Home » এগরা বিস্ফোরণ কাণ্ডে সিআইডি-র হাতে গ্রেফতার ভানু বাগের স্ত্রী

এগরা বিস্ফোরণ কাণ্ডে সিআইডি-র হাতে গ্রেফতার ভানু বাগের স্ত্রী

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৪ মে: এগরা বিস্ফোরণ কাণ্ডে নয়া মোড়। এবার সিআইডির জালে মূল অভিযুক্ত মৃত ভানু বাগের স্ত্রী গীতারানি বাগ। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। জানা গিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই ভাইয়ের বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন তিনি। সেখানে হানা দিয়েই খোঁজ মেলে গীতারানির। গত ১৬ মে,মঙ্গলবার সকালে বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল এগরার খাদিকুল গ্রাম। বিস্ফোরণের জেরে মৃত্যু হয় ১০ জনের। দুর্ঘটনার পরই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান মূল অভিযুক্ত ভানু বাগ। এরপর কটকের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ভানু বাগও মারা যান। কটক থেকে ভানু বাগের ছেলে ও ভাইপোকে গ্রেফতার করে সিআইডি। তারপর থেকেই খোঁজ চলছিল ভানু বাগের স্ত্রীর। অবশেষে রামনগরে খোঁজ মিলল তাঁর। ভাইয়ের বাড়ি থেকে গ্রেফতারের পরে বুধবারই আদালতে তোলা হচ্ছে তাঁকে।

আরও পড়ুন   দশমবারের জন্য আইপিএল ফাইনালে ধোনির চেন্নাই

এদিকে, এগরা বিস্ফোরণ কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত মৃত ভানু বাগের ছেলে পৃথ্বীজিৎ বাগ এবং খুড়তুতো ভাইকে ১০ দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গত সপ্তাহের শুক্রবার ধৃতদের কাঁথি আদালতে পেশ করে সিআইডি। ধৃতদের ১৪ দিনের হেফাজত চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় সিআইডি। ১০দিনের হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর করেছেন বিচারক। এগরার বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হন কারখানার মালিক ভানু বাগও। পুলিশের চোখে ধুলো দিতে সঙ্গে সঙ্গেই এগরা থেকে ভানুকে কটকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। এই হাসপাতালেই বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যু হয় ভানু বাগের।

উল্লেখ্য, এগরা বিস্ফোরণ কাণ্ডে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওড়িশার হাসপাতালেই মৃত্যু হয় মূল অভিযুক্ত ভানু বাগের। মারাত্মক বিস্ফোরণ কাণ্ডের পর ক্ষতবিক্ষত ছিলেন মূল অভিযুক্ত কৃষ্ণপদ ওরফে ভানু বাগও৷ কিন্তু, সে সব তোয়াক্কা না করেই ঘটনার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বাড়ি ছাড়েন তিনি৷ তখনও ভানু ছিলেন রক্তাক্ত৷ বেশিদূর যাওয়ার ক্ষমতা তাঁর ছিল না৷ গত বুধবার সকালেই ওড়িশার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল সিআইডির বিশেষ দল৷ ইতিমধ্যেই ভানু ঘনিষ্ঠ ৪ জনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও শুরু হয়৷ সবশেষে রাতেই মিলেছিল সাফল্য৷ সিআইডি আধিকারিকদের হাতে ধরা পড়ে গিয়েছিলেন ভানু৷ ভানুর পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁর ছেলে পৃথ্বীজিৎ বাগ এবং ভাইপো ইন্দ্রজিৎ বাগ৷ গ্রেফতার করা হয় ভানু বাগকেও। তবে গ্রেফতার হলেও ভানুকে রাজ্যে আনা সম্ভব ছিল না৷ ওড়িশায় পৌঁছেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিলেন ভানু বাগ। তাঁকে বেডের উপরে কলাপাতা বিছিয়ে শুইয়ে রাখা হয়েছিল। সেই ছবিও প্রকাশ্যে আসে। তবে, ওড়িশা পুলিশ ছিল পাহারায়৷ একটু সুস্থ হলেই ভানুকে ট্রানজিট রিম্যান্ডে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হত। কিন্তু তার আগেই মৃত্যু হল ভানুর।

About Post Author