সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ মেঃ বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনও থমথমে পরিবেশ পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার খাদিকুল গ্রাম। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ গিয়েছে ৯ জনের। যদিও মৃতের সংখ্যা আরও বেশি বলেই বিরোধীদের অভিযোগ। এই ঘটনার পরই অবশেষে নড়েচড়ে বসল রাজ্য। বেআইনি বাজি তৈরির ব্যবসায় যুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থার নির্দেশ দিল নবান্ন। ইতিমধ্যেই পুলিশ সুপার এবং কমিশনারদের ছ’দফা নির্দেশ পাঠানো হয়েছে নবান্নের তরফে। সেখানে বাজি ব্যবসায় যুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বলা হয়েছে, বেআইনি বাজি কারখানায় নিয়মিত নজরদারি চালাতে হবে। কোনরকম বিস্ফোরক পেলেই বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

এমনকী বাজেয়াপ্ত হওয়া সামগ্রী নিয়ম মেনেই নষ্ট করতে হবে। যাতে আর নতুন করে কেউ এই ব্যবসায় যুক্ত হতে না পারেন, তাই বেআইনি বাজি প্রস্তুতকারক সম্পর্কে সমস্ত তথ্য স্থানীয় থানাকেও জানিয়ে রাখতে হবে। বাজি কারখানায় সাধারণত স্থানীয় বাসিন্দারাই কাজ করেন। তাই প্রয়োজন হলে তাঁদের পুনর্বাসনের বন্দোবস্ত করতে হবে স্থানীয় প্রশাসনকেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের বেআইনি বাজি কারবারের অপকারিতা বুঝিয়ে বলতে হবে। এগরা ১ নম্বর ব্লকের সাহারা খাদিকুল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতোই মঙ্গলবার রাতে এগরার খাদিকুলে পৌঁছন সিআইডি আধিকারিকরা।
আরও পড়ুন এগরা বিস্ফোরণ কাণ্ডে ওড়িশা হাসপাতালেই মৃত্যু মূল অভিযুক্ত ভানু বাগের!

এদিকে, এগরা বিস্ফোরণ কাণ্ডে মৃত্যু হল মূল অভিযুক্ত ভানু বাগের। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওড়িশার হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এগরা মারাত্মক বিস্ফোরণ কাণ্ডের পর ক্ষতবিক্ষত ছিলেন মূল অভিযুক্ত কৃষ্ণপদ ওরফে ভানু বাগও৷ কিন্তু, সে সব তোয়াক্কা না করেই ঘটনার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বাড়ি ছাড়েন তিনি৷ তখনও ভানু ছিলেন রক্তাক্ত৷ বেশিদূর যাওয়ার ক্ষমতা তাঁর ছিল না৷ গত বুধবার সকালেই ওড়িশার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল সিআইডির বিশেষ দল৷ ইতিমধ্যেই ভানু ঘনিষ্ঠ ৪ জনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও শুরু হয়৷ সবশেষে রাতেই মিলেছিল সাফল্য৷ সিআইডি আধিকারিকদের হাতে ধরা পড়ে গিয়েছিলেন ভানু৷ ভানুর পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁর ছেলে পৃথ্বীজিৎ বাগ এবং ভাইপো ইন্দ্রজিৎ বাগ৷ তবে গ্রেফতার করা হয় ভানু বাগকেও। তবে গ্রেফতার হলেও ভানুকে রাজ্যে আনা সম্ভব ছিল না৷ ওড়িশায় পৌঁছেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিলেন ভানু বাগ। তাঁকে বেডের উপরে কলাপাতা বিছিয়ে শুইয়ে রাখা হয়েছিল। সেই ছবিও প্রকাশ্যে আসে। তবে, ওড়িশা পুলিশ ছিল পাহারায়৷ একটু সুস্থ হলেই ভানুকে ট্রানজিট রিম্যান্ডে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হত। কিন্তু তার আগেই মৃত্যু হল ভানুর।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক