সময় কলকাতা ডেস্ক,, ৩১ মেঃ যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি সাংসদ ও সর্বভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের সভাপতি ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে। তাঁর গ্রেফতারের দাবিতে ধরনায় বসেছিলেন ভিনেশ ফোগট, সাক্ষী মালিক ও বজরং পুনিয়ারা। কিন্তু তারপরেও মুখে কুলুপ কেন্দ্রের। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারই প্রতিবাদের হরিদ্বারের হর কি পৌড়ি ঘাটে পদক বিসর্জন দিতে গিয়েছিলেন ভারতীয় কুস্তিগীররা। কিন্তু কুস্তিগীররা শেষমুহূর্তে থেমে যান কৃষক নেতা নরেশ টিকায়েতের হস্তক্ষেপে। এদিন কুস্তিগীরদের বুঝিয়ে গঙ্গার ঘাট থেকে সরিয়ে নিয়ে গেলেন কৃষক নেতারা।
আরও পড়ুন ‘কুস্তিগীরদের যন্তরমন্তরের সামনে বসতে দেওয়া হবে না ‘,স্পষ্ট জানিয়ে দিল দিল্লি পুলিশ

জানা গিয়েছে, কুস্তিগীররা পদক বিসর্জন দিতে গঙ্গার ঘাটে জমায়েত হলেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি কেন্দ্রের কোনও প্রতিনিধি। ঘাটে বসেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ভিনেশ, সাক্ষীরা। শেষ মুহূর্তে সেখানে এসে হাজির হন কৃষক নেতা নরেশ টিকায়েত। ভিনেশ ফোগট বলেন, এই মডেলের কোনও মূল্য নেই। পুলিশ ও প্রশাসন আমাদের সঙ্গে ক্রিমিন্যালের মতো আচরণ করেছে। কুস্তিগীররা শেষপর্যন্ত কেন্দ্রকে আরও ৫ দিন সময় বেঁধে দিলেন। মঙ্গলবার রাতেই এ বিষয়ে মুখ খুললেন অভিযুক্ত ব্রিজভূষণ। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন,‘পদক গঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত একেবারেই কুস্তিগীরদের নিজেদের। আমার কিছুই করার নেই। আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। আমি যদি কোনও অন্যায় করে থাকি, তাহলে আমাকে গ্রেফতার করা হবে। ’

অন্যদিকে,সোমবার অমিত শাহের মন্ত্রক নিয়ন্ত্রিত রাজধানীর পুলিশ স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল, কে কী বলল তাতে তাদের কোনও হেলদোল নেই। এদিন দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হল, কোনওভাবেই যন্তরমন্তরের সামনে কুস্তিগিরদের প্রতিবাদ কর্মসূচি করতে দেওয়া হবে না। দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনারের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে টুইট করে বলে দেওয়া হয়েছে, আগে থেকে অনুমতি নিয়ে কোথাও কোনও কর্মসূচি করতে চাইলে প্রশাসন ভেবে দেখবে। যন্তরমন্তরের কাছাকাছি কোনও একটি জায়গায় অনুমতি দেওয়া যেতে পারে একদিন বা নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে। তবে ধারাবাহিকভাবে তা করা যাবে না।

গত রবিবার সকালেও সংসদ ভবনের বাইরের যে ছবি ও ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছিল, তা দেখে শিউরে উঠেছিলেন অনেকেই। ব্রিজভূষণের গ্রেফতারের দাবিতে কুস্তিগীররা, যন্তরমন্তর থেকে নতুন সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু দিল্লি পুলিশ তাঁদের আটক করে। মারধর করে, এমনকী ব্যারিকেড দিয়ে পথ রুখে দেয়। বিভিন্ন রাজ্যের খাপ পঞ্চায়েত, কৃষক ও আন্দোলনকারী কুস্তিগীরদের সমর্থনে ‘মহিলা সম্মান মহাপঞ্চায়েত’-এর ডাক দেওয়া হয়েছিল। এই দৃশ্য দেখে সুনীল ছেত্রী ও নীরজ চোপড়ার মতো দেশের তারকা অ্যাথলিটরা গর্জে উঠেছিলেন।
আরও পড়ুন অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি মণিপুরে,শান্তি ফেরাতে কড়া নির্দেশ অমিত শাহর

প্রসঙ্গত,বছরের গোড়া থেকেই ব্রিজভূষণের প্রতিবাদে পথে নেমেছেন অলিম্পিক-কমনওয়েলথ পদকজয়ী কুস্তিগীররা। সাক্ষী মালিক, ভিনেশ ফোগাটের মতো তারকারা দিল্লির যন্তর মন্তরে ধর্নায় বসেছেন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের নয়া সংসদ ভবনের উদ্বোধনের দিনও সংসদ ভবন অভিযানে ডাক দিয়েছিলেন প্রতিবাদী কুস্তিগীররা। সংসদ ভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দিল্লি। ওইদিন সাক্ষী মালিক, বিনেশ ফোগট, সঙ্গীতা ফোগট, বজরং পুনিয়ারা সংসদ ভবনের দিকে এগোতেই জোর করে ধরপাকড় চালিয়ে তাঁদের তুলে দেওয়া হয় বাসে। রবিবাসরীয় রাজধানীতে ঘটা এমনই ঘটনার এবার তীব্র নিন্দা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক টুইটে তিনি জানিয়েছেন, ‘যেভাবে দিল্লি পুলিশ সাক্ষী মালিক, বিনেশ ফোগতদের আটক করেছে, তার তীব্র নিন্দা করছি। আমি ওদের সঙ্গেই আছি।’ টুইটে মমতা আরও লেখেন, ‘গণতন্ত্রের ভিত্তি হল সহনশীলতা। একনায়কতান্ত্রিক শক্তি বিরুদ্ধ মতকে সহ্য করতে পারে না, তাদের জায়গাও দেয় না।’


More Stories
“কংগ্রেসের হাত-ছাড়া ভুল ছিল”, বিস্ফোরক অনুব্রত দুষছেন আইপ্যাককে
সিআইডি অবিলম্বে অভিষেককে গ্রেফতার করতে চায়, অন্তরায় হাইকোর্টের নির্দেশ
পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গুলি, নিহত ৩০