সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৯ এপ্রিল: অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ হাতে পেয়েই কাটল জট। নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত সমস্ত মামলা নাকি নির্দিষ্ট কোনও মামলা থেকে সরছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, তা নিয়ে শুক্রবার দিনভর চলে জল্পনা। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনামা হাতে আসার পর সব জল্পনার অবসান ঘটে। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত দু’টি মামলা থেকে সরানো হল বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে। তবে, আগের মতো বাকি মামলা শুনবেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সম্প্রতি বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় একটি জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে মুখ খোলেন। এই মন্তব্য নিয়ে পরে আদালতে আলোচনা হয়। তবে সেই সময় বিচারপতি তাঁর মন্তব্যের কোনও ব্যাখ্যা দেননি। তার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানান হয়, এমন মন্তব্য করে থাকলে ওই মামলা শোনার অধিকার হারিয়ে ফেলেছেন বিচারপতি।

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের টিভিতে সাক্ষাৎকার দেওয়া নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের কাছে সেই সংক্রান্ত নথি চেয়ে পাঠান বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে, সেই নির্দেশের উপর এবার স্বতঃপ্রণোদিতভাবে স্থগিতাদেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট কী রায় দিয়েছে, তা নিয়ে প্রথমে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। শোনা যাচ্ছিল নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত সব মামলা থেকেই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কে সরানোর নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
আরও পড়ুন জিয়া খান রহস্যমৃত্যু মামলায় মুক্তি পেলেন অভিনেতা সূরজ পাঞ্চোলি
তবে পরে জানা যায়, প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত দু’টি মামলা থেকে সরানো হয়েছে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কে। আগের মতো বাকি মামলা শুনবেন তিনি। এরই মধ্যে এদিনই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের সেক্রেটারি জেনারেলকে নির্দেশ পাঠান, তাঁর যে সাক্ষাৎকারটি নিয়ে এত বিতর্ক, সেই সংক্রান্ত যে প্রতিলিপি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়েছে, তার কপিটি পাঠাতে হবে। এমনকী তার জন্য সময়ও বেঁধে দেন তিনি। জানান, তিনি মাঝরাত পর্যন্ত আদালতে থাকবেন। সেই কপিটি দেখতে চান, যার ভিত্তিতে তাঁকে মামলা থেকে সরানো হল।

বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এই নির্দেশের পরই শুক্রবার সন্ধেয় সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির স্পেশ্যাল বেঞ্চ এই সংক্রান্ত আলোচনায় বসে। এরপরই জানিয়ে দেওয়া হয় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় যে নির্দেশ দিয়েছেন, তার উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হল। অর্থাৎ তিনি যে কপি দেখতে চেয়েছেন, সুপ্রিম নির্দেশে আপাতত তা হাতে পাবেন না।এ প্রসঙ্গে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বলেন, তিনি পদত্যাগ করছেন না, তাঁর মনও খারাপ নয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানতেই হবে। সবশেষে তিনি বলতে চান, ‘সুপ্রিম কোর্ট যুগ যুগ জিও!’ তাঁর মন একটুও খারাপ নয়, একথা উল্লেখ করে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি যতদিন জজ হিসেবে কাজ করব, যে কোনও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হব।’ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এই প্রথমবার সংবাদমাধ্যমের সামনে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। গত দেড় বছরে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে মামলা মানেই ছিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একের পর এক নির্দেশ দেওয়া। সেই বিচারপতি যখন সুপ্রিম কোর্টের ধাক্কা খেলেন তখনও তিনি জানিয়ে দিলেন, পালিয়ে যাওয়ার লোক নন। সেইসঙ্গে এও স্পষ্ট করে দিলেন, তিনি দ্রুততার সঙ্গে সবটা করতে চাইছিলেন। এরপর অন্য বিচারপতি যদি এসে ষাট বছর লাগান তাতে তাঁর বা সুপ্রিম কোর্টের কিছু বলার থাকবে না।


More Stories
আসন বাড়িয়ে সংবিধান সংশোধনী তথা মহিলা সংরক্ষণ বিল আনতে ব্যর্থ কেন্দ্র
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?