অনেক মতবিরোধ আছে কেউ কেউ বলে ৩৩ খৃষ্টাব্দ, আবার কেউ  বলেন ৩৪ খৃষ্টাব্দে তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল। নামের মধ্যে গুড থাকলেও তা অর্থে “ভালো” নয় , এই দিন খ্রিস্টানরা গির্জায় তাদের ধর্ম মন্ত্র পাঠ করে থাকে, ইতিহাস দেখলে জানা যায় যিশুরই অন্যতম শিষ্য জুডাস বিশ্বাসঘাতকতা করে তাঁকে রোমান সেনার কাছে হস্তান্তর করে দেয় এবং তাঁকে কাঁটার মুকুট পরিয়ে কুরুশে পেরেক গেঁথে হত্যা করা হয় । কুরুশে বিদ্ধ হওয়ার ছয় ঘন্টা ধরে যীশু যন্ত্রনা ভোগ করেছিলেন। তাঁর এই বলিদানের প্রতি সম্মান জানিয়েই পালিত হয় গুড ফ্রাইডে।

যীশু মৃত্যুর আগে যা বলেছিলেন :

ক্রিশ্চানদের মতে,  যীশু ছিলেন ঈশ্বর প্রেরিত শান্তির দূত। তাঁর কথা মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল। প্রায় ২০০৪ বছর আগে যীশু শান্তি, প্রেম ও সৌভ্রাতৃত্বের বাণী প্রচার করেছিলেন জেরুজালেমে। এত অসহনীয় অত্যাচারের পরও নিজের সহ্য ক্ষমতা হারায়নি যীশু।  মৃত্যুর আগে তিনি নিজের হত্যাকারীদের ক্ষমা করে দেন। ঈশ্বরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন ‘তুমি ওদের ক্ষমা করে দাও ওরা জানেনা ওরা কি ভুল করছে’।

About Post Author