Home » আকাশ ভরা ‘সূর্য’ তারা! গুজরাটকে হারিয়ে শেষ চারের পথে মুম্বই

আকাশ ভরা ‘সূর্য’ তারা! গুজরাটকে হারিয়ে শেষ চারের পথে মুম্বই

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১৩ মে: লিগ টপারদের হারিয়ে চমক মুম্বইয়ের। শুক্রবার ঘরের মাঠে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে মুম্বই। সূর্যের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ভর করে ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২১৮ রান তোলে মুম্বই। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রানে থেমে যায় গুজরাটের ইনিংস। ২৭ রানে ম্যাচ জিতে লিগ তালিকার তিন নম্বরে উঠে এল মুম্বই। ইনিংসের শেষ বল। ৯৭ রানে পিচে রয়েছেন সুর্যকুমার যাদব। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ম্যাচ দেখতে আসা হাজার হাজার মুম্বই ইন্ডিয়ান্স সমর্থকরা প্রার্থনা করছিল শেষ বলটা যেন বাউন্ডারির বাইরে যায়। যদিও কাজটি সহজ নয়, কারণ গুজরাট টাইটান্সের হয়ে শেষ ওভারটি করছিলেন আলজারি জোসেফ। এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা বোলার। তবে, সমর্থকদের নিরাশ করেননি সূর্য। শেষ বলে একদম নিজস্ব কায়দায় বলটিকে পাঠালেন মাঠের বাইরে। তার সঙ্গেই চলতি আইপিএলে নিজের প্রথম অর্ধশত রানের নজিরও গড়লেন এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা টি-২০ ক্রিকেটার।

এদিন শুরু থেকেই মারমুখী মেজাজে ছিলেন সূর্য। গতবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন গুজরাট, এবারেও লিগ শীর্ষে রয়েছে। সেই গুজরাটের শক্তিশালী বোলিং আক্রমনকে নিয়ে এক কথায় ছেলে খেলা করলেন ৩২ বছরের এই ভারতীয় ব্যাটার। শামি, মোহিত শর্মাদের একের পর এক বল ক্রিকেটীয় শটে পাঠালেন মাঠের বাইরে। যদিও এবারে আইপিএলে শুরুতে ছন্দে ছিলেন না ভারতের মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে প্রথম ছন্দে দেখা যায় তাঁকে। তারপর থেকে লাগাতার সূর্যের তেজে দিশেহারা হতে হয়েছে বিপক্ষের বোলারদের। শুক্রবারও সেই দৃশ্যই দেখা গেল আরব সাগরের তীরবর্তী ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়ামে। তাই ম্যাচ শেষে গুজরাটের হয়ে চার উইকেট নেওয়া আফগান অলরাউন্ডার রশিদ খান স্বীকার করে নিলেন, ব্যাট হাতে সূর্য যে অবিশ্বাস্য দাপট দেখাচ্ছেন, তাতে তাঁর বিরুদ্ধে বল করাটা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য।

এদিন টসে জিতে মুম্বইকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান গুজরাট অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। আর গুজরাট অধিনায়কের এই সিদ্ধান্তের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেন মুম্বই ব্যাটাররা। এমনকি দীর্ঘদিন পর এই ম্যাচে রানে ফিরলেন মুম্বই অধিনায়ক রোহিত শর্মা। এদিন মুম্বইয়ের হয়ে ম্যাচের শুরুতে বড় রানের ভিত গড়ে দেন রোহিত ও ঈশান। রোহিত ১৮ বলে ২৯ রান ও ঈশান করেন ২০ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেলেন। প্রথম পাওয়ার প্লে তে বিনা উইকেট হারিয়ে ৬১ রান তোলে মুম্বই। সপ্তম ওভারে মুম্বইয়ের দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে গুজরাটকে ম্যাচে ফেরান রশিদ খান। এছাড়াও টিম ডেভিডের উইকেট-সহ মোট চারটি উইকেট নিলেন এই আফগান স্পিনার। বাকিরা সূর্যের তেজের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন। ওয়াংখেড়েতে প্রথম ইনিংসে গড় রান যেখানে ১৮৫ থেকে ১৯০। সেখানে মুম্বই থামল ৫ উইকেটে ২১৮ রানে। বড় রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় গুজরাট। মুম্বইয়ের ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার আকাশ মধওয়াল গুজরাটের দুই ওপেনারকে ফেরান।

আরও পড়ুন   অভিষেককে শুভেচ্ছা মমতার! ২ হাজার কিমি পেরোল ‘তৃণমূলে নবজোয়ার’ যাত্রা

গুজরাট অধিনায়ক হার্দিককে ডাগআউটে ফেরান জেসন বেহরেনডর্ফ। চতুর্থ ওভারে ২৬ রানে ৩ উইকেট খুইয়ে বিপাকে পড়ে যায় গুজরাট। এই পরিস্থিতে দলের হাল ধরেন ডেভিড মিলার ও বিজয় শঙ্কর। তবে তাঁদের ইনিংস দীর্ঘস্থায়ী হয় নি। ১৪ বলে ২৯ রানে বিজয়কে ফেরান মুম্বইয়ের অভিজ্ঞ স্পিনার পীযূষ চাওলা। ব্যাট হাতে বিধ্বংসী হয়ে ওঠা মিলারকে ২৬ বলে ৪১ রানে ফেরান আকাশ। এরপর মোটামুটি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ম্যাচের সময় দীর্ঘায়িত করেন সেই রশিদ খান। বল হাতে চার উইকেট নেওয়া রশিদ এদিন ব্যাট হাতেও সফল। রশিদের ৩২ বলে ৭৯ রানের ইনিংস সাজানো ছিল ৩ টি চার ও ১০ টি বিশাল ছক্কার সাহায্যে। তবে এদিন ম্যাচ জেতার জন্য যে টিম অ্যাফর্টের দরকার ছিল, সেটা দেখা গেল না লিগের শীর্ষ স্থানাধিকারীদের খেলায়। সব মিলিয়ে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রানে থামতে হয় গুজরাটকে। এই ম্যাচে হারলেও লিগ তালিকার শীর্ষ স্থান ধরে রাখলেন হার্দিকরা। ১২ ম্যাচে তাঁদের পয়েন্ট ১৬। ম্যাচ জিতে তিন নম্বরে উঠে এল মুম্বই। ১২ ম্যাচে তাঁদের সংগ্রহ ১৪ পয়েন্ট। লিগ তালিকার যা অবস্থা তাতে গুজরাটের সঙ্গে মুম্বইও প্লে অফের দিকে এক পা বাড়িয়ে রাখল এই ম্যাচ জিতে।

About Post Author