Home » জেনে নিন মহাবীর জয়ন্তীর তাৎপর্য ও ইতিহাস!

জেনে নিন মহাবীর জয়ন্তীর তাৎপর্য ও ইতিহাস!

সময় কলকাতা ডেস্ক,৩ এপ্রিল: মহাবীর জয়ন্তী হল জৈন সম্প্রদায়ের কাছে একটি বিশেষ বড় উৎসব। মূলত মহাবীরের জন্মদিন হিসাবে পালিত হয় এই দিন। মহাবীর ছিলেন জৈন ধর্মের সর্বশেষ ও ২৪তম তীর্থঙ্কর। জৈন ধর্মাবলম্বীরা মহাবীরকে শান্তির দূত হিসাবে মনে করেন। জৈন ধর্মাবলম্বীরা মহাবীরকে শান্তির দূত হিসাবে মনে করেন। হিংসা এবং এই অশান্তির জগতে ধর্মের মাধ্যমে প্রেম, অহিংসার বাণী প্রচার করেছেন মহাবীর। তাঁর জীবদশায় ও তাঁর মৃত্যুর পর মহাবীরের শিষ্যরা তাঁর বাণী সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছে। লোভ ত্যাগ করে  কীভাবে সততার মাধ্যমে  সাধারণ জীবনযাত্রা পালন করা যায়, সেসব বিষয়ে আমরা মহাবীরের ধর্ম থেকেই জানতে পারি। জীব হত্যারও বিরোধী ছিলেন তিনি।

আসুন জেনে নেওয়া যাক মহাবীর কে ছিলেন?

জৈন ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মহাবীর ।ভগবান মহাবীর খ্রিস্টের ৫৯৯ বছর আগে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে বৈশালী প্রজাতন্ত্রের ক্ষত্রিয় কুণ্ডলপুরে রাজা সিদ্ধার্থ ও তাঁর স্ত্রী রাণী ত্রিশলার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন।ভগবান মহাবীর বর্ধমান নামেও পরিচিত এবং তাঁর দ্বারাই জৈন ধর্মের মূল নীতিগুলি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। জীবনের মানোন্নয়নে অহিংসা, সত্য , অস্তেয় , ব্রহ্মচর্য এবং অপরিগ্রহ – এই ৫ ব্রত পালনের শিক্ষা দিয়েছিলেন।৩০ বছর বয়সে মহাবীর তাঁর সিংহাসন এবং অন্যান্য বস্তুগত সম্পদ ত্যাগ করেছিলেন এবং একজন তপস্বী হিসাবে বসবাস করেছিলেন বছরের পর বছর ধরে।

মহাবীর জয়ন্তী কেন উদযাপন করা হয়?

বিশ্বের জৈন সম্প্রদায় এই শুভ দিনটি বিশেষ ভাবে পালন করে।  জৈন ধর্মালম্বীরা মহাবীর জয়ন্তীতে উপবাস করেন। তারা খাদ্য ও বস্ত্র দিয়ে অভাবীদের সেবা করেন। জৈন মন্দিরগুলি এই দিন অর্থাৎ মহাবীর জয়ন্তীর দিন পতাকা দিয়ে সাজানো হয়। পালকি বা ঘোড়ার গাড়িতে মহাবীরের মূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রা বার করা হয়। মহাবীরের মূর্তিকে দুধ ও গঙ্গা জল দিয়ে স্নান করানো হয়। ভক্তরা কবিতা পাঠ করেন। জৈন মন্দির গুলি এইদিন দান ধ্যান মূলক অনেক কাজ করে থাকেন। মহাবীরের মূর্তি নিয়ে রথযাত্রা বের করা হয়। পদযাত্রার সঙ্গে সঙ্গেই ভজন ও গানের মাধ্যমে মহাবীরের বাণী প্রচার করা হয়।  ভক্তরা এইদিন ভগবান মহাবীরের নামে অভাবী ও দরিদ্র মানুষদের খাবার খাইয়ে থাকেন। এছাড়া পুরোহিতরা এই দিনে ভগবান মহাবীরের শিক্ষা সম্পর্কে বর্ণনা করেন যা শুনতেই অনেকে ভিড় জমান। এই দিনে ঘরে ঘরে ঐতিহ্যবাহী খাবার প্রস্তুত হয়।  এই সময় জৈনরা পেঁয়াজ ও রসুন খায়না।

আরও পড়ুন    দিল্লি সফরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়!

মহাবীর জয়ন্তীর তাৎপর্য :
জৈনরা মহাবীরকে অনুসরণ করে এবং তাঁর শান্তির শিক্ষায় ও অহিংসতায় বিশ্বাস করে। তাঁকে মহাবীর উপাধি দেওয়া হয়েছিল কারণ তিনি তাঁর ইন্দ্রিয়ের উপর দৃষ্টান্তমূলক নিয়ন্ত্রণও প্রদর্শন করেছিলেন। মহাবীরকে জৈন ধর্মাবলম্বীরা শান্তির দূত হিসাবে মনে করেন। জীব হত্যারও বিরোধী ছিলেন তিনি। মাত্র ৩০ বছর বয়সে তিনি পার্থিব আনন্দ ত্যাগ করেছিলেন।এইদিনটি জৈন সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্য বহন করে।

মহাবীর জয়ন্তী পালনের সময়সূচি :
এই বছর মহাবীরের ২৬২১ তম জন্মতিথি পালিত হবে আগামীকাল  অর্থাৎ ৪ এপ্রিল। বাংলা ক্যালেন্ডারের মতে সোমবারই  চৈত্র মাসের ১৩ তম দিন। তাই এদিন সকাল ৬:২৪ মিনিট থেকে শুরু করে মঙ্গলবার অর্থাৎ  ৪ এপ্রিল পর্যন্ত পালিত হবে মহাবীর জয়ন্তী।

About Post Author