Home » নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধনের অনুষ্ঠান বয়কটের ঘোষণা করে যৌথ বিবৃতি দিল ১৯ টি দল

নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধনের অনুষ্ঠান বয়কটের ঘোষণা করে যৌথ বিবৃতি দিল ১৯ টি দল

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৪ মে: রবিবার নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠান বয়কটের কথা ঘোষণা করে যৌথ বিবৃতি দিল ১৯টি দল। ওই বিবৃতিতে স্পষ্ট লেখা হয়েছে, যেভাবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে সাইডলাইনে রেখে নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই করবেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে তা শুধু অগণতান্ত্রিক নয়, চূড়ান্ত স্বৈরাচারী। উল্লেখ্য, সংবিধানের ৮৫, ৮৬ এবং ৮৭ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন ডাকবেন, মুলতবি করবেন এবং লোকসভা ভেঙে দিতেও পারবেন। এছাড়া সংসদের যে কোনও সভা বা যৌথ সভার অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে পারবেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া বিল, অধ্যাদেশ আইনি স্বীকৃতি পায় না। রাষ্ট্রপতিকে বাদ দিয়ে তাই নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন অসাংবিধানিক বলে মত বিরোধীদের। আগামী ২৮ মে নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন। বয়কট ঘোষণার পাশাপাশি তৃণমূল দাবি তুলেছে, রাষ্ট্রপতিকে দিয়েই সংসদ ভবনের উদ্বোধন করাতে হবে।

আরও পড়ুন   নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধনে ব্রাত্য রাষ্ট্রপতি! বয়কটের সিদ্ধান্ত বিরোধীদের

আরও পড়ুন    শ্যুটিং চলাকালীন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত জনপ্রিয় অভিনেতা নীতেশ পাণ্ডে

ইতিমধ্যেই দেশের নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে ফের একবার বিজেপি বিরোধী শক্তিগুলি জোটবদ্ধ হবার চেষ্টা শুরু করলো। আগামী ২৮ মে উদ্বোধন হতে চলেছে নতুন সংসদ ভবনের। ঐদিনই হিন্দুত্ববাদী সাভারকরের জন্মদিবস। বিরোধী বাম কংগ্রেসের দাবি, সাভারকারের জন্মদিন কে সামনে রেখেই বিজেপি নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি সংসদ ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি মহামহীম দ্রৌপদী মুর্মুকে। আর এই পুরো বিষয়টিকে সামনে রেখেই সংসদ ভবন উদ্বোধনের অনুষ্ঠান বয়কট করার প্রাথমিক পরিকল্পনাও নিয়ে ফেলেছে বিরোধী শিবির। বাম কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নয়, পদমর্যাদা অনুযায়ী নব সংসদ ভবনের উদ্বোধন করার অধিকারী রাষ্ট্রপতির। সীতারাম ইয়েচুরি-রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সুর মিলাতে শুরু করেছেন ইতিমধ্যেই শারদ পাওয়ার, নীতিশ কুমার সহ অন্যান্য বিরোধী নেতৃত্ব। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে পর পর চারটি টুইটে বিঁদ্ধ করেন নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর সরকারকে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ও আরএসএস রাষ্ট্রপতি পদকে স্মারকে পরিণত করতে চাইছে।

উদাহরণ স্বরূপ সংসদ ভবনের শিলান্যাসের সময় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে আমন্ত্রণ না জানানোর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র ভোটের সময় দলিত ও জনজাতি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সহানুভূতি দেখানো মোদি সরকারের একটি রণকৌশল। ভারতীয় সংবিধানের ৭৯ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে দেশের সংসদ গঠিত হয়েছে রাষ্ট্রপতি, রাজ্যসভা এবং লোকসভা নিয়ে। যেহেতু রাষ্ট্রপতি সংসদের শীর্ষাসনে, তাই নয়া ভবন উদ্বোধন হওয়া উচিত তাঁর হাতেই। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও এই প্রসঙ্গ তুলেছেন। সংসদ ভবন উদ্বোধনের অনুষ্ঠান বয়কটের আহ্বান করে খাড়গে ও নীতীশ অন্যান্য দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও ঠিক হয়েছে।

About Post Author