Home » সভাপতি পদে ইস্তফা ঘোষণার পরই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার প্রতিশ্রুতি শরদ পাওয়ারের

সভাপতি পদে ইস্তফা ঘোষণার পরই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার প্রতিশ্রুতি শরদ পাওয়ারের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩ মেঃ মঙ্গলবারই এনসিপির সর্বভারতীয় সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন শরদ পাওয়ার। তবে, এদিন দুপুর গড়াতেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার প্রতিশ্রুতি দেন মারাঠা স্ট্রংম্যান। দুপুরে সভাপতি পদ থেকে ইস্তফার সময় জানিয়েছিলেন, “আমি জানি কোন সময়ে থামতে হয়।” মারাঠা স্ট্রংম্যানের এই সিদ্ধান্তে এনসিপির প্রায় নেতাই অবাক হয়ে যান। শুরু হয়ে যায় ইস্তফার হিড়িক। এমনকী, এনসিপি কর্মীরা এসে পাওয়ারের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করে দেন। তারপরেই পরিস্থিতির সামাল দিতে অজিত পওয়ার, শরদকন্যা সুপ্রিয়া সুলে-সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ এনসিপি নেতা পাওয়ারের সঙ্গে দেখা করেন।

আরও পড়ুন   কালিয়াগঞ্জে রাজবংশী যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ হাইকোর্টে

তাঁকে বুঝিয়ে শুনিয়ে দলের সভাপতি পদে ফেরানোর চেষ্টা করা হয়। বৈঠক শেষে অজিত পাওয়ার ঘোষণা করেন,”শরদজি তাঁর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় রাজি হয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলে ভাঙন আটকাতেই ‘ইমোশনাল কার্ড’ খেলতে চাইছেন তিনি। যদিও রাজনৈতিক মহলের অনুমান, ভাইপো অজিত পাওয়ারের সঙ্গে সংঘাতের কারণেই তিনি দলীয় প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।

শরদ পাওয়ারকে মহারাষ্ট্রের বিরোধী জোট মহা বিকাশ আঘাদি-র অন্যতম রূপকার বলা হয়। ১৯৯৯ সালে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হবার পর পি এ সাংমা, তারিক আনোয়ারকে সঙ্গে নিয়ে এনসিপি-র প্রতিষ্ঠা করেন শরদ পাওয়ার। ওই সময় কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে কিছু মতান্তরের কারণে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। এদিন পাওয়ার বলেন, এখনও রাজ্যসভায় আমার তিন বছরের মেয়াদ বাকি আছে। কিন্তু দীর্ঘ এই রাজনৈতিক কেরিয়ারের পর কোথাও থামার কথা ভাবতে হবে। একজনের লোভী হওয়া উচিত নয়। ভবিষ্যতে আর কোনোদিন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব না। তিনি আরও বলেন, ১৯৬০ সালের ১লা মে আমি আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলাম।

আরও পড়ুন   ধেয়ে আসছে সুপার সাইক্লোন মোচা

বিবৃতিতে পাওয়ার দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। পাওয়ার জানিয়েছিলেন, এই কমিটিতে প্রফুল্ল প্যাটেল, সুনীল টাটকারে, পি সি চাকো, নরহারি জিরওয়াল, অজিত পাওয়ার, সুপ্রিয়া সুলে, জয়ন্ত পাটিল, ছগন ভুজবল, দিলীপ ওয়ালসে পাটিল, অনিল দেশমুখ, রাজেশ টোপে, জিতেন্দ্র আওহাদ, হাসান মুশারিফ, ধনঞ্জয় মুন্ডে, জয়দেব গাইকোয়াড় সহ দলের মুখ্য সংগঠনের প্রধানরা থাকবেন। শরদ পাওয়ারের এই ঘোষণার পরেই দলীয় কর্মীরা তাঁর কাছে এই সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন। দলীয় কর্মীরা জানাচ্ছেন, তাঁরা এই সিদ্ধান্ত মানবেন না। এই সিদ্ধান্ত থেকে যতক্ষণ না শারদ পাওয়ার সরে আসবেন আমরা এখান থেকে নড়বো না।

About Post Author