Home » উদ্ধারকাজ খতিয়ে দেখতে বালেশ্বরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

উদ্ধারকাজ খতিয়ে দেখতে বালেশ্বরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

সময় কলকাতা ডেস্ক,৩ জুনঃ ওড়িশার বালেশ্বরের দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জানা গিয়েছে, বালেশ্বরের দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন তিনি। খতিয়ে দেখবেন উদ্ধারকাজও। এরপরে সেখান থেকে কটক হাসপাতালে যাবেন তিনি। রেল দুর্ঘটনায় আহত শতাধিক যাত্রী ভর্তি রয়েছেন ওই হাসপাতালে। তাদের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্রের খবর, দুপুর আড়াইটে নাগাদ প্রধানমন্ত্রী ভুবনেশ্বর বিমানবন্দরে পৌঁছবেন। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে সোজা ঘটনাস্থলে পৌঁছবেন তিনি। সেখানেই জরুরি বৈঠক করবেন রেলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও অন্যান্যদের সঙ্গে। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর তরফে নিহতদের পরিবার পিছু ২ লাখ টাকা এবং আহতদের পরিবার পিছু ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। ন্যাশনাল রিলিফ  ফান্ড থেকে তিনি আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন।

আরও পড়ুন   বালেশ্বর যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব

অন্যদিকে, কপ্টারে করে ওড়িশায় পৌঁছে গিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে রয়েছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বীনী বৈষ্ণব। দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন। উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। আহতদের চিকিৎসার দ্রুত বন্দোবস্ত করার নির্দেশ দেন।এদিকে, কেন্দ্রীয়মন্ত্রী ধমেন্দ্র প্রধানও কলকাতা সফর সংক্ষিপ্ত করে ওড়িশার বালাসোরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য,শুক্রবার সন্ধ্যায় এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনা সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। এদিন সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিট নাগাদ ওড়িশার বালেশ্বরের বাহানাগা বাজার স্টেশনের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়িতে ধাক্কা মেরে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় হাওড়ার শালিমার থেকে চেন্নাইগামী করমণ্ডল এক্সপ্রেস। একসঙ্গে করমন্ডল এক্সপ্রেস,যশবন্তপুর-হাওড়া এবং একটি মালগাড়ি দুর্ঘটনা কবলে পরে। পাশাপাশি ধাক্কা লাগে তিনটি ট্রেনের। করমন্ডলের পাশে ছিল মালগাড়ি। ওই ট্রেনটিকে ধাক্কা দেয় করমন্ডল এক্সপ্রেস। শালিমার-চেন্নাই করমন্ডল এক্সপ্রেসের মোট ১৫ টি কামরা লাইনচ্যুত হয়েছে। তার মধ্যে সাতটি কামরা উল্টে গিয়েছে। আরও চারটি কামরা ছিটকে গিয়েছে। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতই ছিল যে যাত্রীবাহী ট্রেনটির ইঞ্জিন উঠে যায় এক মালগাড়ির ওপর। ট্রেনের অধিকাংশ বগি ছিটকে পড়ে পাশের লাইনে। একই সঙ্গে পাশের লাইন থেকে আসা যশবন্তপুর- হাওড়া এক্সপ্রেস টিরও দুটি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে যায়।

আরও পড়ুন   ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা বালেশ্বরে,লাইনচ্যুত করমন্ডল এক্সপ্রেস, মৃত কমপক্ষে ৭০

রেল সূত্রে খবর, ভয়ঙ্কর ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ২৮০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। আহত ১০০০ এরও বেশি মানুষ। ট্রেনের কামরায় আটকে আছেন এখনও বহু মানুষ। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ। গ্যাস কাটার দিয়ে ট্রেনের কামরা থেকে কেটে বের করা হচ্ছে মৃতদেহ। এখনও কামরার ভিতর জীবিত যাত্রীদের আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে শনিবার সকালেই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। বালেশ্বর রেল দুর্ঘটনার কারণ জানতে ইতিমধ্যেই উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। শুক্রবার রাতেই বালেশ্বরে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। মৃতদের পরিবারের জন্য দশ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, গুরুতর আহতদের জন্য দুই লক্ষ টাকা ও অপেক্ষাকৃত কম আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে।

About Post Author