সময় কলকাতা ডেস্ক,২ মেঃ সামনেই কর্ণাটকে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সোমবার ইস্তাহার প্রকাশ করে বিজেপি। সেই ইস্তাহারে বিজেপি স্পষ্ট করেছিল, দক্ষিণের এই রাজ্যেও হিন্দুত্বের দুই অস্ত্র অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এবং এনআরসি চালুর করার কথা বলেছে তারা। ঠিক তার পরের দিনই মঙ্গলবার ইস্তাহার প্রকাশ করে কংগ্রেস। ইস্তাহারে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নিবিশেষে সকলের জন্য কর্নাটককে ‘শান্তিবন’ হিসাবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিল। বিজেপির কট্টর হিন্দুত্বের উল্টো পথে রাহুল গান্ধির ভারত জোড়ো যাত্রার মূল মন্ত্রকেই তুলে ধরেছে। কংগ্রেস সেই সঙ্গে ঘোষণা করেছে দল ক্ষমতায় ফিরলে হিন্দুত্ববাদী ও ইসলামপন্থী দুই কট্টর সংগঠন যথাক্রমে বজরং দল এবং পিএফআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া অধিকারহরণের যাবতীয় আইনগুলি বাতিল করবে কংগ্রেস সরকার।
আরও পড়ুন কলকাতা হাইকোর্টের নতুন প্রধান বিচারপতি হলেন টিএস শিবজ্ঞানম

তবে কংগ্রেসের ইস্তাহারের মূল বার্তা বিনা পয়সায় সরকারি সুবিধা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি। খানিকটা ইস্তাহারটি আম আদমি পার্টির বলে মনে হওয়া অসম্ভব নয়। রাহুল গান্ধি আগেই ঘোষণা করেন বেকার ভাতার। গ্র্যাজুয়েট বেকাররা পাবেন মাসে তিন হাজার টাকা। নন গ্র্যাজুয়েটরা দেড় হাজার। এছাড়া পরিবার পিছু মাসে দু’শো ইউনিট বিদ্যুৎ ফ্রি। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের দেওয়া হবে বছরে ছয় হাজার টাকা। এছাড়াও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের চলতি প্রকল্পের বাইরেও কংগ্রেস সরকার গরিবদের মাসে মাসে ১০ কেজি চাল ফ্রি দেবে বলে আগেই ঘোষণা করেছে। এদিন ইস্তাহার প্রকাশের সময় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেন, কর্নাটকে সরকারি বাসে মহিলাদের ভাড়া গুণতে হবে না। কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে মহিলারা বিনা ভাড়ায় সরকারি বাসে যাতায়াত করতে পারবেন। সেই সঙ্গে খাড়্গের ঘোষণা, কংগ্রেসকে ক্ষমতায় আনলে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সব ক’টি প্রতিশ্রুতি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হবে।

এদিকে,ভোটের আগে কর্নাটকে সোমবার প্রকাশ্যে কংগ্রেসের নয়া হ্যাসট্যাগ ক্যাম্পেন। ক্রাই পিএম, পে সিএম – প্রচারে কংগ্রেস নিশানায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই। আসলে মোদি সম্পর্কে ‘ক্রাইপিএম’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে কংগ্রেস বোঝাতে চেয়েছে, এই প্রধানমন্ত্রী শুধু বিলাপ করতে জানেন। ‘আমাকে আক্রমণ করা হয়েছে’ বলে কথায় কথায় কাঁদুনি করা তাঁর অভ্যাস। এবার নির্বাচনে কর্নাটকের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের মস্তবড় অস্ত্র হল এবার দুর্নীতি, সরকারি কাজে কাটমানির অভিযোগ। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী এ পর্যন্ত তাঁর তিনটি নির্বাচনী সভাতেই অনেকটা সময় ধরে অভিযোগ করেন, কংগ্রেস তাঁকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছে। প্রধানমন্ত্রী এমনকী হিসাব দেন, মোট ৯১ বার হাত চিহ্নের পার্টি তাঁকে গালমন্দ করেছে।


More Stories
কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটারে ৪ পয়সা কমল, ডিজেল বাড়ল ৯৪ পয়সা
পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান খ*তম , কে এই হামজা?
ককরোচ জনতা পার্টির এক্স হ্যান্ডেল নিষিদ্ধ!